Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

গোপালগঞ্জে কবর থেকে তোলা হলো ৩ জনের লাশ

Advertisement

Icon

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

গোপালগঞ্জে কবর থেকে তোলা হলো ৩ জনের লাশ

Advertisement

গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচি ঘিরে সংঘর্ষে নিহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের লাশ সোমবার ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে তোলা হয়েছে। রোববার হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অধীন গোপালগঞ্জ আমলি আদালতে এ বিষয়ে আলাদাভাবে আবেদন করেন। পরে বিচারক রোমানা রোজি মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ কবর থেকে তোলার নির্দেশ দেন।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, এর আগে পুলিশ বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় চারটি হত্যা মামলা করেছিল। যে তিনজনের লাশ তোলা হয়েছে, তারা হলেন রমজান কাজি, ইমন তালুকদার ও সোহেল রানা মোল্লা। সোমবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে শহরের গেটপাড়া পৌর কবরস্থান থেকে রমজান কাজি ও ইমন তালুকদারের লাশ তোলা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাসেল মুন্সি ও রন্টি পোদ্দার উপস্থিত ছিলেন। তাদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিকাল ৩টায় টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার মোল্লাবাড়ি কবরস্থান থেকে তোলা হয়েছে সোহেল রানার লাশ। এ সময় টুঙ্গিপাড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফ দস্তগীর উপস্থিত ছিলেন। তার লাশও একই হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহত অপর দুজনের মধ্যে দীপ্ত সাহার লাশ ঘটনার দিন (১৬ জুলাই) রাতেই গোপালগঞ্জ পৌর মহাশ্মশানে দাহ করায় ময়নাতদন্ত করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া গুলিবিদ্ধ রমজান মুন্সি ১৮ জুলাই রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সেখানেই তার লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। নিহত ইমন তালুকদারের মামাতো ভাই রাইস মিল শ্রমিক রানা ভুইয়া বলেন, আমার ভাইকে গুলি ও নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। আমরা তার হত্যার বিচার চাই। তিনি বলেন, ইমনের পরিবার খুবই গরিব। টাইলস মিস্ত্রির জুগালির কাজ করে ইমন তার পরিবারে অর্থের জোগান দিত। তার বাবা মানসিক রোগী। আরেক ভাই বেকার। টানাপড়েনের সংসারে কিশোর বয়সে তাকেই সংসারের সব দায়িত্ব নিতে হয়। ইমনের মৃত্যুতে পরিবারটি একেবারে সর্বস্বান্ত হয়ে গেল।

এদিকে, গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এফ ই শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর, সাবেক সংসদ সদস্য এম এইচ খান মনজু পৃথক বিবৃতিতে এনসিপির কর্মসূচিতে হামলা ও সহিংসতার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে এবং নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয় সে ব্যাপারেও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা। এছাড়া, সোমবার জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুজ্জামান ও যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কাজী আবুল খায়ের এনসিপির সমাবেশে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এ সময় জেলা বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম, জিয়াউল কবির বিপ্লব, শেখ হাসিবুর রহমানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম