কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড
আত্মসমর্পণ ছাড়া নেই আপিলের সুযোগ
Advertisement
আলমগীর মিয়া
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই রায় কার্যকরের প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন জানিয়েছে, দণ্ডিত সব আসামি পলাতক থাকায় ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ ছাড়া তাদের আপিল করার কোনো আইনি সুযোগ নেই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে সরকার রায় বাস্তবায়নের পরবর্তী পদক্ষেপে যাবে।
এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং কিছু কিছু অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পাঁচ আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের ৫০ শতাংশ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব সম্পদ জুলাই ফাউন্ডেশন বা সংবিধিবদ্ধ অন্য যে কোনো সংস্থার মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের মধ্যে বণ্টনের কথা রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, রায় প্রকাশিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এর মধ্যে আসামিরা আত্মসমর্পণ করে আপিল না করলে সরকারের এ রায় বাস্তবায়ন করতে আইনগত কোনো বাধা থাকবে না।
সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামও একই রকম তথ্য দিয়ে যুগান্তরকে বলেন, সাজার বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে দণ্ডিতকে রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করতে হবে। আত্মসমর্পণ ছাড়া আপিল করার কোনো সুযোগ নেই। ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিতরা সুপ্রিমকোর্টে আপিলের পর দুই মাসের মধ্যে সেটি শুনানি করতে হবে।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে দণ্ড বহাল থাকলে দণ্ডিত ব্যক্তি রায় রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদনের সুযোগ পাবেন। তবে রিভিউ খারিজ হলে আইনি সব বিষয়ের নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। আসামির সামনে তখন কেবল রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সুযোগই বাকি থাকবে। রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন না করলে বা রাষ্ট্রপতির অনুকম্পা না পেলে কারাবিধি অনুযায়ী দণ্ড কার্যকর করবে কারা কর্তৃপক্ষ।
তবে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্নার মতে, পলাতকদের আপিল করার সুযোগ রয়েছে। সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদের আপিলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এক দেশে একই বিষয়ে দুই আইন চলতে পারে না। আপিল গ্রহণের বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়। পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে গত বছরের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ের এক মাসের মধ্যে তারা আত্মসমর্পণ করে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেননি। ওই রায়ের প্রায় ১০ মাস পর দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে মামলার রায় হয়েছে। এ পর্যন্ত দুটি ট্রাইব্যুনাল থেকে দেওয়া সাতটি রায়ে ৬৮ আসামির সাজা হয়েছে। এর মধ্যে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এই ২২ আসামির মধ্যে ১৮ জনই পলাতক। কারাগারে আছেন চার আসামি।
