চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ
দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৬৩ লাখ ৭৫০৪ জন
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চলতি বছর দ্বিতীয় ধাপে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৬৩ লাখ ৭ হাজার ৫০৪ জনে। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪১ লাখ ৪৫৫ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২২ লাখ ৫ হাজার ৮১৯ জন। হিজড়া ১২৩০ জন। রোববার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, এ বছর তিনটি ভোটার তালিকা প্রকাশ করার কথা। এর মধ্যে একটি ২ মার্চ প্রকাশ করেছি। একটি আজকে (রোববার) চূড়ান্ত করেছি। এটার খসড়া তালিকা ১০ আগস্ট প্রকাশ করেছিলাম। জাতীয় নির্বাচনের আগে আরেকটি ভোটার তালিকার খসড়া ৩১ অক্টোবর প্রকাশ করব।
ইসির হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৩২ হাজার ২৭৪ জন। এরপরে হালনাগাদ তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ৪৭ লাখ ৮ হাজার ৮৫৮ জন নতুন ভোটার।
এছাড়া ২১ লাখ ৩৮ হাজার ৬২৮ জন মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৬৩ লাখ ৭ হাজার ৫০৪ জনে।
ইসি সচিব জানান, ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তাদের নিয়ে একটি তালিকা প্রকাশ করব। সেটার সময় অনুযায়ী নির্ধারিত করে আমরা ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করব।
বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে কাজ করছে ইসি : এদিন চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ন্যাশনাল কনসালটেশন অন ইনক্লুসন অব পারসন উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিস ইন ইলেকটোরাল প্রসেস’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তব্য দেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। এ সময় তিনি বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের জন্য সব জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সব জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টিও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে বয়স্ক, শারীরিকভাবে অক্ষম ও প্রতিবন্ধী ভোটারদের সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য ইসি কাজ করছে।’
ইউএনডিপি, নির্বাচন কমিশন ও সাইটসেভারর্স এ কর্মশালার আয়োজন করে। এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ আরও বলেন, ‘আজকের আলোচনাটাই ৩৬ জুলাইয়ের ফসল। কারণ, আমরা যেখানে নির্বাচনই ভুলে গিয়েছিলাম, নির্বাচনে অংশগ্রহণ তাও আবার বিশেষভাবে চাহিদাসম্পন্ন মানুষের এগুলো তো প্রায়োরিটি লিস্টের অনেক পেছনে ছিল। এখন অন্তত পক্ষে এটা সামনে এসেছে, আমরা এটা নিয়ে বলতে পারছি। প্রতিবন্ধীদের বিষয়ে সমাজ, দেশ ও জাতি হিসাবে অনেক বেশি করণীয় রয়েছে।’
এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, সার্বিকভাবে পুরো সমাজেই তাদের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা করতে পারেনি। ইসি এর বাইরে নয় এটা দুঃখজনক। ... আমাদের অনেক পথ এগোতে হবে। মানসিকভাব যারা আসবেন না, তাদের ছাড়া সবার ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। শুধু দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নয়, যাদের হাত কাঁপে, কেন্দ্রে যেতে পারেন না, শুধু প্রতিবন্ধী নন যারা বয়স্ক, তাদেরও সহায়তা দেওয়ার বিধান রয়েছে। প্রতিবন্ধীদের ভোটে অংশ নেওয়ার জন্য সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে।
কর্মশালায় ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, সংবিধানের কোনো ধারাতেই প্রতিবন্ধীদের (ভোটাধিকারে) রেস্ট্রিকশন আনা হয়নি। আমাদের দিক থেকেও তাদের ভোটে অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো অসুবিধা নেই। কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার।
