Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র

লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন কারাগারে

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন কারাগারে

Advertisement

রাজধানীর শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত এ আদেশ দেন। আদালতে লতিফ সিদ্দিকীসহ কয়েকজন জামিন আবেদন করেননি। একজন আইনজীবী জামিন প্রার্থনার জন্য ওকালতনামায় স্বাক্ষর দিতে বললে তিনি বলেন, যে আদালতের জামিন দেওয়ার ক্ষমতা নেই, তার কাছে কেন জামিন চাইব? আমি ওকালতনামায় স্বাক্ষর করব না, জামিনও চাইব না।

কারাগারে পাঠানো অন্যরা হলেন-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন), মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন, সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না, কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল, গোলাম মোস্তফা, মো. মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু, মো. জাকির হোসেন, মো. তৌছিফুল বারী খান, মো. আমির হোসেন সুমন, মো. আল আমিন, মো. নাজমুল আহসান, সৈয়দ শাহেদ হাসান, মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, দেওয়ান মোহম্মদ আলী ও মো. আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম।

এদিন সকালে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তৌফিক হাসান তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। এতে বলা হয়, লতিফ সিদ্দিকী ‘মঞ্চ ৭১’-এর ব্যানারকে পুঁজি করে প্রকৃতপক্ষে দেশকে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে অস্থিতিশীল করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও অন্যদের প্ররোচিত করে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। তার এই ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্যের জন্য উপস্থিত লোকজন তাদের ঘেরাও করে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বলে স্লোগান দেন। মামলাটি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং আসামিদের নাম-ঠিকানা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাদের জেলে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। এছাড়া তদন্তের স্বার্থে পরবর্তীতে ব্যাপক ও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামিদের পুলিশ রিমান্ডে পাওয়ার আবেদন করা হবে। পরে আসামিপক্ষে আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখিসহ অন্যরা জামিন চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করেন।

ফারজানা ইয়াসমিন রাখী শুনানিতে বলেন, এখানে কেউ বীর মুক্তিযোদ্ধা, কেউ সাংবাদিক আবার কেউ শিক্ষক। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বললে আক্রমণ করতে হবে? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে তারা কথা বললেন, তাদের মব সৃষ্টি করে মানহানি করা হলো। তারা জুডিশিয়ারি প্রেসারের শিকার। অন্যায়ভাবে আইন প্রয়োগের শিকার। আমরা ন্যায়বিচার চাই। এরপর আরও কয়েকজনের পক্ষে জামিন চেয়ে শুনানি করা হয়। তবে লতিফ সিদ্দিকীসহ কয়েকজন জামিন আবেদন করেননি। এরপর রাষ্ট্রপক্ষে কাইয়ুম হোসেন নয়ন যুক্তি তুলে ধরে তাদের জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

শুনানি শেষে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় শিক্ষক কার্জন বলেন, আমি তো মারা যাব। আমাদের মেরে ফেলবে। আমরা সন্ত্রাসের শিকার, আমাদের জেলে নিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ, আদালত আমাদের কোনো বিচার দেয়নি। আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। দেশ এখন পাকিস্তানিপন্থিদের হাতে। এটা চলবে না। ইনশাআল্লাহ এ দেশটাকে আমরা অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে পরিণত করব।

আদালত চত্বরে সংবিধানের বই উঁচু করে সাংবাদিকদের দেখিয়ে বলেন, এটা মুক্তিযুদ্ধের সংবিধান। আমরা রক্ষা করব। মুক্তিযুদ্ধের সংবিধান ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে, ৫ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে এ সংবিধান। এই সংবিধান, দেশ আমরা রক্ষা করব।

সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না বলেন, যারা সন্ত্রাস করল তাদের ধরল না। আর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ, মুক্তিযুদ্ধের কথা বললেই, লিখলেই সন্ত্রাসী হয়ে যায়।

তবে এ সময় কোনো কথা বলেননি লতিফ সিদ্দিকী। কারাগারে নেওয়ার পথে সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চান, কিছু বলার আছে কিনা। তখন লতিফ সিদ্দিকী মাথা নাড়িয়ে জানান, তিনি কিছু বলবেন না। আইনজীবী সাইফুল ইসলাম সাইফ বলেন, জামিন প্রার্থনার জন্য তার কাছে ওকালতনামায় স্বাক্ষর করতে যাই আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে। তখন তিনি বলেন, যে আদালতের জামিন দেওয়ার ক্ষমতা নেই, তার কাছে কেন জামিন চাইব? আমি ওকালতনামায় স্বাক্ষর করব না, জামিন চাইব না। যতবার স্বাক্ষর করতে যাই, ততবারই তিনি এ কথা বলেন, তিনি জামিনের প্রার্থনা করেননি।

এদিকে শুনানি শেষে শিক্ষক কার্জনের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী সাংবাদিকদের বলেন, গ্রেফতারের পর লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে যেখানে রাখা হয়েছে সেখানে একটি ফ্যান পর্যন্ত ছিল না। ধুলোবালির মধ্যে তাদের রাখা হয়। তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে। সেখানে সংবিধানের ৩৩ আর্টিকেল অনুসারে যে অধিকার রয়েছে সেটি লঙ্ঘন করা হয়েছে। মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে গত ৫ আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

এ সংগঠনের উদ্দেশ্য জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়া। এর অংশ হিসাবে ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেগুনবাগিচায় বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর মধ্যেই এক দল ব্যক্তি স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে ঢুকে পড়েন। একপর্যায়ে তারা অনুষ্ঠানস্থলের দরজা বন্ধ করে দেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজনকে লাঞ্ছিত করেন। তারা গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং আলোচনায় অংশ নেওয়াদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে অতিথিদের অনেককেই বের করে দেওয়া হলেও আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ এসে ১৬ জনকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন এসআই আমিরুল ইসলাম। পরে এ মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম