ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন
দুর্ঘটনায় ২ সেনাসদস্য নিহত আহত এক কর্মকর্তা
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ার রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় দুর্ঘটনায় নিহত সৈনিক তাসনিম রিফাতের (ইনসেটে) স্বজনদের আহাজারি। বুধবার রাজশাহীর পবা উপজেলার বিন্দারামপুর গ্রামে -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনকালে দুর্ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এ সময় গুরুতর আহত হয়েছেন এক কর্মকর্তা। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই সৈনিক নিহত এবং এক কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
চট্টগ্রামে সৈনিক রিফাতের মৃত্যুতে গ্রামজুড়ে শোক : রাজশাহী ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ার রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় দুর্ঘটনায় নিহত সৈনিক (গানার) তাসনিম রিফাতের (২৮) বাড়ি রাজশাহীর পবা উপজেলার বিন্দারামপুর গ্রামে। বুধবার দুপুরেই পরিবারের সদস্যরা একটি ফোনকলে তার মৃত্যুর খবর পেয়েছেন। এরপর শোক নেমে এসেছে গ্রামজুড়ে।
বুধবার দুপুরে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় দুর্ঘটনাবশত ট্যাংকের ভেতরে গোলা বিস্ফোরিত হলে গানার রিফাত নিহত হন। রিফাতের মৃত্যুর খবর দুপুরেই পৌঁছে যায় তার গ্রামের বাড়িতে। এরপর একে একে স্বজন ও প্রতিবেশীরা আসতে থাকেন বিন্দারামপুরের বাড়িতে।
বিকালে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের কেউ রিফাতের বাবা আসাদুল ইসলামকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, কেউ নিজেই কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। বাড়ির ভেতর থেকে ভেসে আসছে স্বজনদের আহাজারি। বাইরে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের মুখেও শোকের ছাপ।
রিফাতের বাবা আসাদুল ইসলাম অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। তিন বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান রিফাতের মা। মায়ের মৃত্যুর সেই শোক কাটিয়ে পরিবার যখন আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছিল, তখনই এলো আরেকটি নির্মম খবর।
স্ত্রী ও ছোট্ট কন্যাসন্তানকে নিয়ে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সরকারি বাসভবনে থাকতেন রিফাত। তার মৃত্যুর খবর শোনার পর ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। রিফাত কর্মস্থলে থাকার কারণে নিয়মিত বাড়িতে আসতে না পারলেও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তার এমন আকস্মিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা।
রিফাতের শোকে কাতর বাবা ঠিকমতো কথাও বলতে পারছেন না। শুধু জানালেন, রিফাতের প্রথম জানাজা বুধবার রাত ১০টায় চট্টগ্রাম সেনানিবাসের জসিম হলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজা শেষে হেলিকপ্টারে তার লাশ ঢাকায় নেওয়া হবে। পরে রাজশাহী সেনানিবাসে আনার পর আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।
