মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠক
তিন কারণে বাড়বে সার্বিক মূল্যস্ফীতি
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আগামীতে তিনটি কারণে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতিতে চাপ সৃষ্টির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কারণগুলো হচ্ছে, সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা। এছাড়াও বর্তমানে সরকারের লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে মূল্যস্ফীতির হার। এমন পরিস্থিতিতে নীতি সুদের হার না কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুদ্রানীতি বিষয়ক কমিটি।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে গভর্নর ও মুদ্রানীতি কমিটির সভাপতি মুস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির ১৪তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ও মুদ্রানীতি কমিটির সদস্য ড. হাবিবুর রহমান, অর্থনীতিবিদ ড. এমকে মুজেরী, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. একেএম এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারপারসন ড. ফেরদৌসী নাহার, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ড. ইমাম আবু সাঈদ ও মুদ্রানীতি কমিটির সদস্য সচিব ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম সরকার উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি উপকরণের দাম এখনো অস্থিতিশীল। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। যা আগামীতে মূল্যস্ফীতিতে চাপ তৈরির ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। এমন অবস্থায় বর্তমানে নীতি সুদের হারে কোনো পরিবর্তন আনার আগে বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশেষ করে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে। একই সঙ্গে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে অর্থনীতিতে সম্ভাব্য আঘাত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এ কারণে আপাতত নীতি সুদের আর কমানো হবে না। অপরিবর্তিত রাখা হবে।
বৈঠকে মুদ্রানীতি কমিটি সাম্প্রতিক দেশীয় ও বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। এতে দেখা যায় দেশের মূল্যস্ফীতির হার এখন নিম্নমুখী প্রবণতায় রয়েছে। তবে তা চলতি অর্থবছরের জন্য সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এখন বেশি। চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৭ শতাংশ। আগস্টে এ হার পয়েন্ট টু পয়েন্ট হিসাবে অর্থাৎ গত বছরের আগস্টের তুলনায় চলতি বছরের আগস্টে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। পুরো এক বছরের হিসাবে ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
এর আগে ৩১ জুলাই নীতি সুদের হার ১০ শতাংশ থেকে দশমিক ৫০ শতাংশ কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশে নামিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মূলত বিনিয়োগ বাড়ানো ও সুদের হার কমানোর জন্যই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এর ফলে ইতোমধ্যে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কিছুটা কমতে শুরু করেছে।
এদিকে উদ্যোক্তারা বারবার ঋণের সুদের হার কমানোর দাবি করে আসছেন। সুদ না কমালে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন দাবিতে নীতি সুদের হার কিছুটা কমানো হয়েছিল। এখন মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এ হার ফের কমাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র জানায়, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণে সব খাতে উৎপাদন খরচ বাড়বে। ফলে পণ্যের দাম বাড়বে। এতে মানুষের জীবনযাত্রার খরচও বাড়বে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর কারণে বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়বে। এর বড় অংশই যাবে অনুৎপাদনশীল খাতে। পাশাপাশি রাজস্ব আয় দুর্বল হওয়ায় সরকারের ঋণনির্ভরতাও বাড়তে পারে। এতে আগামীতে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে উৎপাদনশীল খাতে ঋণের জোগান বাড়ছে না। ফলে মূল্যস্ফীতির যন্ত্রণা লাঘবে কর্মসংস্থান ও মানুষের বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ কার্যকরভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে না।
