বিপিএলে দুর্নীতি
সাময়িক নিষিদ্ধ আরও দুজন
Advertisement
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নাম। সর্বশেষ আসরে দুর্নীতিবিরোধী আইন ভাঙার অভিযোগে এবার সাময়িক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন একটি দলের মালিক ও আরেক দলের ম্যানেজার। চট্টগ্রাম রয়্যালসের সাবেক মালিক আব্দুল কাইয়ুম রাশেদ ও দুর্বার রাজশাহীর সাবেক ম্যানেজার আমিন খানকে সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছে, দুজনের বিরুদ্ধেই আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী আইনের একাধিক ধারাভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ম্যাচের ফল বা ম্যাচের কোনো অংশ বেআইনিভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা, ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকা এবং দুর্নীতির তদন্তে অসহযোগিতা। তবে আমিন খান পুরো বিষয়টিকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। দীর্ঘদিনের এই সংগঠক যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি তো রাজশাহীর ম্যানেজারই ছিলাম না! এমনকি টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই সরে গেছি। তাহলে কীভাবে আমাকে নিয়ে এই মিথ্যাচার হলো? মনে হলো কারও নাম বলে দিয়ে নিষিদ্ধ করলাম, এমনটা তো হতে পারে না।’ তিনি বলেন, ‘অ্যালেক্স মার্শাল আমার কাছে যা জানতে চেয়েছেন, যেটুকু জানি সব বলেছি। ফোন চেয়েছিলেন, সেটাও দিয়ে দিয়েছি। আমাকে দুদিন আগে বিসিবি চিঠি দিয়েছে। ধন্যবাদ জানিয়ে উত্তর দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। অথচ উত্তর দেওয়ার আগেই মিডিয়ায় প্রকাশ করে মানসম্মান নষ্ট করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতই। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, অ্যালেক্সের চিঠিতে আমার এক পদবি, বিসিবির চিঠিতে আরেক পদবি। হাস্যকর। আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোব।’
বিপিএলের ১২তম আসরে চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিকানা ছিল ট্রায়াঙ্গল সার্ভিসেসের। টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক দিতে না পারায় মালিকানা ছেড়ে সরে জান আব্দুল কাইয়ুম। পরে বিসিবি নিজেই দলটির কার্যক্রম পরিচালনা করে। কাইয়ুমের বিরুদ্ধে আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী আইনের চারটি ধারাভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ম্যাচের ফল, অগ্রগতি বা অন্য কোনো দিক বেআইনিভাবে প্রভাবিত করা কিংবা ফিক্সিংয়ের কোনো পরিকল্পনা বা চুক্তির সঙ্গে যুক্ত থাকা। এছাড়া দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কোনো প্রস্তাব বা আমন্ত্রণ পাওয়ার পর তা নির্ধারিত দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তাকে জানাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগও আছে কাইয়ুমের বিরুদ্ধে।
এদিকে দীর্ঘদিনের ক্রীড়া সংগঠক আমিনের বিরুদ্ধেও চারটি ধারাভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। বিপিএলের ১১তম আসরে দুর্বার রাজশাহী এবং ১২তম আসরে চট্টগ্রাম রয়্যালসের টিম কর্মকর্তা ও ম্যানেজার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে বিসিবি জানিয়েছে। বিসিবির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অভিযোগের নোটিশ পাওয়ার পর ১৪ দিনের মধ্যে তাদের এসব অভিযোগের জবাব দিতে হবে। এরপরই চলবে পরবর্তী শৃঙ্খলাপ্রক্রিয়া। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে বিপিএলের দুর্নীতির অভিযোগে বিসিবির সাবেক পরিচালক মোখলেছুর রহমান, সাবেক লিয়াজোঁ কর্মকর্তা জাকির হাসান ও অডিট কমিটির সাবেক সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলাম সানিকেও সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
