Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

বীরগঞ্জের পালটাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান

Advertisement

Icon

দিনাজপুর ও বীরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে অবস্থিত দক্ষিণ পালটাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষে ঝুঁকি নিয়েই চলছে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান -যুগান্তর

Advertisement

যখন-তখন খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা, বাঁশের খুঁটি দিয়ে কোনোমতে আটকে রাখা হয়েছে ফাটলধরা একাধিক পিলার, বৃষ্টি হলে পানি চুইয়ে পড়ছে। এমনি দুরবস্থার মধ্যে জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে কোমলমতি ১২৬ খুদে শিক্ষার্থীর পাঠদান। এই অবস্থা দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ পালটাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

বীরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত দক্ষিণ পালটাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয় ১৯৭২ সালে। বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটি নির্মিত হয় ১৯৯৩-৯৪ সালে। সম্প্রতি সরেজমিন বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ওই ভবনে শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণিকক্ষ আছে ৩টি এবং শিক্ষকদের জন্য ছোট একটি অফিস কক্ষ। শিক্ষকদের অফিস কক্ষটি ব্যবহার অনুপযোগী। ৩টি শ্রেণিকক্ষের অবস্থাই জরাজীর্ণ। প্রতিটি কক্ষের ছাদ থেকে যখন-তখন খসে পড়ছে পলেস্তারা। এর মধ্যে দুটি কক্ষের ছাদের বড় বড় ফাটল ধরা পিলার বা বিমগুলো ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় বাঁশের ২০টি খুঁটি দিয়ে ‘ঠিকা’ দিয়ে রাখা হয়েছে। এই পরিবেশেই পাঠদান কার্যক্রম চলছে। কক্ষগুলোর করুণ অবস্থা দেখে মনে হয়, এ যেন মরণফাঁদ। শিশু থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২৫। কর্মরত আছেন প্রধান শিক্ষকসহ ৫ শিক্ষক ও এক অফিস সহায়ক।

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী আনিসা খাতুন জানায়, যখন-তখন ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। আমরা বেশ আতঙ্কে থাকি। আর বৃষ্টি হলে পানি চুইয়ে পড়ে। এতে স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায় শ্রেণিকক্ষ। কখনো কখনো বই-খাতা ভিজে যায়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও পাঠ গ্রহণে মনোনিবেশ করতে পারছে না শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অভিভাবকরাও সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগতে থাকেন।

স্থানীয় অভিভাবক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার দুই সন্তান পড়ে এই স্কুলে। কিন্তু স্কুলে পাঠিয়ে সব সময় আতঙ্কের মধ্যেই থাকি, না জানি কখন দুর্ঘটনা ঘটে।

জান্নাতুন ফেরদৌসী নামে আরেক অভিভাবক বলেন, আমার ছেলে এই স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। আশপাশে স্কুল না থাকায় বাধ্য হয়েই এই স্কুলে পাঠাই। বাড়িতে শান্তিতে থাকতে পারি না, আল্লাহকে ডাকতে থাকি যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আসলাম আলী ও সহকারী শিক্ষিকা মোছা. দুলালি জানান, ভবনের বর্তমান অবস্থা নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সব সময় আতঙ্ক বিরাজ করে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আহসান হাবিব বলেন, এক সময় এই বিদ্যালয়ে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ছিল। কিন্তু বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে অভিভাবকরা শিশুদের এখানে পাঠাতে চাচ্ছেন না, তাদের সন্তানদের অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। এ কারণে এখন দুই শিফটে শিক্ষার্থী কমে দাঁড়িয়েছে ১২৬ জনে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ-এলজিইডি ঝুঁকিপূর্ণ এই স্কুল ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকির মধ্যেই পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। বিদ্যালয় ভবনের বেহাল দশার কথা স্বীকার করে দিনাজপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুজ জামান বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে জানানো হয়েছে এবং আগামীতে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন ভবনের জন্য বরাদ্দ আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম