Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

এয়ারলাইন্সের বিল ডলারে নেওয়ার সিদ্ধান্ত

প্রথমবার নিজের ডলারে এলসি করল বিপিসি

ব্যাংক হিসাবে এখনো জমা ১০ কোটি ডলার * তিন মাসেই সাশ্রয় ৫ কোটি টাকা

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

প্রথমবার নিজের ডলারে এলসি করল বিপিসি

ফাইল ছবি

Advertisement

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এক সিদ্ধান্তে তিন মাসেই প্রতিষ্ঠানটির সাশ্রয় হয়েছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। বিদেশি এয়ারলাইন্সের জ্বালানি বিল সরাসরি ডলারে নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর এই সাশ্রয় হয়েছে। এত দিন বিদেশি এয়ারলাইন্সের তেল বিক্রির বিল ডলারে পদ্মা অয়েলের অ্যাকাউন্টে জমা হতো। পরে সেই ডলার টাকার ভাঙিয়ে তা বিপিসির অ্যাকাউন্টে পাঠানো হতো। বিপিসি আবার সেই টাকা দিয়ে ডলার কিনে জেট ফুয়েল আমদানি করত। আর এতেই বছরে সরকারের প্রায় শত কোটি টাকা লোকসান হতো। এ নিয়ে যুগান্তরে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সিদ্ধান্ত পালটায় বিপিসি। গত তিন মাস বিদেশি এয়ারলাইন্সের জ্বালানি বিল সরাসরি ডলারে বিপিসির হিসাবে জমা হচ্ছে। সেই ডলার দিয়ে বিপিসি প্রথমবারের মতো তেল আমদানিতে এলসি করেছে। ওই এক সিদ্ধান্তের কারণে বিপিসি এবং পদ্মার অ্যাকাউন্টে এখন ১০ কোটি ডলারের বেশি জমা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে নিজের ডলার দিয়ে বিপিসি আরও একটি এলসি করতে যাচ্ছে। এতে করে বিপিসিকে সব এলসির বিল পরিশোধে ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ট্রেড ফিন্যান্স করপোরেশন-আইটিএফসি থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে না। এর ফলে বছরে সাশ্রয় হবে কোটি কোটি টাকা।

বিপিসি গত ২ জুন নতুন সিদ্ধান্ত নেয়। এতে বলা হয়-বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোতে জেট ফুয়েল বিক্রির অর্থ মার্কিন ডলারে স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক-এসসিবির ফরেন কারেন্সি অ্যাকাউন্টে জমা হবে। সেই ডলার আর ভাঙানো যাবে না। একমাত্র পদ্মা অয়েল দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোতে জেট ফুয়েল সরবরাহ করে। যোগাযোগ করা হলে বিপিসির পরিচালক (অর্থ) নাজনীন পারভীন যুগান্তরকে মঙ্গলবার বলেছেন, এতদিন বিদেশি এয়ারলাইন্সের তেল বিক্রির ডলার পদ্মা অয়েল নিজের অ্যাকাউন্টে নিয়ে টাকায় ভাঙিয়ে ফেলত। সেই টাকা পরে বিপিসির অ্যাকাউন্টে পাঠানো হতো। বিপিসি আবার সেই টাকায় ডলার কিনে বিদেশ থেকে জেট ফুয়েল আমদানি করত। এতে করে বছরে সরকারের প্রায় শত কোটি টাকা লোকসান হতো। তিনি বলেন, সম্প্রতি বিষয়টি জ্বালানি বিভাগের নজরে এনে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে ফরেন কারেন্সি অ্যাকাউন্ট খুলে সেই তেল বিক্রির ডলার সরাসরি পদ্মা এবং বিপিসির অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে।

বিপিসির অর্থ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ যুগান্তরকে বলেছেন, বিদেশি এয়ারলাইন্সে তেল বিক্রির ডলার টাকায় গ্রহণ এবং আবার তেল আমদানির জন্য নতুন করে ডলার কিনে এলসি করার কারণে সরকারের প্রতি ডলারে দুই টাকা পর্যন্ত লোকসান হতো। এখন বিপিসির কোনো লোকসান হচ্ছে না। বিপিসি প্রথমবারের মতো নিজের ডলারে নিজেই এলসি করতে পারছে। জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত বিপিসি এবং পদ্মা অয়েলের দুটি অ্যাকাউন্টে গত ৩০ আগস্ট ১১ কোটি ১১ লাখ ডলার, ৩১ আগস্ট সাত কোটি ৬১ লাখ ডলার এবং ২ সেপ্টেম্বর আট কোটি ২৪ লাখ ডলার জমা হয়েছে। এর মধ্যে গত ৩১ আগস্ট প্রথমবারের মতো ওই ডলার অ্যাকাউন্ট থেকে তিন কোটি ৭৬ লাখ ৯৭ হাজার ৬৪২ ডলার ৫০ সেন্ট আমদানি বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

এর আগে পদ্মা অয়েল কোম্পানি ও বিদেশি ব্যাংকের যোগসাজশে বিদেশি এয়ারলাইন্সের কাছে জেট ফুয়েল বিক্রিতে কারসাজি করা হতো। নিয়ম অনুযায়ী জেট ফুয়েল বিক্রির অর্থ দেওয়া হয় ডলারে। কিন্তু পদ্মা অয়েল সেই ডলার বিক্রি করে টাকায় বিল দেয় বিপিসিকে। বিপিসি আবার সেই টাকায় ডলার কিনে তেল আমদানি করে। এভাবে ডলার বিক্রি ও কেনার কারণে প্রতি ডলারে ক্ষতি হচ্ছিল দুই টাকা হারে। দৈনিক গড়ে এক হাজার ৬০০ টন জেট ফুয়েল বিক্রি হয় দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সে। এ হিসাবে গত এক বছরে তিন লাখ ৭৭ হাজার টন জেট ফুয়েলের বিপরীতে রাষ্ট্রের ক্ষতিসাধন হচ্ছিল কোটি কোটি টাকা।

প্রসঙ্গত, গত ১২ এপ্রিল দৈনিক যুগান্তরে বিদেশি এয়ারলাইন্সে তেল বিক্রিতে কারসাজি, বছরে রাষ্ট্রের ক্ষতি শত কোটি টাকা শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর জ্বালানি বিভাগের এক যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি করা হয়। সেই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বিদেশি এয়ারলাইন্স থেকে প্রাপ্ত ডলার না নিয়ে টাকায় নেয়ার ঘটনাকে অপরাধ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর সঙ্গে পদ্মা অয়েলের অর্থ বিভাগের এক মহাব্যবস্থাপক জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, বিদেশি এয়ারলাইন্সে ডলারে জেট ফুয়েল বিক্রি করেও সেই মূল্যবান ডলার নেয় না পদ্মা অয়েল কোম্পানি। ডলারের পরিবর্তে ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে সেই টাকায় পদ্মা অয়েল দেনা শোধ করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি)। সরকারি প্রতিষ্ঠান বিপিসি আবার সেই টাকা দিয়ে ডলার কিনে বিদেশ থেকে তেল আমদানি করে। এভাবে ডলারকে টাকা এবং টাকাকে ডলারে পরিণত করে পদ্মা অয়েল এবং বিদেশি কয়েকটি ব্যাংকের কর্মকর্তার একটি চক্র কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তবে জ্বালানি বিভাগের রিপোর্ট অনুযায়ী এখনো কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি রহস্যজনক কারণে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম