চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের ৬৩ সদস্য আটক
তাদের মধ্যে লাওসের ৩৫, পাকিস্তানের ২১, চীনের পাঁচজন * অনলাইন প্রতারণা, এটিএম জালিয়াতি, মানব পাচারে জড়িত
Advertisement
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রাম মহানগরীতে অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের ৬৩ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর অভিজাত খুলশি এলাকার একটি ভবনে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। প্রতারক চক্রের সদস্যরা ডিজিটাল প্রতারণা, এটিএম জালিয়াতি, অনলাইন ক্যাসিনো, মাদক ও স্বর্ণ চোরাচালান এবং মানব পাচারের মতো অপরাধ করে আসছিল। শুক্রবার নগরীর দামপাড়া পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম ও অপারেশন্স) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত খুলশির জালালাবাদের কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি ভবনের আটতলায় অভিযান চালিয়ে ৬৩ জনকে আটক করা হয়। তবে চক্রটির মূলহোতাকে গ্রেফতার করা যায়নি। আটকদের মধ্যে লাওসের ৩৫, পাকিস্তানের ২১, চীনের ৫, নেপাল ও ভিয়েতনামের একজন করে নাগরিক রয়েছে। তাদের কাছ থেকে ১৭০টি ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। এরমধ্যে ১৩৪টি মোবাইল ফোন সেট, ৫৭টি ল্যাপটপ, একটি অ্যাপল ট্যাব ও প্রিন্টার উদ্ধার করা হয়। এছাড়া পাঁচটি পেনড্রাইভ, চারটি সিমকার্ড, তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একটি কম্বোডিয়ান এমপ্লয়মেন্ট কার্ড উদ্ধার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে খুলশি থানায় মামলা হয়েছে। জব্দ ডিভাইস পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, প্রায় দেড় মাস আগে কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর রোডের দুবাই প্রবাসীর ১ নম্বর বাড়ি ভাড়া নিয়ে চক্রটি প্রতারণামূলক কার্যক্রম করে আসছিল। অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহার করে চক্রটি প্রতারণা ও অনলাইন অপরাধমূলক কার্যক্রম করে আসছিল। এছাড়া চক্রটি স্ক্যামিংয়ে জড়িত। ভুয়া পরিচয় ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতারকরা মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে। কখনো লোভনীয় অফার, চাকরির প্রস্তাব, বিনিয়োগে অতিরিক্ত লাভের প্রলোভন দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। প্রতারণার অন্যতম মাধ্যম হিসাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল, মোবাইল ফোন, ভুয়া ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়। খুলশি এলাকার বাসিন্দা আবুল কাশেম জানান, এক মাস ধরে আটতলা ভবনে বিদেশি নাগরিকদের আনাগোনা ছিল। তারা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দিতেন।
এদিকে, সিএমপির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, বৈধভাবে দেশে প্রবেশ করে অনেক বিদেশি নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। কয়েকজন বিদেশি নাগরিক মূল পরিকল্পনাকারী হলেও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনে সহায়তা করছে স্থানীয় কতিপয় সহযোগী। হেরোইন, কোকেনসহ বিভিন্ন অপ্রচলিত মাদকের কারবার, জাল ডলার ব্যবসা, ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, অনলাইন ক্যাসিনো এবং মানব পাচারের মতো অপরাধের সঙ্গে চক্রের সদস্যরা জড়িত। গ্রেফতার করা হলেও কেউ কেউ জামিনে মুক্ত হয়ে আবার একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে প্রবেশের পর কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের পাসপোর্ট নষ্ট করে ফেলে।
