রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাক
Advertisement
ঐশি আলম পৃথ্বি
প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০২৩, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশে শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা ইত্যাদি ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ আশানুরূপ নয়-যদিও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেত্রী, এমনকি বর্তমান সংসদের স্পিকারও নারী। নারী রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে নবম। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোয় কমপক্ষে ৩৩ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ আবশ্যক। কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলই এ শর্ত পূরণে সক্ষম হয়নি। অনেক ইসলামি রাজনৈতিক দলে নারী সদস্য প্রায় নেই বললেই চলে। এসব দলে নারী সদস্য থাকলেও তারা সক্রিয় নন। অর্থাৎ কোনো মিটিং, মিছিল, সভা, সমাবেশে তারা অংশগ্রহণ করেন না। ফলস্বরূপ তাদের মতামতের কোনো গুরুত্ব নেই। এমনকি আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মতো বড় দলগুলোয় দেখা যায় কমিটিতে নারী সদস্য অনেক কম। তিনভাগের একভাগ নারী সদস্যও কমিটিতে পাওয়া যায় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, পারিবারিকভাবে বা পারিবারিক প্রভাবে নারী সদস্যরা রাজনীতিতে যুক্ত হলেও তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ কম। অথচ দেশে জাতীয় পর্যায় থেকে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত সব জায়গায় নারীর জন্য সংরক্ষিত আসন রয়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসাবে খুব কম নারীই মনোনয়ন পান। তবে সংসদে নারীদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে। এক্ষেত্রে নারী সদস্যরা অন্যান্য সদস্যের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে যোগ্যতার বিচারে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন না। তারা কার্যত দলীয় বা পারিবারিক রাজনৈতিক প্রভাবে নির্বাচিত হন। তাদের দায়বদ্ধতার বিষয়টিও সংবিধানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা নেই। যেখানে একটি আসন থেকে একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকছেনই, সেখানে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত একজন নারীর ভূমিকা মুখ্য নয়, বরং গৌণ থেকে যায়। শুধু জাতীয় সংসদ নয়, আরও অনেক ক্ষেত্রে নারীর জন্য সংরক্ষিত আসন রয়েছে। কিন্তু দলীয় কার্যক্রম পরিচালনায় নারীরা সক্রিয় ভূমিকায় থাকেন না। জাতীয় থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সব জায়গায় সংরক্ষিত আসন এবং বিশেষ সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ এত কম হওয়ার কারণ কী?
বস্তুত নারীদের রাজনীতি থেকে দূরে থাকার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে আমাদের সমাজের রক্ষণশীল মনোভাব। একজন নারী পথে-ঘাটে মিটিং-মিছিলে অংশগ্রহণ করবে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ ব্যাপারটি অনেক পরিবার ঠিক মেনে নিতে পারে না। আবার অনেক ক্ষেত্রে চাকরি বা ব্যবসার মাধ্যমে নিজেকে স্বাবলম্বী করে এগিয়ে নেওয়ার পথকেই নারীরা বেশি প্রাধান্য দেন। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পারিবারিক প্রভাব না থাকলে দলের প্রতি ডেডিকেটেড থাকলেও নারীর পক্ষে একটা শক্ত অবস্থানে পৌঁছানো সহজ হয় না। তাই রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। নারী ক্ষমতায়ন এবং নারীর অধিকার নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণও একান্ত প্রয়োজন। যেহেতু বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, তাই উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ঐশি আলম পৃথ্বি : শিক্ষার্থী, গ্রিন বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
