Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

যুক্তরাষ্ট্রের দুই জাহাজ ও আট ট্যাংকারে হামলা

অত্যাধুনিক মার্কিন সাবমেরিন আটক করল ইরান * যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের ৫ তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের দুই জাহাজ ও আট ট্যাংকারে হামলা

Advertisement

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের অন্যতম ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ওমান সাগর ও হরমুজ প্রণালি। সম্প্রতি দুদেশ একে অপরের জাহাজ ও ট্যাংকার লক্ষ্যবস্তু করছে। ইরান ওমান সাগরে থাকা মার্কিন রণতরি, যুদ্ধ জাহাজে ও জ্বালানির ট্যাংকারে হামলা চালাচ্ছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ট্যাংকারগুলো লক্ষ্যবস্তু করছে। এতে নতুন বাস্তবতায় পড়েছে যুদ্ধ। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে জুলাইয়ের পর প্রথম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। উত্তেজনা কমার কোনো সম্ভাবনা না থাকায় এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

ইরানের উদ্ধৃতি দিয়ে বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, মার্কিন বাহিনী ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার ডুবিয়ে দেওয়ার পর তারা হরমুজ প্রণালির কাছে ১০টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। ছয় মাস ধরে চলা এ সংঘাতের মধ্যে উভয়পক্ষের পালটাপালটি হামলার ঘটনায় এটিই ছিল জাহাজ লক্ষ্য করে চালানো সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা। এসব হামলায় একটি ট্যাংকারে অন্তত এক নাবিক নিহত এবং আরেকজন নিখোঁজ হয়েছেন।

ইরান জানিয়েছে, তারা জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত একটি ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। আগস্টের শেষভাগ থেকে উভয়পক্ষের পালটাপালটি হামলার ফলে দীর্ঘ এক মাসের আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতি বিঘ্নিত হয়। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের সামরিক, নৌপরিবহণ ও জ্বালানিসংক্রান্ত স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস ঘোষণা দিয়েছে, পরবর্তী যে কোনো হামলার জবাবে তারা কঠোর পদক্ষেপ নেবে। শত্রুপক্ষ ইরানের দুটি বা তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানলে ইরান তার জবাবে ২০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করবে। গার্ডস আরও জানিয়েছে, তারা শিগ্গিরই সমুদ্রে একটি নতুন ও অনেক বড় ‘নিষিদ্ধ এলাকা’র মানচিত্র প্রকাশ করবে, যা পাকিস্তানের নিকটবর্তী ইরানের উপকূলীয় অঞ্চল চাবাহার থেকে শুরু করে আরব উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

সম্প্রতি ইয়েমেনেও সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাতও তীব্র হয়েছে। এটি যুদ্ধের এমন একটি দ্বিতীয় রণাঙ্গন, যা মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের ওপর হুমকি সৃষ্টি করছে।

ওয়াশিংটন ঘোষণা করেছে, তাদের যুদ্ধ জাহাজের জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী হামলার জবাবে তারা এখন থেকে ইরানি ট্যাংকারগুলোতে পালটা হামলা চালাবে। ইরান জানিয়েছে, মার্কিন জাহাজে হামলার জন্য তারা নতুন ও অধিক শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। কলম্বিয়া সফরের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘ইরান ক্রমাগত মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলোতে আঘাত হানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর প্রতিবার তারা যখন এমনটা করবে বা করার চেষ্টা করবে, তখনই তাদের ট্যাংকারগুলো ধ্বংসের শিকার হবে।’

পালটা পদক্ষেপ হিসাবে ইরান দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি ট্যাংকারে আঘাত হানার ঘোষণা দেওয়ার পর বিভিন্ন প্রতিবেশী দেশের নিকটবর্তী জলসীমায় বেশ কয়েকটি জাহাজে আঘাতের খবর পাওয়া গেছে। জাহাজের ভাড়াটে প্রতিষ্ঠান পেনিনসুলা জানিয়েছে, দুবাইয়ের অদূরে নোঙর করে থাকা ‘হারকিউলিস স্টার’ নামক তেলবাহী ট্যাংকারে এক নাবিক নিহত এবং আরেকজন ক্রু সদস্য নিখোঁজ হয়েছেন। সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক সূত্রগুলোর মতে, জাহাজটিতে সম্ভবত কোনো ড্রোন দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।

ইরাকের বন্দরসংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরাকি জলসীমায় ড্রোন হামলায় ‘নিউ অ্যান্ড্রস’ নামের একটি ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। জাহাজটি ২০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল বহন করছিল। তবে জাহাজটির ২২ জন ক্রু’র মধ্যে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ইউকেএমটিও জানিয়েছে, তারা উত্তর উপসাগরীয় অঞ্চল এবং ওমান উপসাগরে-অর্থাৎ হরমুজ প্রণালির উভয় পাশে বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার খবর পেয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এক বিবৃতিতে কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা তেল ট্যাংকারগুলোর ওপরও হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক একটি সূত্র জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের খোর ফাক্কান বন্দরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার আইআরজিসি আরও জানায়, তারা পূর্ব জর্ডানের আল-আজরাক এলাকার কাছে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। জর্ডান জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইরানের ছোড়া ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টিকেই প্রতিহত করেছে; বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

অত্যাধুনিক সাবমেরিন আটক

হরমুজ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক সাবমেরিন আটক করেছে ইরান। রুশ গণমাধ্যম আরটির প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার আইআরজিসি এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশ করে। এতে এটাকে ‘নামহীন স্মার্ট সাবমেরিন’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। এ সাবমেরিন ড্রোনটি পর্যবেক্ষণসহ নানাবিধ কাজ করতে পারে। তবে পেন্টাগন বলছে, এটা বেশ পুরোনো একটি ড্রোন। এতে পর্যন্ত সরঞ্জাম ছিল না।

ইরানে বিমান চলাচল খাতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত সপ্তম মাসে গড়িয়েছে। রয়টার্স জানায়, এ পরিস্থিতিতে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর ব্যাপক প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ইরান-সংশ্লিষ্ট ৩৬টি নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এ নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে দেশটির বিমান চলাচল খাত এবং অন্য কোম্পানিকে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো ইরানের ‘মাহান এয়ার’-এর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা। এ সংস্থাটি আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে বিভিন্ন গোপন ‘ফ্রন্ট কোম্পানি’ (আসল মালিকানা আড়ালকারী প্রতিষ্ঠান), কার্গো হ্যান্ডলার, বিদেশি মধ্যস্থতাকারী এবং পণ্য স্থানান্তরের প্রতারণামূলক রুট বা পথগুলো।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম