Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

যশোরে অঢেল সম্পত্তি

ভারতে রণজিতের কাছে যাচ্ছে দেশের টাকা

Advertisement

Icon

তৌহিদ জামান, যশোর

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতে রণজিতের কাছে যাচ্ছে দেশের টাকা

Advertisement

জমি জব্দ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ হলেও ‘রিসিভার’ নিয়োগ না হওয়ায় যশোর-৪ আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য রণজিত কুমার রায়ের সম্পদ থেকে আয়ের সিংহভাগই ভারতে পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই তিনি ও তার পরিবার ভারতে অবস্থান করছে। এরপর থেকে যশোর শহর ও বাঘারপাড়া উপজেলার খাজুরাসহ বিভিন্নস্থানে থাকা তার ফ্ল্যাট, বাড়ি, মার্কেট, দোকান ও মাছের ঘেরসহ বিভিন্ন সম্পদ দেখাভাল করা ব্যক্তিদের মাধ্যমে টাকা পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয় একাধিক সূত্র। তাদের দাবি, এসব সম্পদ থেকে প্রাপ্ত অর্থের একটি ক্ষুদ্র অংশ ব্যাংকে জমা হয়। আর বাকি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে রণজিতের কাছে পাঠানো হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, বাঘারপাড়ার খাজুরা বাজারে এক বিঘা জমিতে রণজিতের চারতলা ভবন রয়েছে। এর নিচতলায় কৃষি ব্যাংক, দোতলায় সোনালী ব্যাংক, তৃতীয়তলায় কর্মসংস্থান ব্যাংক এবং চতুর্থতলায় একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ফ্ল্যাট রয়েছে। নিচতলায় মার্কেটে কয়েকটি জুয়েলারি দোকান রয়েছে। এসবের মধ্যে শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাড়া জমা হয় অবরুদ্ধ ব্যাংক হিসাবে।

সোনালী ব্যাংকের খাজুরা শাখার ব্যবস্থাপক মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, দুদকের মামলার কারণে ২০২৫ সাল থেকে ব্যাংকের ভাড়ার টাকা অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হয়। একই কথা বলেন কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক পলাশ ঘোষ। তবে ওই মার্কেটে থাকা জুয়েলারি দোকানদারদের ভাষ্য, মামলার পর থেকে ভাড়া দেওয়া বন্ধ রয়েছে।

যশোর শহরের রেল রোডে রণজিত রায়ের একটি তিনতলা ও একটি পাঁচতলা বাড়ি রয়েছে। বাড়ির নিচে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ওপরে আবাসিক। পাঁচতলা ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চমতলার ফ্ল্যাটে রণজিৎ রায় সপরিবারে থাকতেন। এখানে দোকান, এনজিওর কার্যালয় ও আবাসিক ফ্ল্যাট রয়েছে। এই দুটি ভবন থেকে মাসে ৯৪ হাজার টাকা ভাড়া আদায় করেন দুর্গাপদ নামে এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ভাড়া উত্তোলনের টাকা যথাস্থানে পাঠানো হয়। কত টাকা কীভাবে, কার কাছে পাঠান-এসব বিষয়ে তিনি মুখ খোলেননি।

বড় বাজারে লোহাপট্টি রোডে রয়েছে একটি দ্বিতল ভবন রয়েছে। এতে মার্কেট ও আবাসিক ফ্ল্যাট আছে। এক ব্যবসায়ী জানান, মাসের ৫ তারিখের মধ্যে মইদুল নামে একজন টাকা সংগ্রহ করে নিয়েছেন। তবে তাকে পাওয়া যায়নি।

খাজুরা বাজারে দুই বিঘার বেশি একটি জায়গায় একটি নির্মাণাধীন মার্কেট রয়েছে। যাতে কয়েকটি দোকান ও একটি হোটেল রয়েছে। ওই হোটেলের ম্যানেজার রাশেদ মোড়ল বলেন, দোকানের ভাড়া কাকে দেন মালিক, আমার জানা নেই।

সাদিপুর গ্রামে জোড়াপুল বিলে প্রায় ২৩ বিঘা জমি রয়েছে রণজিত রায়ের। ওই জমির পূর্বদিকে তার ৮-৯ বিঘা চাষাবাদের জমি রয়েছে। এছাড়া যশোরের চৌগাছায় কপোতাক্ষ নদের পাড়ে ৪৫ বিঘা জমিতে পেয়ারা বাগান এবং কয়েকশ বিঘার মাছের ঘের রয়েছে রণজিতের। এছাড়া অভয়নগরের নওয়াপাড়া বাজারে রাস্তার পাশে ১০ শতক জমি রয়েছে; যার দাম ১৫-২০ কোটি টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যশোর ও খাজুরার কয়েকজন জানিয়েছেন, এসব সম্পদ দেখভালের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন মাস শেষে টাকা তুলে হুন্ডির মাধ্যমে রণজিতের কাছে পাঠাচ্ছেন।

জানা যায়, রণজিত দীর্ঘদিন ধরে বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি তিন মেয়াদে যশোর-৪ আসনের এমপি ছিলেন। প্রথমবার ৯ম নির্বাচনে দাবিকৃত সর্বসাকূল্যে তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রী নিয়তি রায়ের নগদ ৭০ হাজার টাকা ও ১৫ হাজার টাকা মূল্যের ৫ তোলা স্বর্ণ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, এমপি হওয়ার পর তিনি কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের আবেদনে ২০২৫ সালের মার্চে রণজিত, তার স্ত্রী নিয়তি রানী রায়, দুই ছেলে রাজীব ও সজিবের চারটি ফ্ল্যাট, দুটি বাড়ি, ৬০টি দোকানসহ ৭৯ দশমিক ৬২ বিঘা জমি জব্দ ও ১৩৭টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত।

এ বিষয়ে যশোর জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন জানান, মামলাটি প্রধান কার্যালয় থেকে করায় আমাদের কাছে হালনাগাদ তথ্য জানা নেই। সাধারণত এ ধরনের মামলায় আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সংযুক্ত থাকে। বাদী আদালতের মাধ্যমে রিসিভার নিয়োগ করাতে পারলে আসামির সমুদয় সম্পত্তি থেকে উপার্জিত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয়।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম