জামায়াত নেতার হামলায় বিএনপি নেতা রহিম নিহত
প্রতিবাদে উত্তাল কক্সবাজার
Advertisement
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বিএনপি নেতা রহিম উদ্দিন সিকদার। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কক্সবাজারের রামু উপজেলার ভারুয়াখালীতে হামলায় বিএনপি নেতা রহিম উদ্দিন সিকদার নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মঙ্গল ও বুধবার শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধ ও সমাবেশ করেছেন। নিহতের পরিবার ও বিএনপি নেতাদের দাবি-জামায়াত নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের নেতৃত্বেই রহিম উদ্দিনকে হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার রাতে ভারুয়াখালী ইউনিয়নের ফাতেরঘোনায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন রহিম উদ্দিন সিকদার। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৬টায় তিনি মারা যান।
প্রতিবাদে উত্তাল কক্সবাজার : এদিকে বিএনপি নেতা হত্যার খবরে ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই শহরের লিংক রোড, কলাতলী, লাবণী, লালদীঘিরপাড়, তারাবনিয়ার ছড়া, কালোর দোকান ও থানার চৌরাস্তা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেন তারা।
পরিবারের অভিযোগ-জামায়াত নেতার নেতৃত্বেই পরিকল্পিত হত্যা : নিহত রহিম সিকদারের ভাই ও ভারুয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান বলেন, ‘রোববার রাতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আমার ভাইদের মারধর করা হয়। তার পরদিন সোমবার রহিমের ওপর নোমান, মিজান, মুজিব, এনামসহ জামায়াতসংশ্লিষ্ট একদল লোক সশস্ত্র হামলা চালায়। তারাই আমার ভাইকে হত্যা করে।’ কক্সবাজার জেলা বিএনপির নেতারা একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল বলে আখ্যা দিয়েছেন। জেলা যুবদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ আহমেদ উজ্জ্বল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘ফাতেরঘোনা ইউনিট জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমানের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে রহিম সিকদারকে হত্যা করা হয়েছে।’ হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত জামায়াত নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানকে বিভিন্ন সময় নৌকার পক্ষে ভোট চাইতে দেখা গেছে। আবার ৫ আগস্টের পর তিনি জামায়াতের একাধিক প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন জামায়াত নেতার সঙ্গে তার ছবি রয়েছে।
জামায়াতের দায় অস্বীকার : জামায়াতে ইসলামীর কক্সবাজার জেলা আমির নুর আহমদ আনোয়ারী এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে হয়ে থাকতে পারে। যদি কোনো দায়িত্বশীল সদস্য দলের সিদ্ধান্তের বাইরে অপরাধমূলক কাজে জড়ায়, তবে তা তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।’ তবে বিএনপি এই বক্তব্যকে ‘দায় এড়ানোর কৌশল’ বলেই অভিহিত করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রহিম উদ্দিনের সঙ্গে ফাতেরঘোনা মসজিদ কমিটির দীর্ঘদিনের জমিসংক্রান্ত বিরোধ ছিল। মূলত সেই বিরোধ থেকেই হামলার সূত্রপাত। কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইলিয়াস খান বলেন, ‘রহিম উদ্দিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক ও এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
প্রতিবাদে ঢাবিতে ছাত্রদলের মশাল মিছিল : ঢাবি প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালীতে জামায়াত নেতার হাতে বিএনপি নেতা আব্দুর রহিম সিকদার হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে মশাল মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসসি এলাকায় এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে সংগঠনটি। মশাল মিছিল পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তৃতা করেন-ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস। তিনি বলেন, পরশু দিন কক্সবাজারে ইউনিয়ন জামায়াতের এক ঘাতক বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রহিম উদ্দিন সিকদারকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমরা এই হত্যার সর্বোচ্চ বিচার দাবি করছি। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাবি শাখার সিনিয়র সহসভাপতি মাসুম বিল্লাহ, সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আলম ভূঁইয়া ইমন।
