ভারতে আসছে নতুন পোশাক আইন
উদ্বেগে মুসলিমরা
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই বিজেপি ও এনডিএ-শাসিত ২১ রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) কার্যকরের লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার মুম্বাইয়ে সংবাদ সম্মেলনে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, কয়েকটি রাজ্যে ইতোমধ্যে ইউসিসি চালু হয়েছে; বাকি বিজেপি-এনডিএ শাসিত রাজ্যগুলোয়ও তা কার্যকর করা হবে।
অমিত শাহের এ ঘোষণার পর মুসলিম ব্যক্তিগত আইন ও ধর্মীয় রীতিনীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভারতে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তকসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত বিষয়ে ধর্মভেদে আলাদা রীতি ও আইনি কাঠামো রয়েছে। ইউসিসি চালু হলে সেই ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি অভিন্ন নাগরিক আইন কার্যকর হবে। বিজেপির দাবি, এর ফলে নারী-পুরুষের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ধর্মের ভিত্তিতে আইনের ভিন্নতা দূর হবে।
মুসলিম সমাজের আশঙ্কা, অভিন্ন আইনের ফলে দীর্ঘদিন চলে আসা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক রীতিনীতির ওপর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে মুসলিম নারীদের বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং পারিবারিক অধিকারের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিজেপির যুক্তি, এ পরিবর্তনের মাধ্যমে মুসলিম নারীরাও অন্য সম্প্রদায়ের নারীদের মতো সমান আইনি অধিকার পাবেন।
পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়েও মুসলিম সমাজের একাংশের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হিজাব, বোরকা বা ধর্মীয় পোশাক ভবিষ্যতে আইনের আওতায় আসবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে বর্তমানে কার্যকর উত্তরাখণ্ডের ইউসিসিতে পোশাক নিয়ন্ত্রণের কোনো বিধান নেই। উত্তরাখণ্ডের সরকারি নথি অনুযায়ী, ইউসিসির মূল বিষয় বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক, লিভ-ইন সম্পর্কসহ নাগরিক ও পারিবারিক আইন।
পশ্চিমবঙ্গেও উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে ইউসিসি নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ফলে অমিত শাহের নতুন ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গেও এ বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অমিত শাহের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই এনডিএ-শাসিত ২১ রাজ্যে ইউসিসি চালু করা হবে।
