কথোপকথন ফাঁস
আ.লীগ নেতার কাছে বিএনপি নেতার চাঁদা দাবি
Advertisement
বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দুই লাখ টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে একাধিক মামলা থেকে বাঁচানোর আশ্বাস দিয়েছেন বিএনপির এক নেতা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হক ও একই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম অলি আহমেদের মধ্যে এ প্রসঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়। কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড যুগান্তরের হাতে এসেছে। কথোপকথনে বিএনপি নেতা আব্দুল হক আ.লীগ নেতাকে বলেন, ‘জেলা-উপজেলার নেতারা পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছিল। আমি বলেছি তোমার ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাব যাচ্ছে। তাই আপাতত দুই লাখ দিলে নামটি কেটে দিতে।’ কথোপকথনটি তুলে ধরা হলো-
বিএনপি নেতা : হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম।
আ.লীগ নেতা : জি ভাইজান, আসসালামু আলাইকুম। কালকে তো কথা বলছিলেন, আমি তো আর সময় দিতে পারিনি। ভুটানে ছিলাম তো। বিষয়টি গুছিয়ে বলেননি তো।
বিএনপি নেতা : আছেন কই?
আ.লীগ নেতা : ভুটানেই আছি।
বিএনপি নেতা : ওই যে মামলা পেন্ডিং রয়েছে। বারবার বলতেছে তালিকা দেওয়ার জন্য।
আ.লীগ নেতা : আচ্ছা।
বিএনপি নেতা : আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, পাহাড়পুর ইউনিয়নের বিশেষ বিশেষ কেডা কেডা আছে দেওয়ার জন্য। উপরের মহলরে কিছু দিলে হেরার মুখ বন্ধ করলাম।
আ.লীগ নেতা : জি জি। আমি বলি ভাই, আমি এতদিন রাজনীতি করে আসছি। আমি কারও কোনো ক্ষতি করি নাই। আমি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করার সময় নিজে দল থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়েছি। স্বতন্ত্র নির্বাচন করার পরেও দল থেকে আমাকে বহিষ্কার করেছে। এখন তো আমি আওয়ামী লীগের কিছু না। তারপরও যদি মামলা দেয় আর কি করমু। এখন এটা কি করা যায় আপনি বলেন আমাকে।
বিএনপি নেতা : এটা হলো, আমাকে যেটা বলছে হেরা, আমার কাছে চাইছিল, লাখ দুই লাখ টাকা নিয়ে দিলে এটা বন্ধ করা যাবে।
আ.লীগ নেতা : আপনি তো দেখছেন, আমার ছেলেমেয়ে নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করতেছি। এলাকাতেও যাই না। এখন আপনি যে সময়টা বলছেন, একবার আপনি অসুস্থ ছিলেন, আমি যতটুকু পারছি আপনারে সহযোগিতা করেছি, তাই না?
বিএনপি নেতা : অবশ্যই, অবশ্যই।
আ.লীগ নেতা : আপনি আমার ভাই। আপনারে থুইয়া যদি দুই লাখ টাকা আমার দেওয়া লাগে। তাহলে আপনাদের কি ইজ্জত থাকে? আমি আর এ দেশে বাইচ্চা কি করব?
বিএনপি নেতা : না না, বিষয়টি এ রকম না। আমি বিষয়টা বন্ধ না করলে হেরা কেউ না কেউ দিয়া লাইব। দিয়া লাইলে তো আমারে দোষারোপ করবা তুমি। এজন্য আমি তোমাকে বলছি। আমি যত রকম পারি চেষ্টা করছি বাঁচাইয়া রাখার জন্য।
এই দুই নেতার আরেক ভয়েস রেকর্ডে শোনা যায়, ‘তোমাকে যে বলছিলাম তিনটা মামলা পেন্ডিং হয়ে রয়েছে। তারা (জেলা-উপজেলার নেতা) আমাকে ফোন দিচ্ছে যাওয়ার জন্য। উবায়দুল মোকতাদির সাহেব এক নাম্বার আর তোমাকে চাচ্ছে দুই নাম্বার আসামি দিত। আমার কাছে ৫ লাখ চাইছিল। আমি বলছি ৫ লাখ দিতে পারবে না। এই মুহূর্তে তার ব্যবসা নাই। বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে আছে। আমি কোনো রকম দুই লাখ ব্যবস্থা করে নিয়ে দিমু আপনাদের কাছে। ওকে মামলায় ফালাইলে একটু সমস্যা হয়। সে আমার আত্মীয় হয়। আমি এসব কথাবার্তা বলে হেরারে মানিয়ে রাখছি। ঠিক আছে এ সপ্তাহের ভেতরে যেটা করার করতে হবে। যত রকমের কষ্টই হয় তুমি এটা তাড়াতাড়ি করো। পচা শামুকে পা কাটা ঠিক না। আমি চাই না তোমার কোনো ক্ষতি হউক।
পাহাড়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হক এই কথোপকথন ও ভয়েস রেকর্ডের বিষয়ে যুগান্তরকে বলেন, আমাকে ফাঁসাতে আমার প্রতিদ্বন্দ্বীরা এমন চক্রান্ত করছে। আমি অলি আহমেদের সঙ্গে এ ধরনের কোনো আলোচনা করিনি।
পাহাড়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম অলি আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে ভুটানে অবস্থান করে ব্যবসা-বাণিজ্য করছি। আমার এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করতে গিয়ে আমি অনেক আগেই দল থেকে অব্যাহতি নিয়েছি। তার এমন চাওয়ায় আমি অবাক হয়েছি। তাদের দলের ঊর্ধ্বতন মহলে বিষয়টি জানিয়েছি। দেখি তারা কী ব্যবস্থা নেন।
বিজয়নগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইমাম হোসেন বলেন, বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি বা আওয়ামী লীগকে শেলটার দেওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
