Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি

সন্দেহজনক তথ্য পায়নি গোয়েন্দারা

চুরির সাড়ে ১২ কেজি তার জব্দ * মূল অভিযুক্ত রঞ্জনসহ তিনজনের জামিন

Advertisement

আসাদুল্লা লায়ন

আসাদুল্লা লায়ন

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সন্দেহজনক তথ্য পায়নি গোয়েন্দারা

লাল টেলিফোন। প্রতীকী ছবি

Advertisement

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লাল টেলিফোনের তার চুরির নেপথ্যে সন্দেহজনক কোনো তথ্য পায়নি গোয়েন্দারা। অভিযুক্তদের টিএফআই সেলে যৌথ জিজ্ঞাসবাদ ও অন্য তথ্য বিশ্লেষণ করে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে তারা। এছাড়া এ ঘটনায় করা চুরির মামলার তদন্ত শেষ করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যালনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। ইতোমধ্যে তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। তারা হলো-আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্র, ভাঙারি ব্যবসায়ী রিজাকুল ইসলাম ও মো. মাহাবুব হাসান। তবে তারা ইতোমধ্যে জামিনে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর অতি গুরুত্বপূর্ণ লাল টেলিফোনের তার কাটা দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় জড়িতদের ধাপে ধাপে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অন্য তথ্য ও আলামত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তবে চুরির নেপথ্যে ভিন্ন উদ্দেশ্য বা সন্দেহজনক কোনো তথ্য মেলেনি। জিজ্ঞাসাবাদসহ সার্বিক তথ্য প্রমাণে এটি শুধু চুরির ঘটনা হিসাবেই প্রমাণ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে সিটিটিসির অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. মোর্শেদুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, যাবতীয় তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এটি শুধু চুরির ঘটনা বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। তিনজনকে চুরির মামলায় অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, গত কুরবানি ঈদের সরকারি ছুটি শুরু হয় ২৫ মে। সাত দিনের ছুটি শেষে ১ জুন অফিস খোলার পর সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা দেখতে পান প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের সংযোগ নেই। পরে টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কর্মকর্তারা সংযোগ পুনরুদ্ধার করেন। এ ঘটনায় বিটিসিএলের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিদ হায়দার ১ জুন শাহবাগ থানায় জিডি করেন। জিডিতে হয়, সচিবালয়ের পুরোনো এক নম্বর ভবন থেকে নতুন এক নম্বর ভবন পর্যন্ত টেলিযোগাযোগের কপার কেবল (তার) ছিল। এই কেবলের মাধ্যমেই সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লাল টেলিফোন নম্বরসহ অন্য গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংযোগ সচল রাখা হয়েছিল। পরে শাহবাগ থানায় মামলা করা হলে রঞ্জন চন্দ্র ও ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যে চুরির মাল কেনার দায়ে মাহাবুব হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। এদিকে এ ঘটনায় কারাগারে থাকা সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্রকে বৃহস্পতিবার জামিন দিয়েছেন আদালত। এর আগে অন্য দুই অভিযুক্ত জামিন পান।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ধলেশ্বরী কোম্পানির অধীনে আউটসোর্সিংয়ে ২০০ টাকা মজুরিতে পরিষ্কারক হিসাবে সচিবালয়ে কর্মরত ছিলেন রঞ্জন চন্দ্র। গত ২২ মে সকালে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবনের ছাদে ময়লা পরিষ্কার করার সময় রঞ্জন টেলিফোনের তামার তার এন্ট্রি কাটার ব্লেড দিয়ে কেটে নেয়। পরে ঈদুল আজহার ছুটি শেষে ওই তার তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনের মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স নামে ভাঙারির দোকানে ৮০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি করেন। সেখান থেকে ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তামা উদ্ধার করা হয়। পরে মাহাবুব হাসান নামের আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার কাছ থেকে ৪ কেজি ২০০ গ্রাম চোরাই তার জব্দ করা হয়। একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, ছাদে অনেক লম্বা তার প্যাঁচানো অবস্থায় সচল ছিল। জড়িত রঞ্জন এতগুলো তামার মূল্যবান তার দেখে লোভ সামলাতে পারেনি। সে একইভাবে আগেও ছোটখাটো মালামাল চুরি করেছে বলে স্বীকার করেছে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগের তারের বিষয়টি তার ধারণার বাইরে ছিল।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম