র্যাগিং ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ
রাবির ৯৯ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) র্যাগিংসহ নানা অভিযোগে ৯৯ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বহিষ্কার, আবাসিকতা বাতিল ও বিভিন্ন মেয়াদে ছাত্রত্ব স্থগিতসহ বিভিন্ন শাস্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৯তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বুধবার বিকালে রাবি উপাচার্য ড. অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
উপাচার্য বলেন, সিন্ডিকেট সভায় রাবির শৃঙ্খলা উপকমিটি র্যাগিংসহ বিভিন্ন অভিযোগ তথ্য প্রমাণসহ উপস্থাপন করেছে। পরে সিন্ডিকেট বিষয়গুলো উন্মুক্তভাবে পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি অনুমোদন করেছে।
শাস্তির মধ্যে রয়েছে-এক শিক্ষাবর্ষ (দুই সেমিস্টার) ছাত্রত্ব স্থগিত, আবাসিকতা বাতিল, ভবিষ্যতে আবাসিকতার জন্য বিবেচনা না করা, কঠোরভাবে সতর্ক করা এবং অভিভাবকদের চিঠির মাধ্যমে শাস্তির বিষয়টি অবহিত করা। শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে র্যাগিং-এর অভিযোগে ১৪ জন এবং জুনিয়র শিক্ষার্থীর ওপর শারীরিক নিপীড়নের অভিযোগে একজনের এক বছরের জন্য ছাত্রত্ব স্থগিত করা হয়েছে। একই অভিযোগে দুই শিক্ষার্থীর আবাসিকতা বাতিল করা হয়েছে।
এ ছাড়া র্যাগিং-এর দায়ে বিভিন্ন বিভাগের ৭৯ শিক্ষার্থীকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে র্যাগিং-এ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে অধিকতর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে সিন্ডিকেটে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের চিঠির মাধ্যমে শাস্তির বিষয়টি জানানো হবে।
অন্যদিকে লোকপ্রশাসন বিভাগের সভাপতির সিল, স্বাক্ষর ও প্যাড জালিয়াতির অভিযোগে তিন শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। র্যাগিং ও সিল জালিয়াতির অভিযোগে এক বছরের জন্য ছাত্রত্ব স্থগিত হওয়া ১৮ শিক্ষার্থী এবং আবাসিকতা বাতিল হওয়া দুই শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে আবাসিকতার জন্য বিবেচনা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম আরও বলেন, র্যাগিং-এর মতো অপরাধের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। তাই আমরা এ বিষয়ে খুব কঠোর অবস্থানে আছি। আমরা কাউকে চিরতরে ছাত্রত্ব বাতিল করিনি। সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য শাস্তি দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি আবাসিক শিক্ষার্থী হয়ে থাকে, তার আবাসিকতাও বাতিল করা হবে।
তিনি আরও বলেন, একই সঙ্গে তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানানো হবে। যাদের সতর্ক করা হয়েছে, তাদের সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি কোনোভাবে বোঝা যায়, তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। র্যাগিং-এর বিষয়ে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স।
