শ্রীপুরে দুই সন্তানের সামনে মাকে ধর্ষণ
বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা
Advertisement
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাজীপুরের শ্রীপুরে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে দুই শিশুসন্তানের সামনে অসহায় এক নারীকে (২৫) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সোহরাব হোসেন নামের এক পান ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ওই নারী। এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিচার না পেয়ে সন্তানদের নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান ভুক্তভোগী নারী। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করেন। এ সময় তার বড় ছেলে (৪) আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করে ওই নারীসহ তাদের থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর পলাতক রয়েছে অভিযুক্ত পান দোকানি সোহরাব হোসেন। তার বাড়ি নেত্রকোনায়।
ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে একজনকে আসামি করে থানায় ধর্ষণ মামলা করেছেন। অন্যদিকে আটক দুজনকে ৫৪ ধারায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রীপুর থানার ওসি মো. শাহিনুর আলম।
ভুক্তভোগী নারী ঘটনার বর্ণনায় বলেন, কয়েক বছর আগে তার স্বামী তাকে ফেলে চলে গেছে। নিজ বাড়িতেও তাকে আশ্রয় দেওয়ার মতো কেউ নেই। অসহায় অবস্থায় তিনি শ্রীপুরের জৈনাবাজার এলাকায় একটি ঘর ভাড়া করে দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছিলেন। জীবিকা নির্বাহে আশপাশের এলাকায় ভিক্ষা করতেন। কয়েক মাসের ভাড়া বাকি পড়ায় বাড়ির মালিক তাকে মঙ্গলবার ঘর থেকে বের করে দেন। এরপর তিনি মাওনা চৌরাস্তায় এসে উড়াল সড়কের নিচে সন্তানদের নিয়ে বসেছিলেন। একপর্যায়ে সোহরাব নামের এক পান ব্যবসায়ী সেখানে তাকে দেখে এগিয়ে এসে সমস্যার কথা জানতে চান। পরে আশ্রয় ও টাকার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়ে ওই ব্যক্তি তাকে মাওনা চৌরাস্তার পূর্ব পাশে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে দুই সন্তানের সামনে ধর্ষণ করেন। এই ঘটনার কথা তিনি স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জানিয়ে বিচার চেয়েছেন। কিন্তু তারা বিচার না করে ৫০০ টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে বিদায় করতে চেয়েছিলেন। এরপর তিনি বিচারের জন্য আরও কয়েকজনের কাছে গিয়েও ব্যর্থ হয়ে মাওনা চৌরাস্তায় বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা চালান। এ সময় লোকজন দেখে ফেলায় তারা তাকে সেখান থেকে পানের আড়ত এলাকায় নিয়ে আসেন। এ সময় ওই নারী বারবার নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের কথা বলে বিচার চাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। সঙ্গে ওই নারীকেও নিয়ে যায় থানায়।
শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, এ ঘটনায় একজনকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা হয়েছে। আসামি মো. সোহরাব ওই এলাকায় ছোট্ট একটি পানের দোকান চালান। তার বাড়ি নেত্রকোনা জেলায়। তাকে গ্রেফতারের অভিযানের সুবিধার্থে বিস্তারিত ঠিকানা গোপন রাখা হয়েছে। অন্য দুই ব্যক্তি সম্পর্কে তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজন ওই দুই ব্যক্তিকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর ৫৪ ধারায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
