কুমিল্লায় ‘চারাপিতা’
পেরুতে চাষ হয় পৃথিবীর সবচেয়ে দামি ও বিলাসী এই মরিচ * রাজকীয় খাবারের স্বাদ ও সুগন্ধি বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হয় * এই মরিচ চাষে দেশের আবহাওয়া উপযুক্ত কিনা, গবেষণা প্রয়োজন -ড. জামাল উদ্দিন
Advertisement
কুমিল্লা নগরীর দেশওয়ালি পট্টিতে চারাপিতা মরিচের পরিচর্যা করছেন কাজী শারমিন -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লায় প্রায় ২৮ লাখ টাকা কেজির ‘চারাপিতা’ মরিচ চাষ করছেন শহীদমাতা কাজী শারমিন আক্তার। নগরীর দেশওয়ালিপট্টির নিজ বাড়িতে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি সুগন্ধি এবং বিলাসী এই মরিচের চাষ করছেন জুলাই শহীদ হামিদুর রহমান সাদমানের মা। সম্প্রতি ফলনসহ এ মরিচ গাছের কিছু ছবি সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দর্শনার্থীরা এক নজর দেখার জন্য সেখানে ভিড় করছে। এদিকে চাষি কাজী শারমিনকে নানাভাবে পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা। তার এ মরিচ চাষ দেখে আগ্রহী হয়ে উঠছে অনেকেই।
কাঁচা অবস্থায় মরিচটি সবুজ থাকে এবং পাকলে হলুদ বা উজ্জ্বল কমলা রং ধারণ করে। দেখতে গোলাকার এই মরিচের চাষ কুমিল্লায় প্রথম শুরু করেন কৃষক আহমেদ জামিল সেলিম। ২০২২ সালে নগরীর ঠাকুরপাড়ার বাগানবাড়িতে তিনি এ মরিচের চাষ শুরু করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পৃথিবীর সবচেয়ে দামি এবং বিলাসী মরিচ চারাপিতা। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে এ মরিচের চাষ হয়। মরিচটি খুব বেশি ঝাল নয়। তবে এর রয়েছে অদ্ভুত সুন্দর ও মাদকতাময় সুগন্ধ, যা যে কোনো খাবারের স্বাদ ও আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয়। সৌদির রিয়াদ, বন্দর নগরী জেদ্দা এবং পবিত্র নগরী মক্কার অনেক দামি হোটেলের খাবার তৈরিতে এ মরিচ ব্যবহার করা হয়। দুবাইসহ অন্যান্য আরব শেখদের খাবার তৈরিতেও এ মরিচের ব্যবহার চলে। বিশেষ করে ধনাঢ্য ব্যক্তিদের রাজকীয় খাবারের স্বাদ এবং সুগন্ধ বৃদ্ধির জন্য ‘চারাপিতা’ মরিচের ব্যবহার করা হয়।
কাজী শারমিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একটি কোণে ছোট সবজির মাচা। এর পাশে ছয়টি বালতিতে লাগানো হয়েছে চারাপিতা মরিচের গাছ। পরম যত্ন আর পরিচর্যায় গাছে মরিচ ধরেছে। চার পাশের বাতাসে ভাসছে মরিচের অদ্ভুত মাদকতাময় ঘ্রাণ। তার মরিচগাছ ও মরিচ দেখতে সেখানে ভিড় করছেন অনেকেই।
কৃষক আহমেদ জামিল সেলিম বলেন, দেশে সম্ভবত আমিই প্রথম এ মরিচের চাষ শুরু করেছি। আমেরিকা থেকে বীজ সংগ্রহ করি। এখন কাজী শারমিনও এ মরিচ চাষে সফলতার পথে। তিনি বলেন, চারাপিতা পৃথিবীর সবচেয়ে দামি মরিচ। প্রতি কেজি মরিচের দাম প্রায় ২৬ হাজার ডলার। এর বাজার সৃষ্টি করা হলে দেশের কৃষকরা ভালো আয় করতে পারবেন। কাজী শারমিন আক্তার বলেন, আমেরিকায় বসবাসকারী এক আত্মীয়েরমাধ্যমে পাকা চারাপিতা মরিচ সংগ্রহ করেছি। সেখান থেকে ছয়টি চারা হয়েছে। একটি মরিচে ১৫ থেকে ২০টি বীজ হয়। আমার গাছে প্রচুর মরিচ ধরেছে। পরম যত্নের সঙ্গে এর পরিচর্যা করছি। আমার বোনও রানীর দিঘিরপাড়ের বাসায় এ মরিচের চাষ করেছেন। তিনি বলেন, আরব দেশগুলোতে চারাপিতা মরিচের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সেখানে বাজার সৃষ্টি করতে পারলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যাবে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) কুমিল্লা গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জামাল উদ্দিন বলেন, মূলত চারাপিতা মরিচ পেরুতে চাষ করা হচ্ছে। এটি অত্যন্ত দামি এবং দুর্লভ একটি ফল। আন্তর্জাতিক গবেষণায় এটিকে দুর্লভ মরিচ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশের আবহাওয়া এ মরিচ চাষের জন্য উপযুক্ত কিনা, সে বিষয়ে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

