Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

১০১ চুক্তি নিয়ে ইকোনমিক টাইমসের বিশ্লেষণ

ট্রানজিট অবকাঠামো বিদ্যুতে গুরুত্ব

Advertisement

হক ফারুক আহমেদ

হক ফারুক আহমেদ

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ট্রানজিট অবকাঠামো বিদ্যুতে গুরুত্ব

Advertisement

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পাদিত ১০১টি চুক্তি বর্তমান সরকার পর্যালোচনা করে দেখছে। এ বিষয়ে শুক্রবার ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। এবার ভারতের গণমাধ্যম ‘দ্য ইকোনমিক টাইমস’ পর্যালোচনার সম্ভাব্য খাত ও চুক্তির বিষয়ে বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। এতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে শেখ হাসিনার আমলে ট্রানজিট সুবিধা, বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ, সড়ক, রেল এবং বন্দর অবকাঠামোর জন্য ঋণ সহযোগিতার মতো খাত ও চুক্তিগুলোকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শনিবার ইকোনমিক টাইমসের ‘বাংলাদেশ সেইস রিভিউ অব ওয়ান হানড্রেড ওয়ান ইন্ডিয়া প্যাক্টস এইমড অট ম্যাকিং এগরিমেন্টস উইন-উইন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলো (এমওইউ) ঢাকা নিরীক্ষা করছে। বাংলাদেশি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন-এ পর্যালোচনার লক্ষ্য হলো অবাধ্যতামূলক এমওইউ এবং অবকাঠামোগত শর্তাবলীকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। প্রকল্পগুলো ঢালাওভাবে বাতিল না করে প্রতিটি ক্ষেত্রে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করে দেখা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের মাধ্যমে ভারত তার স্থলবেষ্টিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য পরিবহণের সুযোগ পায়। ঢাকার কর্তৃপক্ষ ট্রানজিট ফি ও রুট সুবিধা নিয়ে পর্যালোচনা করছে এবং যুক্তি দিচ্ছে পূর্ববর্তী শর্তাবলী ভারসাম্যহীন ছিল। ফি পুনর্গঠন বা প্রশাসনিক বিলম্বে আগামীতে ভারতের ট্রানজিট খরচ বাড়তে পারে। বাংলাদেশ আন্তঃসীমান্ত ডিজেল পাইপলাইনে জ্বালানি এবং গাড্ডার আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। ঢাকার পক্ষ থেকে এ বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিসংক্রান্ত আর্থিক বিষয় পুনঃআলোচনার অনুরোধ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে সড়ক, রেল এবং বন্দর অবকাঠামোর উন্নয়নে ভারত ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে। আশুগঞ্জ-আখাউড়া সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের মতো বেশ কয়েকটি ভারতীয় অর্থায়নে পরিচালিত উদ্যোগ বর্তমানে ঢাকার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে সম্ভাব্যতা নিরীক্ষার জন্য আছে। বিলম্ব, ক্রয় চুক্তির শর্তে পরিবর্তন বা অব্যয়িত তহবিল বাতিল হওয়ায় ভারতীয় বিনিয়োগ কি হবে সে নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয় প্রতিবেদনে। 

এতে আরও বলা হয়, অবৈধ অভিবাসন, সীমান্ত চোরাচালান এবং ভারতবিরোধী জঙ্গিগোষ্ঠীর যে কোনো পুনরুত্থান রোধে নয়াদিল্লি বাংলাদেশের সীমান্তে সহযোগিতা পেয়ে এসেছে। তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ভারত-কেন্দ্রিকতা থেকে সরে বৃহত্তর পররাষ্ট্রনীতি কৌশলের দিকে যেতে চাইছে। চীন, যুক্তরাষ্ট্র এবং আসিয়ানসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখছে বাংলাদেশে। এ কারণে নয়াদিল্লি যোগাযোগের পথ খোলা রেখে বাস্তবসম্মত পন্থা অবলম্বন করছে।

এদিকে, শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রেস বিফ্রিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের এসব চুক্তির বিষয়ে কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদন তারা দেখেছেন। তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এ বিষয়ে ভারত তার নিজস্ব স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে।

যুগান্তরকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, শেখ হসিনার সময়ে ভারতের সঙ্গে করা চুক্তিগুলোতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের কোথায় কোথায় ব্যাঘাত ঘটেছে তা দেখা হবে। এর একটি কৌশলগত দিকও আছে। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, এগুলো জাতীয় স্বার্থের নিরিখে পর্যালোচনা করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব চুক্তি আগামীতে সুফল না কুফল বয়ে আনবে তা দেখা হবে। উল্লেখ্য, ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত ১০১টি চুক্তি বর্তমান সরকার পর্যালোচনা করছে। এসব চুক্তির মধ্যে দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো শর্ত বা বিষয় রয়েছে কিনা-তা গভীরভাবে যাচাই করে শিগগির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব স্মারক ও চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পর্যালোচনা করা হচ্ছে।


Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম