Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলা সরকারি কলেজ

নবাবের প্রতি নাটোরের মানুষের ভালোবাসা

Advertisement

Icon

মো. শহীদুল হক সরকার, নাটোর

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নবাবের প্রতি নাটোরের মানুষের ভালোবাসা

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলাকে এদেশের মানুষ শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় হৃদয়ের গহিনে ধারণ করে। এর মধ্যে নাটোরের মানুষ যেন একটু বেশি অগ্রগামী। বাংলাদেশে নাটোরবাসীই প্রথম তাদের প্রিয় নবাবের নামে একটি বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করেছে। যা আবার দেশে একমাত্র। নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলার সঙ্গে নাটোরের মানুষের আত্মার এই সম্পর্ক তৈরি করে দিয়েছেন অর্ধ বঙ্গেশ্বরী নাটোরের জমিদার মহারানীভবানী। কারণ রানীভবানী ছিলেন নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলার মতোই ইংরেজবিদ্বেষী।

ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর প্রান্তরে যুদ্ধে সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় নবাবের বিশাল সৈন্যবাহিনী যুদ্ধে পরাজিত হয়। সিরাজ-উদ্-দৌলার রাজ পরিষদ ছাড়াও নদিয়ার মহাপ্রতাপশালী রাজা কৃষ্ণচন্দ্র, রাজা মহেন্দ্র, রাজা রাম নারায়ণ, রাজা কৃষ্ণদাস ষড়যন্ত্র করে ইংরেজদের সহযোগিতায় উপমহাদেশে নবাব শাসনের অবসান ঘটিয়ে ইংরেজ শাসন সূচনায় ভূমিকা পালন করে। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম শুধু নাটোরের রানীভবানী।

তিনি ইংরেজদের এদেশে বাণিজ্য করার অধিকার না দেওয়ার জন্য নবাবকে উপদেশ দিয়েছিলেন। পলাশী যুদ্ধের মহড়া চলাকালীন থেকেই বিদুষী রানীভবানী এই এলাকার রাজা, জমিদার, অমাত্যবর্গের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলা সামান্য বালক মাত্র, অল্প দিন হয় তিনি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার সিংহাসনে বসেছেন। তাকে আপনারা সুচারুরূপে রাজ্য পরিচালনার সুযোগ দিন। আপনারা সবাই অভিজ্ঞ রাজপুরুষ। ইংরেজরা আক্রমণ করতে প্রস্তুত হয়েছে। এখন তরুণ নবাবের বিপন্ন্ন অবস্থা। এ অবস্থায় নবাবকে সাহায্য করলে শুধু তাকেই সাহায্য করা হবে না বরং বাংলা ও বাঙালিদের সাহায্য করা হবে। দিল্লির বাদশা আমাদের নামমাত্র শাসক, বাংলার নবাবই হিন্দু-মুসলমানদের ভাগ্য বিধাতা। তাই আপনারা নবাবের প্রতি আপনাদের বৈরী মনোভাব ত্যাগ করুন’। শুধু তাই নয়, যুদ্ধক্ষেত্রে রানীভবানী স্বসৈন্যে পলাশী প্রান্তরের দিকে যাত্রা করেন। কিন্তু পথেই নবাবের পরাজয়ের সংবাদ পেয়ে দুঃখভারাক্রান্ত মনে ফিরে আসেন।

রানীভবানী নবাবের নির্মম এই পরাজয় মেনে নিতে পারেননি। মানতে পারেননি নাটোরের মানুষরাও। এই হাহাকার নিয়ে নাটোরে উচ্চশিক্ষার প্রথম বিদ্যাপীঠ নাটোর কলেজের নাম পরিবর্তন করে ১৯৫৯ সালে কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটি নামকরণ করে-নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলা কলেজ। ১৯৮০ সালে সরকারিকরণকৃত জেলার বৃহত্তম এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ১৩টি বিষয়ে স্নাতক ও ১০টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে পাঠদান করা হয়। এই কলেজে বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে দশ হাজার। শহরের বড়গাছা এলাকায় নারদ নদের দুই পাশে ৩৪ বিঘা জমির ওপর সগর্বে দাঁড়িয়ে থাকা এ কলেজ জানান দিচ্ছে, জেলার বৃহত্তম এই কলেজের নামকরণে নাটোরবাসী গর্বিত।

নাটোরের সঙ্গে নবাবের ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে নাটোর কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট স্যাপার কলেজের বাংলা বিষয়ের সাবেক শিক্ষক ফারুক হোসেন নতুন এক উদ্যোগ নিয়েছেন। সিকান্দার আবু জাফরের নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলা নাট্যরূপকে যাত্রাপালায় রূপান্তর করে ‘চলন নাটুয়া’ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মঞ্চায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন।

ফারুক হোসেন বলেন, নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলার বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে জানানোই আমাদের উদ্দেশ্য। ইতোমধ্যে শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চসহ সারা দেশে ৪৪টি প্রদর্শনী করেছি। এটি নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলার বীরোচিত সংগ্রাম ও আত্মদান নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার মূল্য অনুধাবনে সাহায্য করবে বলে মনে করেন কলেজের সাবেক ছাত্র ও নাটোর সিটি কলেজের অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন খান।

নাটোর নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহাম্মদ আব্দুল বারী মির্জা বলেন, নবাবের সঙ্গে নাটোরের মানুষের হৃদয়ের সম্পর্ক গভীর। শুধু এই কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী নয়, পুরো নাটোর জেলাবাসী নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলাকে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সতত স্মরণ করে।

Advertisement

নাটোর

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম