কবি আশিক রেজার নতুন দুই বই
Advertisement
মেহেদী হাসান
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
‘ক্লান্ত আগ্নেয়গিরি, আবার ঘুমাও’ ও ‘বিশ্বে বাংলা ভাষার প্রতিবেশ’-এর পাঠোৎসবে বক্তারা বলেন, ‘আমাদেরকে এই বই দুটোর কাছে ফিরে ফিরে আসতে হবে’। সভার আলোচকরা বলছেন, আশিক রেজার কবিতা শুধু শিল্পের প্রয়োজনে নয়, জাতির স্বর বুঝতে, বাংলাদেশের সমাজবাস্তবতার ভিত্তি ও আগামী দিনের পথরেখা জানতে তার কবিতা আরও বেশি করে পড়া প্রয়োজন। সম্প্রতি রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘কালের ধ্বনি’র উদ্যোগে এ দুটি গ্রন্থের পাঠোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কবি, কালের ধ্বনি সম্পাদক ইমরান মাহফুজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রখ্যাত গীতিকার শহীদুল্লাহ ফরায়েজী। সভাপতির বক্তব্যে শহীদুল্লাহ ফরায়েজী বলেন, ‘স্বপ্নটাকে দেখতে হবে, স্বপ্ন না দেখার কারণেই স্বপ্ন হাতছাড়া হয়ে যায়। রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিবর্তনের স্বপ্ন যদি দেখতে না পারি, রাষ্ট্রব্যবস্থা যদি বদলের ব্যবস্থা না করতে পারি, রাষ্ট্রব্যবস্থা রূপান্তরের স্বপ্ন যদি না দেখতে পারি, তবে আবার রক্ত দেব, আবার ব্যর্থ হব। রূপান্তরের স্বপ্নটা স্পষ্ট করে দেখতে হবে’। ফরায়েজী তার ‘খুনির কোনো সংবর্ধনা হয় না’ কবিতা আশিক রেজাকে উৎসর্গ ও আবৃত্তি করেন। প্রধান আলোচক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, দৈনন্দিন জীবনের অলিগলিতে জাতিসত্তার প্রশ্ন, বাংলাভাষা ও ভাষা আন্দোলনের বাস্তবতা নিয়ে ‘বিশ্বে বাংলাভাষার প্রতিবেশ’ বইটি গুরুত্বপূর্ণ। ক্লান্ত আগ্নেয়গিরিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ‘ক্লান্তি’ ও বিপ্লবের ক্ষমতাকেন্দ্রিকতার নির্দেশক হিসাবে অভিহিত করেন কবি ইব্রাহীম নিরব। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আরিফ খান বিশ্বে বাংলা ভাষার প্রতিবেশ সম্পর্কে বলে ‘এই বই প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট একটি জাতীয় দায়িত্ব পালন করেছে। রাজনীতিবিদ কবি শ্মশান ঠাকুর, বিশ্বে বাংলা ভাষার প্রতিবেশ বইটির উত্তর ঔপনিবেশিক বিনির্মাণকে ‘খুবই দরকারি’ মন্তব্য করেছেন। বক্তারা বলেন, আশিক রেজার কবিতায় সমকালীন সমাজ, রাষ্ট্র, রাজনীতি ও মানুষের পুঞ্জীভূত অভিজ্ঞতার প্রতিফলন রয়েছে। অন্যদিকে ‘বিশ্বে বাংলাভাষার প্রতিবেশ’ বাংলা ভাষার বৈশ্বিক বিস্তার, অবস্থান ও প্রতিবেশ সম্পর্কে পাঠককে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। আলোচনায় আরও অংশ নেন ড. কাজল রশীদ শাহীন, চিত্রপরিচালক অনার্য মুর্শিদ, কবি ও কথা সাহিত্যক ফরিদুল ইসলাম নির্জন, কবি সানাউল্লাহ সাগর, কবি ও সাহিত্য সম্পাদক মীর হেলাল ও কবি রাসেল আবদুর রহমান। কবিতা আবৃত্তি করেন স্বনামধন্য আবৃত্তিকার আলমগীর ইসলাম শান্ত।
