ন্যানো লোনে ঝুঁকছে ব্যাংক খাত
মুঠোফোনেই মিলবে ব্যাংক ঋণ
Advertisement
হামিদ বিশ্বাস
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে ঋণ দেবে ব্যাংক। এই ঋণের জন্য গ্রাহককে ব্যাংকে যেতে হবে না। শুধু মুঠোফোনে আবেদন করলেই মিলবে ঋণ। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নির্ধারিত অ্যাপে এই আবেদন করতে হবে। ৫, ১০, ১৫, ২০, ২৫, ৩০, ৩৫, ৪০, ৪৫ ও ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন গ্রাহকরা। এর মধ্যে যার যা খুশি নিতে পারবেন। তবে ব্যাংক এতদিন সরাসরি এই বিজনেসে যুক্ত ছিল না। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল। যদিও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) বিকাশের গ্রাহকরা বর্তমানে এ ধরনের ঋণ পান। বিকাশ ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান। এছাড়া ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া পরীক্ষামূলকভাবে এই সেবা দিয়েছে। এতে সফলতা আসায় বাণিজ্যিকভাবে সেবাটি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
জানতে চাইলে এবি ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অ্যাক্টিং এমডি) রিয়াজুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, প্রাথমিকভাবে চার শ্রেণি-পেশার মানুষকে লক্ষ্য করে সাজিয়েছি এই ঋণ কর্মসূচি। স্বল্পআয়ের বেতনভোগী ব্যক্তি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খুচরা বিক্রেতা (মুদি দোকান), কর্মজীবনে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী এবং নতুন তরুণ পেশাজীবীদের ন্যানো লোন দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এসব ঋণে কোনো খেলাপিও নেই, ঝামেলাও নেই।
জানা গেছে, ইতোমধ্যেই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ডিজিটাল বা ‘ই-ঋণ’ দেওয়ার নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে এই ছোট আকারের ঋণ দিতে পারবে দেশের সব ব্যাংক। এই ঋণের প্রধান উদ্দেশ্য হলো-প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা এবং ক্যাশলেস সোসাইটি বা নগদ টাকার লেনদেন কমিয়ে আনা। একজন গ্রাহক একটি নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ই-ঋণ নিতে পারবে।
কীভাবে ঋণ নেবেন : নীতিমালা অনুযায়ী, যে কোনো সাধারণ গ্রাহক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এই ঋণ নিতে পারবেন। তবে ব্যাংক-কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো খেলাপি ঋণগ্রহীতা এই ঋণ পাবেন না। ঋণ দেওয়ার আগে ব্যাংকগুলো অন্যান্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রাহকের ঋণের তথ্য যাচাই করে নিতে হবে। তবে এজন্য গ্রাহকের কাছ থেকে কোনো মাশুল নিতে পারবে না ব্যাংকগুলো। এই ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১২ মাস। এই ঋণের আবেদন থেকে শুরু করে অর্থ আদায় পর্যন্ত সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি হবে ‘অ্যান্ড-টু-অ্যান্ড’ ডিজিটাল পদ্ধতিতে। অর্থাৎ গ্রাহককে সশরীর ব্যাংকে যেতে হবে না। ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল অ্যাপস, ই-ওয়ালেট বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে এই ঋণ নেওয়া যাবে। এই ঋণের ক্ষেত্রে প্রচলিত কলমের স্বাক্ষরের পরিবর্তে ডিজিটাল মাধ্যমে সংগৃহীত বায়োমেট্রিক তথ্যের ভিত্তিতে গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে এবং সম্মতি নেওয়া হবে।
গ্রাহকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওটিপি এবং টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বা মালটি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ব্যবহার করতে হবে। গ্রাহকের সব তথ্য বাংলাদেশে অবস্থিত ডেটা ওয়্যারহাউজে সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সুদের হার কত : ই-ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সাধারণ অবস্থায় বাজারভিত্তিক সুদের হার নির্ধারণ করবে। তবে যদি নির্দিষ্ট ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা গ্রহণ করে, তবে গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার হবে ৯ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাণিজ্যিকভাবে এই ঋণ চালু করার আগে ব্যাংকগুলোকে অন্তত ছয় মাস পাইলটিং বা পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালাতে হবে। এতে সফল হলে তার ভিত্তিতে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে সেবাটি চালু করতে পারবে। সরাসরি গ্রাহকদের আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধিতেও ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
