দৌলতপুরে পানি বেড়ে নতুন এলাকা প্লাবিত
রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে পরিস্থিতি স্থিতিশীল
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ফারাক্কার সব জলকপাট খুলে দেওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত। শনিবার শিবগঞ্জের পাকা ইউনিয়নের বগলাউরি এলাকায় -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। তবে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে পানি না বাড়ায় এ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। দৌলতপুরে ২৪ ঘণ্টায় ৭ সেন্টিমিটার পানি বেড়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে সীমান্তবর্তী চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের প্রায় ৪০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। কয়েকদিনের এ বন্যায় এসব জেলার মানুষ বিশুদ্ধ পানি ও খাবার নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে ওই তিন জেলার দুর্গত এলাকায় খাবার ও ওষুধসামগ্রী বিতরণ করেছে প্রশাসন। তবে স্থানীদের অভিযোগ, বন্যাকবলিত এলাকায় দুর্ভোগ বাড়লেও এখন পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছায়নি।
স্থানীয়রা জানান, ভারত ফারাক্কা বাঁধের সব গেট খুলে দেওয়ায় উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং অতিবৃষ্টির কারণে এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, উজানের ঢল ও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পদ্মায় পানি বেড়েছে। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ-
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) : এই উপজেলায় পদ্মার পানি বাড়লেও শনিবার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে তা বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে নানা ধরনের দুর্ভোগ। এর মধ্যে সাপের উপদ্রব বেড়েছে। কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
পাউবোসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পদ্মার পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েকদিনে দৌলতপুরের পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে। জনজীবনে দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহানা পারভীন বলেন, শুক্রবারের তুলনায় শনিবার পদ্মার পানি বাড়ায় বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির পরিমাণও বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় ৪৭০ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।
দৌলতপুরের ইউএনও অনিন্দ্য গুহ বলেন, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের একটি অংশ ও চিলমারী ইউনিয়নের পুরো এলাকাই নিম্নাঞ্চল হওয়ায় প্রতিবছর বন্যার পানি প্রবেশ করে। এবারের বন্যায় দুই ইউনিয়নের ৪০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, দুর্গত এলাকায় প্রায় ৩৫০ পরিবারের মধ্যে শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে ত্রাণের বরাদ্দও পাওয়া গেছে। শিগ্গিরই সেগুলো বিতরণ করা হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি বৃদ্ধির পর পর্যাপ্ত ত্রাণ এখনো পৌঁছায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা ছাড় না হওয়ায় এখনো বিতরণ করা হয়নি।
রাজশাহী (বাঘা) : পদ্মার পানি রাজশাহী অংশে ২৪ ঘণ্টায় বাড়েনি। এতে এ জেলার বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। এর আগে পানি বাড়ায় গোদাগাড়ী, পবা ও বাঘা উপজেলার তিন হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের ১৫টি চরের মানুষ। ভাঙনে শতাধিক পরিবার গৃহহারা হয়েছে। তাদের প্রধান আয়ের উৎস কৃষি। এখন পানিতে সব প্লাবিত হওয়ায় তারা গবাদি পশু নিয়েও বিপাকে রয়েছেন।
চকরাজাপুরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আজিযুল আযম বলেন, পদ্মার চরে ৩ হাজার ৬০০ পরিবার রয়েছে। তারা এখন পানিবন্দি। তাদের ৮০ ভাগ জমির ফসল পানির নিচে। বাঘার ইউএনও তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, নদীভাঙন ও বন্যার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পানিবন্দিদের সহযোগিতার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ : এ জেলায়ও পদ্মার পানি না বাড়ায় বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় এখানে বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর আগে সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও বসতবাড়িতে পানি ঢুকেছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় সাড়ে ৩০০ হেক্টর আমন ধানসহ সবজি খেত। দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবার নিয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।
শিবগঞ্জের ইউএনও মাজহারুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে এই সহায়তা দেওয়া হবে। গত দুদিনে পাঁকা ও দুর্লভপুর ইউনিয়নে ১১ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। রোববার থেকে খাবার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হবে।
সদরের ইউএনও মারুফ আফজাল রাজন জানান, পানিবন্দি মানুষের সহায়তায় কাজ করছে প্রশাসন। আলাতুলি ও নারায়ণপুর ইউনিয়নের পানিবন্দি ১৮০০ পরিবারকে ১০ কেজি করে ১৮ টন চাল দেওয়া হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আহসান হাবীব বলেন, ভারতের উজানের ঢলে পদ্মা নদীর পানি বেড়েছে। শনি ও রোববার পানির প্রবাহ স্থিতিশীল থাকবে। সোমবার থেকে পানি দ্রুত কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
