Logo
Logo
×
   

Advertisement

সাহিত্য সাময়িকী

এ বছরের নোবেল সাহিত্য পুরস্কার নিয়ে জল্পনা-কল্পনা

Advertisement

Icon

ওয়াহিদ কায়সার

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

অক্টোবরের আগের আর প্রথম সপ্তাহে সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে নোবেল পুরস্কার। শান্তি আর সাহিত্য নিয়ে যে মাতামাতি হয়, সেটা নোবেলের অন্য কোনো শাখা নিয়ে হয় না। এমনকি বাজি ধরাও শুরু হয়ে যায় এ দুই শাখায় কে নোবেল পাবেন সেটা নিয়ে। তবে আমার মনে হয় শান্তির চেয়ে উত্তেজনার পারদ বেশি ওঠে সাহিত্যের থার্মোমিটারেই।

এক শতাব্দী পার করে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার এখনো বাকি সব সাহিত্য পুরস্কারের চেয়ে খানিকটা আলাদাই রয়ে গেছে। যশ আর আর্থিক মূল্যমানের বিষয়টা তো এখানে রয়েছেই, এর সঙ্গে আছে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে পুরস্কারের জন্য মনোনীত ব্যক্তি বিবেচনায় আনার ক্ষেত্রে গোপনীয়তা। ঘোষণার আগে দুই বুকার, প্রি গোকুঁ, ইন্টারন্যাশনাল ডাবলিন লিটরারি অ্যাওয়ার্ডসহ পরিচিত প্রায় সব সাহিত্য পুরস্কার একটা উত্তেজনার আবহ তৈরি করে রাখে, লংলিস্ট আর শর্টলিস্ট প্রকাশের মাধ্যমে। নোবেল পুরস্কার এসবের মধ্যে নেই। তবুও এ পুরস্কার নিয়ে উত্তেজনা আর মাতামাতির অন্ত নেই।

অন্য বছরের মতো এবছরও সাহিত্যে নোবেল নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে। আগের বছর অনেকেই ধারণা করেছিলেন এশিয়ার কেউ নোবেল পাবেন, কারণ ২০১২ সালের পর এশিয়া থেকে কেউ এ শাখায় নোবেল পাননি। সেক্ষেত্রে চীনের লেখক কান শ্যু, ইয়ান লিয়ানকে, য়ু হুয়া, ভিয়েতনামের লেখক বাও নিনহ, জাপানি পপ লিটারেচারের সুপারস্টার হারুকি মুরাকামি, দক্ষিণ কোরিয়ার কবি কো উন গতবছরের মতো এবারও আলোচনায় আছেন। তাদের সঙ্গে আলোচনায় এগিয়ে আছেন ঢাকা লিট ফেস্টে আসা দুজন। সিরিয়ান কবি আদুনিস এবং ভারতীয় লেখক অমিতাভ ঘোষ। এখানে একটা বিষয় হয়তো এবছর নোবেল কমিটির মনে আসতে পারে। হাজার বছর ধরে ফারসি সাহিত্য বিশ্বকে মাতিয়ে রাখলেও ইরান থেকে এখন পর্যন্ত কেউ এ শাখায় নোবেল পুরস্কার পাননি। নোবেল কমিটি যদি কোনো ইরানি লেখককে এবছর নোবেল দিতে চান তবে মাহমুদ দৌলতাবাদি, শাহরিয়ার মান্দানিপুর অথবা শাহরনুশ পারসিপুরকে বেছে নিতে পারেন। পুরস্কার যদি ফিলিস্তিনের দিকে যায় তবে লেখিকা শাহার খালিফেহ অথবা ঢাকা লিট ফেস্টে আসা আরেক গুণী লেখক ঘাসান যাকতানের দিকেও যেতে পারে।

নোবেল পুরস্কারে যেহেতু অঞ্চল এবং ভাষার ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দেওয়া হয়, সে হিসাবে এবছর লাতিন আমেরিকা এশিয়ার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে লাতিন আমেরিকার লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা আছে সিজার আইরার। বোর্হেসের দেশের এ লেখকের বইগুলো পৃষ্ঠার দিক দিয়ে খুব বেশি বড় না হলেও বিদগ্ধ পাঠকসমাজে তার জনপ্রিয়তা ব্যাপক। আইরার সঙ্গে আলোচনায় আছেন মেক্সিকোর কবি ওমেরো আরিহিস, লেখিকা এলেনা পনিয়াতোওস্কা, চিলির কবি রাউল যুরিতা।

তবে ইউরোপ সব সময় নোবেল পুরস্কারের জন্য ফেভারিট, কারণ অনেক সমালোচক-ই বলেন, নোবেল পুরস্কার এখনো ইউরোসেন্ট্রিজম থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি। পুরস্কারটা এবারও ইউরোপে থেকে গেলে সেখানে প্রথমেই নাম আসবে ইতালীয় লেখক ক্লদিও মাগরিস, হাঙ্গেরির ঔপন্যাসিক লাজলো ক্রাজনাহোরকাই আর রোমানিয়ার লেখক মির্চা কারতারেস্কুর। মাগরিস তার একটা মাত্র উপন্যাস, দানিউব, দিয়ে দুনিয়া মাত করে রেখেছেন। তাই তিনি এ পুরস্কার পেলে অবাক হব না। আর দেশ হিসাবে নাম এলে আসবে স্পেইন এবং জার্মানির। কারণ এ দুটো দেশ থেকে অনেক বছর ধরে কেউ সাহিত্যে নোবেল পাননি। এজন্য স্পেইনের এনরিক ভিয়া-মাতাস, আন্তোনিও মুনোজ মলিনা, আর জার্মানির বথো স্ত্রাউস এ পুরস্কার পেতে পারেন। এছাড়া ডাচ লেখক সিজ নোটেবুম, রাশিয়ার লুদমিলা উলিতস্কায়া, মিখাইল শিশকিন, ভ্লাদিমির সরোকিন, ইজরায়েলের ডেভিড গ্রসমানও পুরস্কারের দৌড়ে আছেন।

পরপর দুই বছর (২০২০, ২০২১) ইংরেজি ভাষা থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়ায় এবছর যদিও ইংরেজি ভাষাতে লেখেন এরকম লেখকদের সম্ভাবনা কম, তারপরও এ ভাষায় লেখেন এরকম কেউ এ পুরস্কার পেলে নাম আসবে আমেরিকার ডন ডিলিল, ভারতীয় বংশোদ্ভূত কানাডীয় লেখক রোহিন্তন মিস্ত্রি, বুকারজয়ী কানাডীয় লেখক মাইকেল ওনদাচি, আয়ারল্যান্ডের লেখক কলাম ম্যাককান, এডনা ও’ব্রায়ান, অস্ট্রেলিয়ার রিচার্ড ফ্লানাগানের। তবে আমি খুব খুশি হব যদি আমার প্রিয় লেখক অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড মালুফ অথবা জেরাল্ড মুরনেইন এবছর নোবেল পান।

আফ্রিকা থেকে আগের মতোই আলোচনায় আছেন মোজাম্বিকের মিয়া কুতো, মরক্কোর লেখক তাহার বেন জাল্লুন, আর আবদেললাতিফ লাবি। কেনিয়ার গুগি ওয়া থিয়ঙ’অ-এর নামের পাশে যোগ হয়েছে অনেক পুরস্কার, নোবেল এবছর সেখানে যোগ হলে ভালোই হবে।

গত কয়েক বছরের নোবেল বিজয়ীদের লেখা বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, নিরীক্ষাধর্মী লেখা নোবেল কমিটির বিবেচনায় বেশি আসছে। সেটা এবছরও বহাল থাকবে কিনা বলা মুশকিল। কে এ বছর নোবেল পাবেন সেটার জন্য চোখে রাখতে হবে অক্টোবরের ১০ তারিখ পর্যন্ত।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম