নীলফামারীর একুইডাক্ট ঘিরে পর্যটনের হাতছানি
নিচে নদী ওপরে ক্যানেল দুই জলধারার খেলা
অপরূপ নির্মাণশৈলী দেখতে ভিড়, নেই ন্যূনতম সুবিধা
Advertisement
নিচে যমুনেশ্বরীর স্রোত, ওপর দিয়ে বইছে বগুড়া সেচ ক্যানেলের পানি। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বাহাগিলীরঘাটে। সম্প্রতি তোলা -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দূর থেকে দেখলে মনে হয় নদীর ওপর সাধারণ কোনো সেতু। কিন্তু কাছে গেলেই চোখে পড়ে এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য-নিচ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে যমুনেশ্বরী নদীর স্রোত, আর ওপর দিয়ে ছুটছে বগুড়া সেচ ক্যানেলের জলধারা। প্রকৌশলের এমন অপূর্ব নির্মাণশৈলীর নাম ‘একুইডাক্ট’। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বাহাগিলীরঘাটে পানি প্রবাহের এই ব্যতিক্রমী দৃশ্য মুগ্ধ করছে দর্শনার্থীদের। তবে দেশের একমাত্র এই একুইডাক্ট ঘিরে পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনা থাকলেও বসার জায়গা ও শৌচাগারের অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন আগন্তুকরা। উপজেলা প্রশাসন এলাকাটি পর্যটন উপযোগী করার তাগিদ দিলেও নিজেদের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্পের আওতায় ২০১০ সালে একুইডাক্টটি নির্মিত হয়। বগুড়া সেচ ক্যানেলের পানি যমুনেশ্বরী নদী পার করতে এটি তৈরি করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এর দৈর্ঘ্য ২১৬ মিটার। নদীর ওপর দিয়ে মৃদুছন্দে ক্যানেলের পানি প্রবাহিত হতে দেখে পর্যটকদের মন জুড়ে যায়।
দর্শনার্থীরা জানান, ক্যানেল ও নদীর পানি একুইডাক্টের ওপর ও নিচ দিয়ে একসঙ্গে প্রবাহের কথা শুনে প্রথমে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে। তাই নিজ চোখে দেখতে এসেছেন। দূর থেকে দেখে মনে হয়ছিল একটি সেতু। কাছে গিয়ে দেখেন, এর বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা। সেতু দিয়ে মানুষ কিংবা যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু একুইডাক্টের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় ক্যানেলের পানি। আর এর নিচ দিয়ে বয়ে যায় নদীর স্রোত। দুই জলধারার ব্যতিক্রমী দৃশ্য তাদের মুগ্ধ করে। কিন্তু এখানে বসার পরিবেশ নেই। তাছাড়া টয়লেটের অভাবে অনেকে বিপাকে পড়েন।
একুইডাক্টটির দক্ষিণ পাশের চা দোকানি বাহাগিলী সন্নাসীপাড়ার ছফিয়া বেগম ও উত্তর পাশের চাঁদখানা বৈরাগীপাড়ার গঙ্গা রায় জানান, শুক্র ও শনিবার ছাড়া অন্যান্য দিন এখানে দর্শনার্থী কম হয়। আগে একুইডাক্ট সংলগ্ন ক্যানেলের দুই ধারে বড়-বড় গাছ ছিল। দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন এসে একুইডাক্টে ছবি তুলতেন। ক্যানেলের বাঁধের গাছের ছায়ায় বসে সময় কাটাতেন। এসব গাছ বিক্রি করে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এখন কোথাও বসে আড্ডা দেওয়া বা গল্প করার কোনো জায়গা নেই। এজন্য লোকজন একুইডাক্ট দেখতে এসে দ্রুত চলে যান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, একুইডাক্টটি পরিদর্শন করেছি। এর নির্মাণশৈলী অন্যান্য। পানি প্রবাহের দৃশ্য অপূর্ব। এলাকাটি পর্যটন উপযোগী করতে দর্শনার্থীদের জন্য টয়লেট ও বিশ্রামের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে লিখিতভাবে বলা হয়েছে।
সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আখিনুজ্জামান বলেন, বাঁধ সংস্কার শেষে আবারও একুইডাক্ট সংলগ্ন ক্যানেলের বাঁধে গাছের চারা লাগানো হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের একমাত্র একুইডাক্ট। এ কারণে স্থানটি এমনিতেই পর্যটন এলাকায় পরিণত হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য কোনো পরিকল্পনা নেই। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন আমাদের অধিগ্রহণ করা জমিতে কোনো কিছু নির্মাণ করে দিলে আপত্তি থাকবে না।

