ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন
মির্জা পরিবারের ফয়সালকেই প্রার্থী করছে বিএনপি
Advertisement
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
মির্জা ফয়সাল আমিন। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আসন্ন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভাই মির্জা ফয়সাল আমিনকেই বেছে নেওয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এ নিয়ে আজ দলটির মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক রয়েছে। এ বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। অন্যদিকে রাজনীতিতে আসার জোরালো আলোচনা থাকলেও রাষ্ট্রপতির জ্যেষ্ঠ কন্যা ড. শামারুহ মির্জা ‘নির্বাচন করবেন না’ এমন গুঞ্জন উঠেছে। জেলা নেতাদের কাছ থেকে জানা যায়, তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ওই আসনে মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিতে তীব্র কৌতূহল ও জল্পনা চলছিল। বিশেষ করে ড. শামারুহ মির্জা বিগত নির্বাচনে বাবার পক্ষে প্রচারে সরব থাকায় তাকে ঘিরেই আশার আলো দেখছিলেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তবে রাজনীতিতে আসা কিংবা পরিবারের উত্তরসূরি হিসেবে প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে ড. শামারুহ মির্জার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিলেন তিন নেতা : উপনির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেতে ফরম জমা দিয়েছেন জেলা বিএনপির তিন হেভিওয়েট নেতা। বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়া হয়। তিন নেতা হলেন-ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী ও ওবায়দুল্লাহ মাসুদ।
মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে ফয়সাল আমিন দাবি করেন, অনানুষ্ঠানিকভাবে তিনিই বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী। অন্যদিকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মামুন উর রশিদ জানিয়েছেন, আসন্ন উপনির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে ড. শামারুহ আগ্রহ প্রকাশ করেননি। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী যুগান্তরকে বলেন, ‘আজ বিএনপির মনোনয়ন বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। আমরা সেই অপেক্ষায় আছি।’
কী ভাবছেন এলাকাবাসী : চিলা রং গ্রামের প্রাইমারি স্কুলশিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ড. শামারুহ ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে যেভাবে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন, তা আমাদের আন্দোলিত করেছিল। তিনি নির্বাচন করবেন না জেনে আমরা হতাশ হয়েছি।
দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি কর্মী সবুজ আলী বলেন, ‘ড. শামারুহ যেহেতু সরাসরি মাঠে নেই, তাই আমরা এখন ফয়সাল আমিনকেই দলের যোগ্য প্রতিনিধি হিসাবে বেছে নিয়েছি। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে আমরা ধরে নেব।’
মির্জা পরিবারের ঘনিষ্ঠজন ও ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাফেজ আব্দুর রশিদ মনে করেন, মির্জা ফখরুলের পর ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মূল দায়িত্ব মির্জা ফয়সাল আমিনের কাঁধেই বর্তায়।
জেলাজুড়ে ভোটের উত্তাপ : ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের হাইভোল্টেজ উপনির্বাচন। এর আগের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত সাবেক শিবির নেতা মো. দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৮৪ ভোট। জামায়াত প্রার্থীর তৎপরতা এবং মির্জা পরিবারের দীর্ঘদিনের পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য মিলিয়ে উপনির্বাচন নিয়ে জেলাজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াচ্ছে। ২৯ অক্টোবরের ভোটযুদ্ধের দিকেই এখন তাকিয়ে পুরো ঠাকুরগাঁওবাসী।
