বিরোধী দলের উদ্দেশে রিজভী
চব্বিশের পরাজিত শক্তিকে আশকারা দেবেন না
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টন থেকে স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল ও ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এর আগে সমাবেশে বক্তৃতা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী (ইনসেটে) -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চব্বিশের পরাজিত শক্তিকে কোনো ধরনের আশকারা ও প্রশ্রয় না দেওয়ার জন্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ‘দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত শক্তিকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। এটা কোনোমতে হতে দেওয়া যাবে না।’
রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শুক্রবার বিকালে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
রিজভী বলেন, ‘চব্বিশের গণ-আন্দোলনের পরাজিত শক্তি বিভিন্নভাবে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসাবে সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন তথা আগের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এসব ষড়যন্ত্র চলছে। চব্বিশের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, তা নস্যাৎ করার কোনো অপচেষ্টাই সফল হতে দেওয়া যাবে না।’
দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘পরাজিত শক্তির রাজপথে কোনো কার্যক্রম চালানোর অধিকার নেই। তবে অন্য সব রাজনৈতিক দলের সমাবেশ করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।’
বিরোধী দলগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন ও সরকারের সমালোচনা করা গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা উচিত নয়, যার সুযোগ নিয়ে পরাজিত শক্তি আবারও রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হতে পারে।’
সাম্প্রতিক সময়ে বাসে আগুন, বিস্ফোরণ ও বোমা হামলার মতো ঘটনা তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘এগুলো পরিকল্পিতভাবে দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার অপচেষ্টা। এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের শান্তি ও সুরক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্বাধীন সরকার দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করেছে বলেই বিরোধী দলগুলো নির্বিঘ্নে বিভিন্ন কর্মসূচি, বিক্ষোভ ও মিছিল করতে পারছে।’
জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানীর সভাপতিত্বে সমাবেশে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা রেজাউল কবীর পল, বিল্লাল হোসেন তারেক, জিয়াউর রহমান জিয়া, জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, কামরুজ্জামান জুয়েল, নুরুল ইসলাম সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নাজমুল হাসান, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, শ্যামল মালুম, আমান উল্লাহ আমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।
সমাবেশে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী অংশ নেন। সমাবেশ শেষে নয়াপল্টন থেকে মিছিল বের করা হয়।
জাতিসংঘে বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের অন্তরের কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী : এর আগে বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম এলাকায় ওলামা দলের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল হয়। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণে বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের অন্তরের কথা প্রতিধ্বনিত হয়েছে। ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন-অস্ত্রের বদলে পরিবর্তনের হাতিয়ার হোক যুক্তি, তর্ক, কূটনীতি ও মানবতা। প্রতিটি দেশের সঙ্গে সমমর্যাদার সম্পর্ক বজায় রাখা এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি; যা সারা বিশ্বের দাবি। এছাড়া তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের শেষ অধিবেশনে দেওয়া তার এই ভাষণকে অভিনন্দন জানাই।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের তিন প্রজন্মের ধারাবাহিক প্রতিনিধি। তার বাবা জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে, মা বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯২ সালে ভাষণ দেন। আর এবার ভাষণ দিলেন তিনি।’
রিজভী বলেন, ‘সারা বিশ্বের মানুষ শান্তি চায়, যুদ্ধ চায় না। যুদ্ধ হলে জিনিসপত্র, খাদ্য, জ্বালানি ও গ্যাসের দাম বাড়ে। যুদ্ধ ও উত্তেজনার কারণে অর্থনীতি মন্দা হয় এবং মানুষ কাজ হারায়।’
জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা কাজী মো. সেলিমের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল এমপি, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এটিএম আব্দুল বারী ড্যানী প্রমুখ বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
