এ বছর বিটিভির আয় ৮ কোটি টাকা, ব্যয় ২৫৪ কোটি: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী
সারা দেশে দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ১৪৩৬টি, নিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল ৪৭৪টি
Advertisement
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) চলতি অর্থবছর ১১ মাসে যে পরিমাণ আয় করেছে, তার ৩২ গুণ ব্যয় করেছে। চলতি অর্থবছরের মে পর্যন্ত করসহ বিটিভির মোট আয় হয়েছে ৮ কোটি ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে বিজ্ঞাপন থেকে আয় ৫ কোটি ৭ লাখ ৯ হাজার ৪১৭ টাকা। এ সময়ে ব্যয় হয়েছে ২৫৪ কোটি ১৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। সোমবার নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ-সদস্য ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সংসদে বিটিভির আয়-ব্যয়ের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
তথ্যমন্ত্রী জানান, ২০২০-২১ অর্থবছরে বিটিভির আয় ছিল ৩৪ কোটি ৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা এবং ব্যয় ছিল ২৮০ কোটি ৮১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে আয় ছিল ৪০ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ব্যয় ছিল ২৮৫ কোটি ৪৭ লাখ ২৭ হাজার টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আয় ছিল ৩০ কোটি ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ও ব্যয় ছিল ৩৭০ কোটি ৬১ লাখ ৫১ হাজার টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আয় ছিল ৪৪ কোটি ২১ লাখ ২২ হাজার টাকা এবং ব্যয় ২৯৮ কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয় ছিল ২৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা আর ব্যয় ৩০৭ কোটি ৯২ লাখ ২২ হাজার টাকা।
অপর এক এমপির প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, অপপ্রচার, কুৎসা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় ‘বাংলাফ্যাক্ট’ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত বাংলাফ্যাক্ট ৭৮৩টি ফ্যাক্ট চেক, বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং ভিডিও বা রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ২২৯টি হয়েছে বর্তমান সরকার দায়িত্বগ্রহণের পর। সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের অনুকরণে প্রোপাগান্ডা ও অপতথ্য প্রকাশ করে এমন ১৬টি ওয়েবসাইট বাংলাফ্যাক্ট চিহ্নিত করেছে। অপর এক এমপির প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে তথ্য অধিদপ্তরের ফ্যাক্ট চেকিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। জামালপুর-৫ আসনের ওয়ারেছ আলী মামুনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভুঁইফোঁড় সাংবাদিক রোধে প্রকৃত সাংবাদিকদের যোগ্যতার মানদণ্ড নিরূপণে গণমাধ্যমকর্মীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণসহ নিবন্ধন ও ডেটাবেজ প্রণয়নের সুনির্দিষ্ট বিধান অন্তর্ভুক্ত করে প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট ১৯৭৪ সংশোধনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া প্রেস কাউন্সিল থেকে প্রকৃত গণমাধ্যমকর্মীদের অনলাইন ডেটাবেজ তৈরির জন্য এর আগে ৩২টি জেলা থেকে সাংবাদিকদের তথ্য হালনাগাদের কার্যক্রম চলছে। ঢাকা-১৯ আসনের এমপির প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সংখ্যা ৫৫টি। এর মধ্যে ৩৯টি সম্প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। মন্ত্রী জানান, সারা দেশে দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা এক হাজার ৪৩৬টি। এর মধ্যে ঢাকা থেকে ৫৯৩টি এবং অন্যান্য জেলা থেকে প্রকাশিত ৮৪৩টি। নিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল ৪৭৪টি। এর মধ্যে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ক্যাটাগরিতে ২৮২টি, দৈনিক পত্রিকার অনলাইন নিউজ পোর্টাল ক্যাটাগরিতে ১৩১টি এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল (আঞ্চলক) ক্যাটাগরিতে ৬১টি।
