Logo
Logo
×
   

Advertisement

খবর

প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রী

তিস্তায় আরেকটি ব্যারাজ নির্মাণে পরীক্ষা করা হচ্ছে

হজের খরচ আরও কমানো হবে * ২০ হাজার ৮৩২টি কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে

Advertisement

Icon

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তিস্তা নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণে আরও একটি ব্যারাজ নির্মাণের জন্য কারিগরি ও আর্থিক বিষয়গুলো বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, তিস্তা নদীকেন্দ্রিক টেকসই ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটি সমীক্ষা কার্যক্রম ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। এই সমীক্ষা প্রতিবেদনে তিস্তা মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে ১১০ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ, ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং বাঁধের ওপর রাস্তা নির্মাণ, ৬৭টি গ্রোয়েন/স্পার নির্মাণ ও মেরামত এবং ১৭০ বর্গ কিলোমিটার ভূমি পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন কাজ প্রস্তাব করা হয়েছে। বুধবার জাতীয় সংসদে এনসিপির সংসদ-সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী একথা জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ-সদস্য সালাহ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীতে হজের খরচ কমানোর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। হজ পালনের ব্যয় কমাতে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ২০২৫ সালে হজের সর্বনিম্ন প্যাকেজ ছিল ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা। ২০২৬ সালে হজের খরচ ১১ হাজার ৭৫ টাকা কমানো হয়েছে, যার সুফল হজযাত্রীরা পেয়েছেন। বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও সৌদি পর্বের ঘোষিত ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে সরকার ২০২৭ সালের প্যাকেজ মূল্য কমানো বা যৌক্তিকভাবে নির্ধারণের সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।

সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ-সদস্য মো. সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষির উন্নয়ন ও কৃষকদের ইউনিক পরিচয় নিশ্চিতকরণে ন্যায্য মূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, স্বল্প মূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রদানের লক্ষ্যে ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে এ কার্যক্রম সম্পাদন করা হচ্ছে। অদ্যাবধি ২০ হাজার ৮৩২টি কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করেছে। এ লক্ষ্যে সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বাজেট বরাদ্দ করেছে। এর ফলে সারা দেশের প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ জন কৃষক উপকৃত হবেন।

জামালপুর-৩ আসনের সংসদ-সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) বাস্তবায়ন করে আসছে। হামের প্রাদুর্ভাবের কারণ, বিস্তার এবং টিকাদান কার্যক্রমের ওপর বিভিন্ন নীতিগত ও পরিচালনাগত বিষয়ের প্রভাব নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করা হয়। তিনি বলেন, ইপিআই কর্মসূচির আওতায় টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং প্রচলিত সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করে সম্পাদিত হয়ে থাকে। টিকা সংগ্রহ পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তনের ফলে টিকাদান কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কিনা, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। পর্যালোচনায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সরকার ইতোমধ্যে টিকা সরবরাহ ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকরণ, টিকা মজুত ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ, রোগ নজরদারি কার্যক্রম সম্প্রসারণ, দ্রুত প্রাদুর্ভাব শনাক্তকরণ ও প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় আরও সুদৃঢ় করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ-সদস্য মনজুলুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লিখিত ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির আলোকে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। সরকার বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা দিতে বদ্ধপরিকর। পাবনা মানসিক হাসপাতালকে আন্তর্জাতিকমানে রূপান্তর করে একটি পূর্ণাঙ্গ মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ-সদস্য মো. আব্দুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কর জিডিপি ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ-সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জাতীয় মহাসড়কগুলোতে এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড এবং সড়কের ওপর চাপ কমানোর জন্য মালটিমোডাল পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা; সব শ্রেণির মহাসড়কে ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং স্মার্ট মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা; সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; ঢাকার ওপর চাপ কমাতে রিং রোড এবং রেডিয়াল নেটওয়ার্ক তৈরি এবং যানজটপূর্ণ ইন্টারসেকশনগুলোতে প্রয়োজনীয় স্ট্রাকচার নির্মাণ করে নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, নির্মাণাধীন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রেলপথে যাতায়াতের সময় কমিয়ে আনা, নিরাপদ এবং পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ নিশ্চিত করতে প্রধান প্রধান রুটগুলোতে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে সেবাকে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জেলা ও প্রধান শহরগুলোর দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে।

ভোলা-৪ আসনের সংসদ-সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক ও শ্রম কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান, অভিবাসনসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মাধ্যমে বাংলাদেশের শ্রমবাজারকে আরও গতিশীল ও টেকসই করে তুলতে আমাদের সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

সরকারদলীয় এমপি শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা ওয়াসা প্রায় ৬৫-৭০ শতাংশ পানি ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে এবং বাকি ৩০-৩৫ শতাংশ ভূ-উপরিস্থ উৎস (যেমন-পদ্মা, মেঘনা এবং শীতলক্ষ্যা নদী) থেকে সংগ্রহ করে। চট্টগ্রাম ওয়াসার মাধ্যমে সরবরাহ করা পানির প্রায় ৯২ শতাংশ নদী ও জলাধারের মতো ভূ-উপরিস্থ থেকে সংগ্রহ করা হয়। বাকি ৮ শতাংশ পানি গভীর নলকূপ বা ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে। রাজশাহী ওয়াসার ২ শতাংশ ভূ-উপরিস্থ এবং ভূগর্ভস্থ ৯৮ শতাংশ পানি সরবরাহ। খুলনা ও বরিশাল বিভাগীয় শহরে নদীর পানিতে লবণাক্ততা বড় সমস্যা বিধায় ভূ-উপরিস্থ পানির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বড় ধরনের ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং বিকল্প জলাধার তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। সিলেট ও ময়মনসিংহ তুলনামূলকভাবে পাহাড় ও নদীবেষ্টিত হওয়ায় এই এলাকাগুলোতে ভূ-উপরিস্থ পানির প্রাপ্যতা বেশি হলেও পানিদূষণ রোধ করে সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিভাগীয় শহরে ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তনে ভূ-উপরিস্থ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ-সদস্য মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ের সেবা কেন্দ্রগুলোতে মেডিকেল অফিসার এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সেবাকেন্দ্রগুলোতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১৭ হাজার ৮৭০টি অনুমোদিত পদ রয়েছে। যার মধ্যে ১১ হাজার ৫০১টি পদে জনবল আছে এবং ৬ হাজার ৩৫৯টি পদ শূন্য রয়েছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম