Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

স্বস্তি থাকলেও পিংক বাসে যাত্রী খরা

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

স্বস্তি থাকলেও পিংক বাসে যাত্রী খরা

নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে পিংক বাস চালু করে সরকার -যুগান্তর

Advertisement

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা। রাজধানীর তালতলা মার্কেটের পাশে যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে একটি পিংক বাস। ১০ মিনিট পর মাত্র একজন যাত্রী নিয়েই ছাড়ল বাসটি। মতিঝিল পর্যন্ত পথে যাত্রী বাড়ল বটে; তবু ফাঁকা ছিল অধিকাংশ সিট। এদিন একই চিত্র দেখা যায় ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার থেকে ছেড়ে আসা গুলিস্তান অভিমুখী পিংক বাসেও। নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকারের চালু করা এই বিশেষ বাসসেবা এখনো আশানুরূপ সাড়া পায়নি। যদিও বাসসংশ্লিষ্টরা বলছেন, রুট ও বাসের সংখ্যা কম হওয়া এবং সড়কে সাধারণ মানুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই আশানুরূপ যাত্রী মিলছে না। তবে হয়রানিমুক্ত পরিবেশে যাতায়াত করতে পেরে সন্তুষ্ট যাত্রীরা; তারা বাসের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

বাসচালক এস কে ফাহিমা সানজা যুগান্তরকে বলেন, যাত্রী একেবারে নেই, কথাটি সঠিক নয়। আমরা দিনে নির্ধারিত দুটি ট্রিপ দিই। ট্রিপ শেষে যখন বাসটি ডিপোতে ফিরিয়ে নেওয়া হয় তখন স্বাভাবিকভাবেই বাসে কোনো যাত্রী থাকে না। এই খালি বাস ডিপোতে যাওয়ার সময় যারা দেখেন তারা ভেবে নেন বাসে কোনো যাত্রী উঠছে না। বাস্তবতা হচ্ছে আগের তুলনায় আমাদের যাত্রীর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষ আমাদের ওপর আস্থা রাখছে। নারীরা পিংক বাসে চলাচল করছে।

নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে গত ১৮ আগস্ট ‘মহিলা বাস সার্ভিস’ চালু করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ করপোরেশন (বিআরটিসি)। এদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়া জেলায় ১৪টি ‘পিংক বাস’ উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী। ভোটাধিকারের দিক থেকেও তারা সমান অংশীদার। রাষ্ট্র গঠনে নারীদের অবদান স্মরণীয়। তাদের যোগ্যতাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে গণপরিবহণে নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সেই জায়গা থেকেই নারীবান্ধব ও নারী পরিচালিত এই পরিবহণ চালু করা হয়েছে।

বিআরটিসি সূত্র জানায়, বর্তমানে রাজধানীতে ১৩টি পিংক বাস চলাচল করছে। ১৫ জন নারী চালক ও ২৪ জন হেলপার এ বাস পরিচালনা করছেন। এছাড়াও ৩২ জন নারী চালক ও হেলপার নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অনেককে দেওয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ। মূলত বাস পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি যাত্রী চাহিদা পর্যালোচনা করে আগামীতে বাসের সংখ্যা ও রুট উভয়ই বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।

রাজধানীর গণপরিবহণে চলাচল করা নারীদের অনেক সময় শারীরিক ও মানসিক হেনস্তার শিকার হতে হয়। ফলে অনেকে গণপরিবহণ ছেড়ে ব্যক্তিগত পরিবহণে চলাচল করে। নারীদের এমন হয়রানি নিয়ন্ত্রণ, সুরক্ষা নিশ্চিত ও নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে এমন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে সন্তুষ্টও অনেকে।

আমিনা খাতুন নামে এক যাত্রী যুগান্তরকে বলেন, অন্যান্য পাবলিক বাসে হেনস্তার শিকার হতে হয়। বাধ্য হয়ে সিএনজি বা অটোরিকশায় অফিসে যাতায়াত করতাম। এতে আমার অনেক টাকা খচর হতো। এক মাস ধরে পিংক বাসে যাতায়াত করছি। এখানকার পরিবেশ অনেক নিরাপদ ও সুন্দর। আমরা চাই নারীদের জন্য এ বাসের সংখ্যা ও রুট সরকার বৃদ্ধি করুক।

আরেক যাত্রী রাবেয়া যুগান্তরকে বলেন, নারীদের জন্য পৃথক সার্ভিস সত্যিই ভালো উদ্যোগ। তবে একটি রাস্তায় একটি বাস দিলে চলবে না। একাধিক বাস দিতে হবে। তাহলে সব মানুষ এই সেবা গ্রহণ করবে।

পিংক বাসের চালক-হেলপাররা বলছেন, নারী বাস চালু ও বাসের সুফল পেতে খুব বেশি সময় লাগবে না। অল্প সময়ের মধ্যেই সব নারীকে সেবার আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব। তবে এজন্য প্রয়োজন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নারী চালক যুগান্তরকে বলেন, বাস চালাতে বেশি সমস্যা রাস্তার সাধারণ মানুষ। তারা সুযোগ পেলেই খারাপ অঙ্গভঙ্গি করেন। যা ভালোভাবে নিতে পারেন না সাধারণ যাত্রীরা। ফলে অনেকে পিংক বাস এড়িয়ে চলছেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম