Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

রহস্যঘেরা ‘আলী সুড়ঙ্গ’

অন্ধকার পেরোলেই আলো

Advertisement

Icon

মো. হাসান, বান্দরবান

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রহস্যঘেরা ‘আলী সুড়ঙ্গ’

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ‘আলী সুড়ঙ্গ’। এটি পর্যটকদের কাছে দিনদিন হয়ে উঠছে রোমাঞ্চের নতুন ঠিকানা - যুগান্তর

Advertisement

পাহাড়ের বুক চিরে সৃষ্ট এক অদ্ভুত সুড়ঙ্গ-‘আলী সুড়ঙ্গ’। এখানে প্রবেশ মানেই অন্ধকারের গভীরে হারিয়ে যাওয়া আর শেষ প্রান্তে আলোর ঝলক। বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ‘আলী সুড়ঙ্গ’ যেন প্রকৃতির নিজ হাতে গড়া এক রহস্যময় বিস্ময়। রহস্য ঘেরা এ সুড়ঙ্গ দিন দিন পর্যটকদের কাছে রোমাঞ্চের নতুন ঠিকানা হয়ে উঠছে।

গভীর খাদে সুড়ঙ্গের দুই পাশে খাড়া পাথরের দেওয়াল ও চারপাশে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ ও নিস্তব্ধতা গা ছমছমে এক অনুভূতির সৃষ্টি করে। কিছু দূর এগোলেই চারপাশ ঢেকে যায় ঘুটঘুটে অন্ধকারে। আলো ছাড়া সামনে এগোনো প্রায় অসম্ভব। তবে সেই অন্ধকার ভেদ করে এগোলে একসময় দেখা মেলে সুড়ঙ্গের অপর প্রান্তে আলো। এ সুড়ঙ্গের নামকরণ ও উৎপত্তি নিয়ে নানা মতভেদ ও লোককথা রয়েছে। যা রহস্যকে আরও গভীর করে।

ট্যুর গাইডদের তথ্যমতে, সুড়ঙ্গটির দৈর্ঘ্য ৮০ থেকে ৯০ ফুট। ভেতরে কিছু অংশ অত্যন্ত সংকীর্ণ, যেখানে সতর্ক না হলে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া সুড়ঙ্গের অন্ধকার অংশে রয়েছে অসংখ্য বাদুড়ের বসবাস, যা পরিবেশকে আরও রহস্যময় করে তোলে। রহস্য ঘেরা আলী সুড়ঙ্গ পার হওয়া সহজ নয়। আলীকদম উপজেলা সদর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে মারমাদের মংচ প্রু পাড়া। এ পর্যন্ত যানবাহনে যাওয়া যায়।

এরপর দুর্গম পথচলা শুরু-ঘন জঙ্গলের ভেতর দিয়ে পায়ে হাঁটা পথ, পাশে বয়ে চলা তৈনখাল। খালের দুপাশে উঁচু পাহাড়ের সরু খাত ধরে প্রায় ৪০০ মিটার এগোলেই চোখে পড়ে সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখ। প্রায় ২০-২৫ ফুট উঁচুতে অবস্থিত প্রবেশপথে উঠতে আগে ছিল বড় ধরনের ঝুঁকি। তবে কয়েক বছর আগে সেনাবাহিনী সেখানে লোহার সিঁড়ি নির্মাণ করায় যাতায়াত অনেকটাই সহজ হয়েছে। ফলে পর্যটকদের আগ্রহও বেড়েছে।

প্রতি বছর বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে এখানে ভিড় করেন অসংখ্য পর্যটক। দুর্গম পথ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর রোমাঞ্চের মিশেলে আলী সুড়ঙ্গ এখন বান্দরবানের অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্রমণস্থল হিসাবে পরিচিতি পাচ্ছে।

প্রবীণদের মতে, ‘আলী সুড়ঙ্গ’ নামটির পেছনে রয়েছে মারমা ভাষার প্রভাব ও প্রাচীন লোকবিশ্বাস। তবে এর সঠিক ইতিহাস অজানা রয়ে গেছে। আর এ অজানা যেন ভ্রমণপ্রেমীদের আরও বেশি টানে এ রহস্যঘেরা সুড়ঙ্গে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম