আধুনিক সেবার প্রসার
মেঘের রাজ্য মারাইংতং
Advertisement
মোহাম্মদ ইলিয়াছ, বান্দরবান
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলার সীমান্তজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা মারাইংতং পাহাড় পর্যটকদের কাছে নতুন কোনো নাম নয়। বহু বছর ধরেই এটি মেঘ-পাহাড়ের খেলা আর মাতামুহুরী নদীর রূপ দেখার অন্যতম জনপ্রিয় স্থান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ের চূড়া ও আশপাশের এলাকায় থাকার ব্যবস্থা এবং রিসোর্টভিত্তিক আধুনিক সেবার প্রসারে পর্যটনকেন্দ্রটিতে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
সবুজ পাহাড়ের চূড়ায় মেঘের আনাগোনা, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন ছুটে আসে ভ্রমণপিপাসুরা। আধুনিক সেবা যুক্ত হওয়ায় এখন ট্রেকারদের পাশাপাশি পরিবার-পরিজন নিয়েও পর্যটকরা অনায়াসে মারাইংতংয়ের প্রাকৃতিক রূপ উপভোগ করতে পারছেন।
ঢাকা থেকে ভ্রমণে আসা পর্যটক আল ফারুক রাহাত বলেন, মারাইংতংয়ের রূপের কথা অনেক আগেই শুনেছি, তবে পাহাড়ে রাত্রিযাপনের ভালো সুযোগ-সুবিধা থাকায় এবার পরিবার নিয়ে আসার সাহস করেছি। পরিবেশটা আগের মতোই অপরূপ, তবে অবকাঠামোগত কিছু সুবিধা যোগ হওয়ায় আমাদের মতো সাধারণ পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ এখন অনেক আরামদায়ক হয়েছে।
পর্যটকদের এই নিয়মিত আগমনে নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ব্যবসায়ী আজহার হোসেন জানান, মারাইংতং বহু পুরোনো পর্যটন স্পট হলেও আগে শুধু কিছু তরুণ ক্যাম্পিং করতে আসত। এখন রিসোর্ট আর থাকার ব্যবস্থা হওয়ায় সারা বছরই কমবেশি পর্যটক আসে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, গাইড এবং যানবাহন পরিচালকদের আয়ের সুযোগ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।
পর্যটনকেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং পরিবেশ রক্ষা নিয়ে জানতে চাইলে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম বলেন, মারাইংতং আমাদের এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান এবং ঐতিহ্যবাহী পর্যটন আকর্ষণ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি যেমন জনপ্রিয় হচ্ছে, তেমনি প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সচেষ্ট কর্তৃপক্ষ। আমরা নিয়মিত মনিটরিং করছি যেন পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট না করে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। একই সঙ্গে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সচেষ্ট রয়েছে।
প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে মারাইংতংকে আরও পরিকল্পিতভাবে সাজানো হলে এই ঐতিহ্যবাহী স্পটটি পার্বত্য বান্দরবানের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখবে বলে মনে করছে স্থানীয়রা।
তাছাড়া মারাইংতং পাহাড় ভ্রমণে যাওয়ার পথে লামা উপজেলার মিরিঞ্জাভ্যালী, মারাইংছা হিলসহ আরও কয়েকটি পর্যটন স্পট একই খরচে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। আবার মারাইংতং পাহাড় ভ্রমণের পর আলীকদম সদর থেকে আলীর সুড়ঙ্গ, পোয়ামুহুরী সড়কের অপরূপ সৌন্দর্যও উপভোগ করা যাবে।
যেভাবে যাওয়া যাবে : ঢাকা বা দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে মারাইংতং পাহাড়ে পৌঁছানোর জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক মাধ্যম হলো কক্সবাজারগামী দূরপাল্লার বাস। প্রথমে কক্সবাজারের বাসে করে এসে চকরিয়া বাস টার্মিনালে নামতে হবে। চকরিয়া বাস টার্মিনাল থেকে জিপ (চান্দের গাড়ি) অথবা লোকাল বাসে করে সরাসরি লামা বা আলীকদমে নামতে হবে। এরপর আলীকদম সড়কের মেম্বারপাড়া বা লামার সীমান্ত পয়েন্টে নেমে পাহাড়ি পথ ধরে হেঁটে চূড়ায় বা রিসোর্টে পৌঁছাতে হবে।
