ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত ১ আটক ২
Advertisement
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আসাদুল হক (৩৫) নামের এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মুস্তাকিম ও উদয় চন্দ্র নামের আরও দুই যুবক আহত অবস্থায় বিএসএফের হাতে আটক হয়েছেন। রোববার আটক দুজনকে ভারতের স্থানীয় আদালতে হাজির করার পর বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রোববার ভোর ৪টার দিকে উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের চান্দেরহাট সীমান্তে ওই গুলির ঘটনা ঘটে।
আসাদুল হক পীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে। আটক মোস্তাকিম একই উপজেলার উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর এবং উদয় চন্দ্র ওই গ্রামের মনশা চন্দ্র রায়ের ছেলে।
স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ওই সীমান্তের ৪২ বিজিবির চান্দেরহাট বিওপির বিপরীতে বিএসএফের বসুদেবপুর ক্যাম্প এলাকা (ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ) দিয়ে একদল বাংলাদেশি ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় বিএসএফের ৬৩ ও ১২১ ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালান। ?এতে ওই তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে বিএসএফ সদস্যরা ভারতের উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে তাদের ভর্তি করেন। সেখানে সকালে আসাদুলের মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার লাশ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
দিনাজপুর ৪২ বিজিবির দাবি, আসাদুল চিহ্নিত চোরাকারবারি ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। ?ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন সীমান্তে বিএসএফের গুলি ও হতাহতের ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, আসাদুলের লাশ দ্রুত দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাতে বিএসএফের সঙ্গে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিন্দা ও প্রতিবাদ জামায়াতের : পীরগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের হত্যাকাণ্ডের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, সীমান্ত থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে গুলি করে বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে বিএসএফ। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, সীমান্তে অন্য দেশের নাগরিককে গুলি করে হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের নাগরিককে গুলি করে হত্যা করা মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক রীতিনীতির পরিপন্থি। এ ধরনের প্রাণহানি রোধে সরকারকে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
