রাজ অশোক
Advertisement
তৈমুর ইসলাম
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজ অশোক। আদি নিবাস মিয়ানমার। কবে কখন আমাদের দেশে এসেছে তা জানা যায় না। রাজ অশোককে Pride of Burma নামেও অভিহিত করা হয়। গাছের আকার মাঝারি অর্থাৎ ৮ থেকে ১২ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়ে থাকে। চিরসবুজ গাছ। যৌগপত্র ৩০ থেকে ৪৫ সেন্টিমিটার লম্বা, পত্রিকা ৫ থেকে ৯ জোড়া, ১ থেকে ২০ সেন্টিমিটার লম্বা। কচিপাতা ঝুলন্ত এবং বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। পাতার কক্ষ থেকে ঝুলন্ত ৪০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার লম্বা ডাঁটায় ফুল থাকে। গাছের কাণ্ড আর ডালপালা থেকে মঞ্জুরিদণ্ড বের হয়। উপরের ফুলের বোটার চেয়ে নিচেরগুলো লম্বা। পাপড়ি উজ্জ্বল লাল, কিনারা হলুদ, একটি পাপড়ি বড়। ফুলটি ফোটার ভঙ্গিতে রাজকীয় ভাব পরিলক্ষিত হয়। ফুল ফোটে বসন্ত থেকে গ্রীষ্ম পর্যন্ত। তাজা ফুলের রং কমলা; কিন্তু বাসি ফুল লাল রং ধারণ করে। অন্য অশোক থেকে রাজ অশোক বড় এবং গাঢ় লাল। বড় পাপড়িটির মাথার মাঝখানে সাদা ও লালে খুব সুন্দর করে চিত্রিত। কৃষ্ণচূড়ার একটি পাপড়িও অনেকটা এ রকম। ফুলটির রং আর গড়নে দৃষ্টিনন্দন। ফল চ্যাপটা। কচি ফল গাঢ় লাল রঙের। বীজ হয় ৪ থেকে ৬টি। বীজে সবসময় চারা গজায় না, তাই কলমে চারা উৎপাদন করাই ভালো।
আমাদের পাশের দেশে রাজ আশোকের আদি নিবাস হলেও এ দেশে সচরাচর চোখে পড়ে না। জানামতে ঢাকার বলধা গার্ডেনে একটি পূর্ণ বয়স্ক গাছ আছে। ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ বাংলাদেশে সফর এসে রাজ আশোকের একটি চারা রোপণ করেন সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের পাশে। আরেকটি গাছ আছে খুলনার ডুমুরিয়াতে।
ভারতের গভর্নর জেনারেল Lord William Amherst (1823-1828 খ্রিস্টাব্দে) -এর স্ত্রী Lady Amherst-এর নাম অনুসারে ফুলটির নামকরণ করা হয়। রাজ আশোকের বৈজ্ঞানিক নাম Amherstia Nobilis.
লেখক : পুলিশ পরিদর্শক, কেএমপি, খুলনা
