রাজশাহী সিটি নির্বাচন
দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হলেও সরগরম ভোটের মাঠ
Advertisement
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত না হলেও সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের তৎপরতা শুরু হয়েছে। নগরী ছেঁয়ে গেছে ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড ও ফ্লেক্সে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে জোর প্রচার। পাড়া-মহল্লায় সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও ক্রীড়ানুষ্ঠানে নেতারা উপস্থিত হয়ে ভোটারদের মনযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। বেড়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক কার্যক্রম। প্রায়দিনই চলছে গণসংযোগ ও রাজনৈতিক সভা। এতে ভোটের কয়েকমাস আগেই মহানগরে নির্বাচনি উত্তাপ ছড়িয়েছে।
জানা গেছে, ক্ষমতাসীন বিএনপির হাফ ডজন নেতা মেয়র প্রার্থী হওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন। তারা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। জোরেশোরে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন-সৈয়দ শাহীন শওকত, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, মামুনুর রশিদ মামুন, মাহফুজুর রহমান রিটন, আবুল কালাম আজাদ সুইট ও ওয়ালিউল হক রানা। তবে দল এখনো কাউকে গ্রিন সিগনাল দেয়নি। এবার বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনার রেশটা একটু বেশি। গত ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর প্রান্তিক ব্যবধানে জয়ের পর এবার সিটি নির্বাচনে প্রার্থীদের নিয়ে দলের ভেতর-বাইরে আলোচনা চলছে। এদিকে আগেভাগেই বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে মেয়র প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করেছে। এর কয়েক মাস আগেই মেয়র প্রার্থী হিসাবে মহানগর আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলীর নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি। এ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি-জাপাও প্রার্থী দেবে বলে জানা গেছে।
জামায়াত ঘোষিত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর গত সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ (মহানগর) আসনে দলীয় প্রার্থী ছিলেন। ওই নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ৩৭০ ভোট পেয়ে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনুর কাছে মাত্র ২৮ হাজার ভোটে হেরেছিলেন। দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, মহানগরে জামায়াতের জনপ্রিয়তা কয়েকগুণ বেড়েছে। এবার তার পক্ষে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন নেতাকর্মীরা।
রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমির ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ-সদস্য ড. কেরামত আলী বলেন, সিটি নির্বাচনে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে বিজয়ী করতে আমাদের মাসব্যাপী বিশেষ গণসংযোগ কর্মসূচি চলছে। প্রার্থীর সমর্থনে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সুধী সমাবেশ করছি। স্থানীয় কর্মসূচিগুলোতেও আমাদের প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। পরে দলের পক্ষে আরও কর্মসূচি আসবে।
এনসিপির মেয়র প্রার্থী মোবাশ্বের আলীও নির্বাচনমুখী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, আমাকে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে আমি মাঠে আছি। এদিকে জাপার মহানগর আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন মিন্টু বলেন, নির্বাচন আসতে দেরি আছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।
এদিকে বিএনপির হাফ ডজন নেতা মাঠে সক্রিয় থাকলেও কেবল দলটির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ সম্পাদক এবং সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সরাসরি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা আছে। গত ১২ জুলাই বন উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান করায় তিনি রাজশাহী ছেড়ে ঢাকায় কেন্দ্রীভূত হয়েছেন। কয়েকমাস ধরে রাজশাহীর রাজনীতিতে অনুপস্থিত। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি আগামী সিটি নির্বাচনে আবারও দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী। তবে এ বিষয়ে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাসিকের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন প্রার্থী হওয়ার জন্য কাজ করছেন। রিটন প্রকাশ্যে বিষয়টি না বললেও নগরজুড়ে নিজের ও তার অনুসারীদের বিভিন্ন তৎপরতায় প্রতিদিন দেখা যাচ্ছে। তিনি দলীয় রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি ওয়ার্ড বা মহল্লার মসজিদ কমিটি, ক্রীড়া সংঘ, ক্লাব সমিতিতে যাচ্ছেন। তার ব্যানার ফেস্টুন ফ্লেক্সে ছেঁয়ে গেছে নগরী। চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচার।
এ বিষয়ে মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, রাজশাহীবাসীর মন জয় করাই আমার প্রথম কাজ। আমি সেই লক্ষ্যে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি দলের মূল্যায়ন ও মনোনয়নের ওপর নির্ভরশীল। দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করব। নগরবাসী সমর্থন দিলে রাজশাহীকে একটি আধুনিক মহানগরী হিসাবে গড়ে তোলার বিস্তৃত পরিকল্পনা রয়েছে।
সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হতে কর্মসূচিতে সক্রিয় রয়েছেন মহানগর বিএনপির সহসভাপতি ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট। নগরজুড়ে তারও ব্যানার ও ফেস্টুন সাঁটানো হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষাজীবন থেকে রাজনীতি করছি। সবসময় মানুষের পাশে ছিলাম এবং এখনো আছি। দল মনোনয়ন দিলে মেয়র পদে নির্বাচন করে নগরবাসীর সেবা করতে চাই।
মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন মেয়র প্রার্থী হওয়ার জন্য দলীয় ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। দল মনোনয়ন দিলে তিনি নির্বাচন করবেন বলে তার ঘনিষ্ঠ অনুসারীরা জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মেয়র পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মহানগর বিএনপির সহসভাপতি ওয়ালিউল হক রানা। তিনি বলেন, দলের সব কর্মসূচিতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছি। দল আমাকে মেয়র পদে নির্বাচনের সুযোগ দিলে বিপুল ভোটে জনগণের রায় পাব।
মেয়র নির্বাচনে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকতও আগ্রহী বলে জানা গেছে। তিনি নির্বাচনমুখী কর্মসূচিতে সক্রিয় রয়েছেন। নিজের ব্যাপারে তিনি বলেন, বিএনপি দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল। দলে রাজশাহীতে মেয়র প্রার্থী হওয়ার মতো অনেক যোগ্য নেতা আছেন। তবে দল জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা, সততা-সবদিক মূল্যায়ন করে একজনকেই মনোনয়ন দেবে। এখনো দল থেকে কাউকে গ্রিন সিগনাল দেয়নি।

