পাওনা টাকা চাওয়ায় বন্ধুর হাতে খুন
মাটি খুঁড়ে মিলল ব্যবসায়ীর লাশ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন ও হাজারীবাগ (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নিখোঁজের তিন দিন পর মাটি খুঁড়ে ব্যবসায়ী শেখ ওয়াসিম ওরফে রনির (৪৭) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভোরে রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগের বিসি দাস স্ট্রিটের একটি ভবনের পাশে মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রনির বন্ধু মোহাম্মদ মাসুম চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, পাওনা তিন লাখ টাকা চাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে বন্ধু রনিকে হত্যার কথা মাসুম স্বীকার করেছেন। বন্ধুকে খুন করে লাশ তিনি নিজের বাসার নিচে পুঁতে রাখেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে লালবাগের ৯ নম্বর বিসি দাস স্ট্রিটের ভবনে অভিযান চালায় পুলিশ। দীর্ঘ সময় তল্লাশির পর শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মাসুমের ভবনের নিচে কারখানার পাশের মাটি খুঁড়ে রনির লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় রনির হাত-পা প্লাস্টিকের রশি দিয়ে বাঁধা এবং মুখে পলিথিন প্যাঁচানো ছিল। লাশ অর্ধগলিত অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নিহত রনির শ্যালক মুরাদ হোসেন জানান, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন-ওই দিন মাসুমের তিন লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে একটি চেক দেওয়ার কথা ছিল। তবে ওই দিন দুপুরের পর থেকে রনির মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি জানার পর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় তাকে খুঁজতে শুরু করেন। একই সঙ্গে রনির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গে তারা যোগাযোগের চেষ্টা করেন। ?একপর্যায়ে মাসুমের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে তারা কথা বলেন। রনির বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান মাসুমের স্ত্রী। তিনি শুধু বলেন, রনি বাসায় এসেছিলেন, পরে চলে গেছেন। মাসুমের বড় বোনের স্বামীর সঙ্গে রনির ভালো সম্পর্ক ছিল এবং তাদের লেনদেনের বিষয়টি তিনি জানতেন। মুরাদ জানান, রনির কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নেওয়ার পর প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা সুদ দেওয়ার কথা থাকলেও মাসুম তা পরিশোধ করেননি। পাওনা টাকা চাওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়ায় স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে রনি বসবাস করতেন।
মুরাদ আরও জানান, রনির কোনো সন্ধান না পেয়ে একপর্যায়ে তারা ডিএমপির লালবাগ থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে-রনিকে হত্যা করে একটি ভবনের নিচতলার পাশে লাশ মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে রনির লাশ উদ্ধার করে। আট বস্তা মাটি ও বালু দিয়ে লাশ চাপা দেওয়া হয়েছিল। যে ভবনের পাশ থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, সেই ভবনের নিচতলায় মাসুমের ইমিটেশন জুয়েলারির পাইকারি কারখানা ছিল।
এদিকে, অভিযুক্ত মাসুমের বোন জামাইয়ের দাবি-প্রায় আট মাস আগে রনির কাছ থেকে মাসুম তিন লাখ টাকা ধার নেন। ওই টাকার বিপরীতে প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা করে সুদ দেওয়ার কথা ছিল। পরে টাকা নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। পাওনা টাকা চাইতে রনি মাসুমের ব্যবসায়িক কক্ষে যান। সেখানে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি শুরু হলে রনির মাথায় মাসুম ঘুসি মারেন। একপর্যায়ে রনি অচেতন হয়ে পড়েন। তাকে ভবনের নিচে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়।
ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) তালেবুর রহমান যুগান্তরকে জানান, রনির পরিবারের সদস্যরা লালবাগ থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পুলিশ মাসুমকে সন্দেহ করে। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে মাসুমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নিচতলার পাশের মাটির নিচ থেকে রনির লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় মাসুমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কিনা, হত্যার প্রকৃত কারণ ও বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন।
