পাবনায় শিশু হত্যায় বিক্ষোভ: খুনের আগে ধর্ষণ, পরে দুই পা কেটে বস্তায়
দুই ধর্ষকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানিতে খুনের নৃশংসতা
Advertisement
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পাবনা সদর উপজেলার কুলুনিয়ায় ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলিকে (১০) হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে। প্রতিবেশী মোস্তফা কামাল (৫৫) ও মোস্তফার বাড়ির ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলী (২৫) পালাক্রমে শিশুটিকে ধর্ষণের একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে লাশ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে বাড়ির পাশে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে বস্তায় নিথর দেহটি ভরতে গিয়ে তারা আটকে যায়। পরে দুই পা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীর থেকে আলাদা করে বস্তায় ভরা হয়। মোস্তফা ও ইয়াছিন প্রাথমিক জ্ঞিাসাবাদে পুলিশের কাছে কলির ওপর এই নৃশংসতার বর্ণনা দেয়।
নিখোঁজের সাত দিন পর বুধবার সকালে কলির বস্তাবন্দি টুকরো লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কলি পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামের পাওয়ারলুম তাঁত কারখানার মালিক কামাল প্রামাণিকের মেয়ে। কলি স্থানীয় আল ফালাহ একাডেমির ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাড়ির বাইরে আইসক্রিম কিনতে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ। কলির লাশ উদ্ধারের পর তার পিতা কামাল প্রামাণিক বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় মামলা করেন। এরপরই প্রতিবেশী মোস্তফা কামাল এবং তাদের ভাড়াটিয়া ইয়াছিনকে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসাবে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করলে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়। মোস্তফা কামাল কুলুনিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে এবং ইয়াছিন সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার সুবর্ণসারা গ্রামের মহব্বত আলীর ছেলে। ইয়াছিন কলির বাবা কামালের পাওয়ারলুম কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন এবং মোস্তফা কামালের দ্বিতল বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকতেন।
এ রিপোর্ট লেখার আগপর্যন্ত বৃহস্পতিবার বিকালে তাদের (মোস্তফা ও ইয়াছিন) আদালতে পাঠানোর কাজ চলছিল। এদিকে, এই নৃশংস হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত ফাঁসির দাবিতে বৃহস্পতিবার পাবনা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন স্কুল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ সর্বস্তরের মানুষ। মানববন্ধনে ‘বেঁচে থাকার অধিকার চাই’, ‘আমার অধিকার নিয়ে ষড়যন্ত্র মানি না’, ‘শিশু অধিকার আইন বাস্তবায়ন চাই’, ‘কলি হত্যার বিচার চাই’ ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে শিশু শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। বক্তারা বলেন, ‘কলিকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে। এই ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না।
মোস্তফা ও ইয়াছিন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই দিনের ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। পুলিশ জানায়, কলিদের বাড়ি থেকে ৫০০ গজ দূরে মোস্তফার বাড়ি এবং মুদি দোকান। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কলি আইসক্রিম কেনার জন্য মোস্তফার দোকানে যায়। এ সময় মোস্তফা ফ্রিজ থেকে আইসক্রিম দেয়ার কথা বলে বাড়ির ভেতরে নিয়ে কলিকে ধর্ষণ করে। পরে তার সঙ্গে যোগ দেয় ইয়াছিন। দুজনে পালাক্রমে ধর্ষণে মেয়েটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় অবস্থা বেগতিক দেখে নরপশুরা কলিকে কলাটিপে হত্যার পর লাশ বস্তায় ভরে ডোবায় ফেলে দেয়। এ সময় বস্তায় পুরো শরীর ভরতে না পারায় তার (কলির) দুই পা কেটে ফেলে। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, মোস্তফা ও ইয়াছিনকে আটকের পর তারা স্বীকারোক্তি দেওয়ায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।
