Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

জড়িত খাদ্য কর্মকর্তা

সরকারি গুদামের চাল-গম কালোবাজারে বিক্রি

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার দুই কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

Advertisement

Icon

আমিরুল ইসলাম

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারি গুদামের চাল-গম কালোবাজারে বিক্রি

ফাইল ছবি

Advertisement

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সরকারি খাদ্যগুদামের ১০০ টন চাল ও ২০ টন গম কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন গুদামের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা। এই চাল ও গমের বাজারমূল্য প্রায় ৬৭ লাখ টাকা। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (টিএফসি) ও গুদাম কর্মকর্তাকে বদলি এবং পরে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অপরদিকে নেত্রকোনা সদরে সংগ্রহ অভিযান চলাকালে একাধিক ব্যক্তিকে বঞ্চিত করে একই ব্যক্তির কাছ থেকে বারবার ধান কেনায় জেলা খাদ্য কর্মকর্তা (ডিসি-ফুড) ও গুদাম কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। এছাড়া কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা খাদ্যগুদামে অতিরিক্ত চাল পাওয়া গেছে। ছেঁড়া বস্তায় চাল সংরক্ষণের অপরাধে গুদাম কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। আবার গুদাম এলাকায় অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্তার অভিযোগে নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলা গুদাম কর্মকর্তাকেও বদলি করা হয়েছে।

খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী যুগান্তরকে বলেন, গুদামে চাল ও গম না পাওয়ায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি করে অধিকতর তদন্ত চলছে। তিনি আরও বলেন, বছরে একবার খাদ্যগুদামগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। তদন্তে যেখানে অনিয়ম পাওয়া যাবে, দেরি না করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগে কৃষক সরকারের কাছে সরাসরি ধান বিক্রি করতে পারতেন না। দালালের দৌরাত্ম্য ছিল। এবারই প্রথম তারা সরাসরি সরকারের কাছে ধান বিক্রি করেছেন। এরপরও যারা অনিয়ম করে ধরা পড়ছেন এবং ভবিষ্যতে ধরা পড়বেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মানিকগঞ্জের ঘিওরে ২৫ আগস্ট খাদ্য অধিদপ্তর থেকে সরেজমিন তদন্ত চালায় মন্ত্রণালয়। ওই সময় ধরা পড়ে গুদামে ১০০ টন চাল ও ২০ টন গম নেই। গুদাম কর্মকর্তা বিপুল কুমার চাল ও গম কালবাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে তারা গোয়েন্দা সূত্রে জানতে পারেন। এর সঙ্গে মেলে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ফারহানা বেগমের সম্পৃক্ততাও। তদন্ত কর্মকর্তারা গুদাম কর্মকর্তা এবং উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে ডেকে চাল ও গম পরিমাণের চেয়ে কেন কম-সে বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এরপর বিপুল কুমারকে বরগুনায় এবং ফারহানা বেগমকে মোংলায় বদলি করা হয়; পরে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় তাদের।

ফারহানা বেগম যুগান্তরকে বলেন, প্রতি মাসে দুবার গুদাম পরিদর্শন করে জেলায় প্রতিবেদন পাঠাই। ১৫ আগস্ট সরেজমিন তদন্ত করে জেলায় প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। ২৫ আগস্ট তদন্ত দল এসে গুদামে চাল ও গম নেই মর্মে তথ্য উদ্ঘাটন করে। তদন্ত কর্মকর্তারা আমাকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আমি আমার অবস্থান তুলে ধরেছি। তিনি আরও বলেন, এরপর আমাকে প্রথমে মোংলায় বদলি, পরে বরখাস্ত করা হয়। এক প্রশ্নের জবাবে ফারহানা বেগম জানান, গুদাম কর্মকর্তাকে আমি নিজেই জিজ্ঞাসা করেছি। কিন্তু তিনি কোনো সদুত্তর দিচ্ছেন না। শুধু বলেছেন, চাল বুঝে না পেয়েই তিনি কাগজপত্রে দেখিয়েছেন, চালের মজুত রয়েছে। গুদাম কর্মকর্তা বিপুল কুমারের মোবাইল ফোন নম্বরে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

খাদ্য বিভাগের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, যারা সরকারি চাল ও গম বাজারে বিক্রি করে দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হবে। অধিকতর তদন্তে দোষী হলে তাদের কাছ থেকে চাল ও গমের মূল্য আদায় করা হবে। প্রয়োজনে তাদের অবসরে যাওয়ার সময় পেনশনের অর্থ থেকে টাকা কেটে রাখা হবে। কোনোভাবে পার পাওয়ার সুযোগ থাকছে না।

এদিকে নেত্রকোনার মদন উপজেলায় কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার সময় একাধিক কৃষককে বঞ্চিত করে একই কৃষকের কাছ থেকে বারবার ধান কেনা হয়েছে। এতে অন্য কৃষকদের বাধ্য হয়ে দালালদের কাছে কম মূল্যে ধান বিক্রি করতে হয়েছে। বিষয়টি সরকারি সিদ্ধান্তের পরিপন্থি হওয়ায় ডিসি-ফুড এবং গুদাম কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে নেত্রকোনার ডিসি-ফুড মো. মোয়েতাছেমুর রহমানের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা সত্ত্বেও তিনি রিসিভ করেননি। এরপর হোয়াটসঅ্যাপে প্রতিবেদকের পরিচয় দিয়ে খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা খাদ্যগুদামে মজুতের চেয়ে বেশি চাল পাওয়া গেছে। পরিমাণের চেয়ে বেশি চাল কোথায় থেকে এসেছে, তার সদুত্তর দিতে পারেননি খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা মো. সুজা আহমেদ। এছাড়া গুদামে ছেঁড়া বস্তায় চাল সংক্ষণ করেছেন তিনি (সুজা)। তাছাড়া তার গুদাম ব্যবস্থাপনা সঠিক ছিল না। এসব অপরাধে তাকে কুড়িগ্রাম থেকে পটুয়াখালীতে বদলি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য কর্মকর্তা (ডিসি-ফুড) কাজী হামিদুল হক যুগান্তরকে বলেন, সরকারি গুদামে যে পরিমাণ চাল-গম মজুত থাকার কথা তার চেয়ে বেশি মজুত রয়েছে। ছেঁড়া বস্তায় চাল সংরক্ষণে বড় ধরনের কোনো অনিয়ম হয়নি। ভালো বস্তার অভাব থাকায় পুরোনো বস্তায় খাদ্যশস্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। এসব ভুলত্রুটির কারণে তাকে পটুয়াখালী সদর উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা খাদ্যগুদাম চত্বরে স্থানীয় লোকজন মারামারি করেছে। স্পর্শকাতর এ এলাকায় মারামারি অপরাধমূলক কাজ। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ কারণে ওই উপজেলার গুদাম কর্মকর্তা নবাব হোসেনকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে এবং উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মামুন হোসেনকে পটুয়াখালীর গলাচিপায় বদলি করা হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা খাদ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আতিকুল হক যুগান্তরকে বলেন, অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় তাদের এখান থেকে বদলি করা হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম