Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

নবম পে-স্কেল আইবাস প্লাস প্লাসে

পে ফিক্সেশনের পর তিন মাসের বকেয়া সমন্বয়

Advertisement

এম শাহজাহান

এম শাহজাহান

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পে ফিক্সেশনের পর তিন মাসের বকেয়া সমন্বয়

Advertisement

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নবম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে প্রবেশ করেছে সরকার। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের পুরো প্রক্রিয়াই এবার অনলাইন করা হচ্ছে। অর্থ বিভাগের জরুরি নির্দেশনা অনুযায়ী, শিগ্গিরই সরকারি কর্মচারীরা আইবাস প্লাস প্লাসে ঢুকে নিজেদের নতুন বেতন নির্ধারণ বা ‘পে ফিক্সেশন’ করতে পারবেন। তবে সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতা আপাতত জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুযায়ীই সাবমিট করতে হবে। পরে নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণ শেষ হলে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অর্থাৎ তিন মাসের প্রাপ্য বকেয়া আর্থিক সুবিধা সমন্বয় করা হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

অর্থ বিভাগের নির্দেশনায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পে ফিক্সেশনের ধাপ, এনআইডি ও জন্মতারিখের তথ্য, ড্রইং অ্যান্ড ডিসবার্সি অফিসার (ডিডিও) এবং হিসাবরক্ষণ অফিসের দায়িত্বসহ পুরো প্রক্রিয়াটি স্পষ্ট করা হয়েছে। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর জারি করা ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’-এর ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদেও অনলাইনে বেতন নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে নেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে-একই নিয়মে দ্রুত বেতন নির্ধারণ এবং তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। কর্মচারী নিজেই তার তথ্য এন্ট্রি করে নতুন নির্ধারণযোগ্য মূল বেতন দেখতে পারবেন। তবে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। ভুল তথ্য দিলে পরবর্তী যাচাইয়ের সময় তা সংশোধন করতে হতে পারে। তিনি বলেন, নতুন পে-স্কেলের বাস্তবায়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে সঠিকভাবে পে ফিক্সেশন সম্পন্ন করা। নতুন নিয়মে সরকারি কর্মচারীকে আইবাস প্লাস প্লাস পে ফিক্সেশন অপশনে গিয়ে নির্ধারিত ছক পূরণ করতে হবে। আগের পেফিক্সেশন.গভ.বিডি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইবাস প্লাস প্লাস পে ফিক্সেশন অপশনে পৌঁছানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গেজেটেড কর্মকর্তা আইবাস প্লাস প্লাস এর নিজস্ব ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে প্রবেশ করবেন। আর নন-গেজেটেড কর্মচারী এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ ব্যবহার করবেন। এরপর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে পাঠানো ওটিপি দিয়ে সিস্টেমে প্রবেশ করতে হবে। বিদেশে অবস্থানরত কর্মচারীর ক্ষেত্রে আইবাস প্লাস প্লাসে নিবন্ধিত ই-মেইলে ওটিপি পাঠানোর বিধান রয়েছে। তবে এনআইডি না থাকলে আগে এনআইডির জন্য নিবন্ধন করতে হবে। চাকরির রেকর্ডে থাকা জন্মতারিখের সঙ্গে এনআইডির জন্মতারিখের অমিল থাকলে পে ফিক্সেশনের আগে এনআইডি সংশোধন করতে হবে। ফলে নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিচয় সংক্রান্ত তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পে ফিক্সেশনের নির্ধারিত ছকে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার পর ডিডিওর কাছে সাবমিট করার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর নির্ধারণযোগ্য নতুন মূল বেতনের পরিমাণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শিত হবে। অর্থাৎ কর্মচারী সাবমিট করার আগে সিস্টেমে তার নতুন বেতন কত নির্ধারিত হচ্ছে, তা দেখতে পারবেন। সাবমিশন সম্পন্ন হলে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসএমএস যাবে। এরপর বিষয়টি যাবে সংশ্লিষ্ট ডিডিও’র কাছে।

গেজেটেড কর্মকর্তার বেতন নির্ধারণী বিবরণী ডিডিও হিসাবরক্ষণ অফিসে ফরওয়ার্ড করবেন। নন-গেজেটেড কর্মচারীর ক্ষেত্রে সার্ভিস বহি অনুযায়ী পূর্ববর্তী চাকরি ও বেতনের তথ্য সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করার বিষয়টি নিশ্চিত করবেন ডিডিও। এরপর আইবাস প্লাস প্লাস থেকে বেতন নির্ধারণী বিবরণীর কপি প্রিন্ট করে সার্ভিস বহিসহ হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানোর বিধান রয়েছে। অন্যদিকে অনলাইনে দাখিল করা বেতন নির্ধারণী বিবরণী তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসে পৌঁছে যাবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনলাইনে তথ্য যাচাই করে সঠিক মনে করলে তা অনুমোদন করবেন। অনুমোদনের পর সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ভেরিফিকেশন নম্বর তৈরি করবে। এক্ষেত্রে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার ম্যানুয়াল স্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে না। তবে সার্ভিস বহিতে ভেরিফিকেশন নম্বর ও নির্ধারিত বেতন লিপিবদ্ধ করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বাক্ষর করবেন। গেজেটেড কর্মকর্তার ক্ষেত্রে অডিট রেজিস্টারের মানি-কলামেও নির্ধারিত বেতন ও ভেরিফিকেশন নম্বর লিপিবদ্ধ করার বিধান রয়েছে।

অর্থ বিভাগের জরুরি নির্দেশনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতা জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ীই সাবমিট করতে হবে। পে ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রাপ্য অর্থ হিসাব করে পরবর্তী সময়ে সমন্বয় করা হবে। অর্থাৎ নতুন স্কেলের গেজেট জারি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সেপ্টেম্বরের বেতন নতুন হারে ছাড় হচ্ছে না। প্রথমে অনলাইন পে ফিক্সেশন, ডিডিওর যাচাই এবং হিসাবরক্ষণ অফিসের অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ হবে। এরপর চূড়ান্তভাবে প্রতিপাদিত বেতন নির্ধারণী বিবরণীর ভিত্তিতে বেতন পরিশোধ করা হবে।

গেজেট অনুযায়ী, কোনো কর্মচারীকে এ প্রক্রিয়ায় কম বা বেশি বেতন দেওয়া হলে পরবর্তী সময়ে তা সমন্বয়যোগ্য হবে। নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ায় জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর-এই তিন মাসে পুরোনো স্কেলে পাওয়া বেতন এবং নতুন স্কেলে প্রাপ্য বেতনের পার্থক্য বকেয়া হিসাবে সৃষ্টি হবে। পে ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর এই বকেয়া আর্থিক সুবিধা হিসাব করে সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে। অনলাইন পে ফিক্সেশনের বিস্তারিত ব্যবহার নির্দেশিকা আইবাস প্লাস প্লাস লগইন পেজ, অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইট, হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের (সিজিএ) ওয়েবসাইট এবং পে ফিক্সেশন.গভ. বিডি-তে পাওয়া যাবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম