অসৎ উপায়ে টাকা অর্জনের প্রমাণ দিলে ইস্তফা: হাসনাত আবদুল্লাহ
Advertisement
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অসৎ উপায়ে এক টাকা অর্জনের প্রমাণ দিতে পারলে সংসদ-সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করবেন বলে সংসদে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সদস্য মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ)। ময়মনসিংহ-১০ আসনের বিএনপির সংসদ-সদস্য আক্তারুজ্জামানের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ‘ব্যক্তিগত কৈফিয়ত’ দিতে গিয়ে তিনি এ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। হাসনাত বলেন, আজও এই সংসদে জুলাইসংশ্লিষ্ট আমাদেরকে একটি কথা বলা হয়েছে যে, আমরা আগে রিকশায় চড়তাম এখন আমরা গাড়িতে চড়ি। সরকারে যারা আছেন, আমি আপনাদের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করব- গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আপনাদের নিয়ন্ত্রণে, ডিজিএফআই, এনএসআই, পুলিশ ও মিলিটারি সবাই আপনাদের নিয়ন্ত্রণে। আপনাদের মতো দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এলিগেশনের টোনে এলিগেশন না দিয়ে আপনারা তদন্ত করেন। যদি এক টাকার দুর্নীতি, এক টাকার কোনো ধরনের অসৎ উপার্জনের প্রমাণ করতে পারেন, আমি এই সংসদ থেকে ইস্তফা দিব। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে তিনি এ কথা বলেন। সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এর আগে আক্তারুজ্জামান সংসদে বলেন, অনেকেই আছেন যারা আগে রিকশায় চড়তেন এখন প্রাডোতে চড়েন আর জুলাই চেতনা বিক্রি করেন।
এদিকে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে হাসনাত বলেন, ঋণখেলাপি, ব্যাংক দখলকারী, গুম, খুনের বৈধতা উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে বিএনপির পক্ষ থেকে অ্যাকশন দেখতে চাই। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিশোধপরায়ণ হননি, সেজন্য সাধুবাদ। কিন্তু প্রতিশোধপরায়ণ না হওয়া আর সুবিচার নিশ্চিত না করা এক নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা এটা তার (প্রধানমন্ত্রী) কাছ থেকে শুনতে চাই, তার দলের কাছ থেকে শুনতে চাই, গুম-খুনের হত্যার তিনি সুবিচার নিশ্চিত করবেন। তিনি আইনের শাসন নিশ্চিত করবেন। এতদিন ধরে নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ার মাধ্যমে এই ফ্যাসিবাদের পক্ষে যারা বয়ান উৎপাদন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তিনি সুবিচার নিশ্চিত করবেন।’
একজন প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কথা বলায় একজন সম্পাদককে জেলে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারাও কথা বলতে ভয় পান। কারণ তারা সরকার বা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো কথা বললে তার এলাকার বাজেট যে বন্ধ করে দেওয়া হবে না তার নিশ্চয়তা নেই। এনবিআরের সক্ষমতা বিবেচনায় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কতটা অর্জিত হবে সেটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন আবুল হাসনাত। করপোরেট কর কমানোর দাবি জানিয়ে বলেন, দেশে ব্যবসা করলে করপোরেট কর ২৭ শতাংশ।
ডিভিডেন্ট কর ৪০ শতাংশ। অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা দিয়ে তিনি বলেন, বিদেশিরা বাংলাদেশে ব্যবসা করতে আসবে না।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৯.৪ শতাংশ। কীভাবে এই মূল্যস্ফীতিকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে আনা হবে সেটা স্পষ্ট নয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকানে করারোপের কথা উল্লেখ করে এনসিপির এই সংসদ-সদস্য বলেন, দিনশেষে ক্রেতার কাছ থেকেই এই কর আদায় করবে বিক্রেতা।
বিএনপি পাঁচ বছরে এক কোটি লোকের চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল উল্লেখ করে বলেন, সে হিসাবে এই চার মাসে ছয় লাখ কর্মসংস্থান বাড়ার কথা। আদৌ কি ছয় লাখ কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে? যদি হয়ে থাকে সে কর্মসংস্থানগুলো কোথায়?
ঋণ করে ঘি খাওয়ার কথা উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, সরকারি দলের কিছু সদস্য এটিকে খুব সিরিয়াসলি নিয়েছেন। এটাকে তারা এভাবে নিয়েছেন-ঋণ করো, ঋণ খেলাপি হও, তাও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করো। কীভাবে ঋণ পুনঃতফসিল করা হয় তা বর্ণনা করে তিনি বলেন, জনগণের টাকা নিয়ে এই বিলাসিতা বন্ধ করতে হবে। ঋণখেলাপিদেরকে ঋণখেলাপি বলতে হবে।
ঋণখেলাপিদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়ে হাসনাত বলেন, ‘আমরা লজ্জা পাই একই সংসদে একসঙ্গে শেয়ার করার জন্য। কারণ তারা জনগণের টাকা মেরে, যারা জনগণের টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নিয়ে ঋণখেলাপী হয়ে আবার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে আসে।’
একটি গ্রুপ অব কোম্পানির নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দুর্নীতি দমন কমিশন ওই গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা করেছে আমরা দেখেছি। এই মামলার কী অগ্রগতি হয়েছে, সেটা আমরা জানতে চাই। আমরা জানতে চাই, আন্ডারটেবিল কোনো ধরনের সমঝোতা হয়েছে কিনা। যদি সমঝোতা না হয়ে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধাটা কোথায়-সেটা বাংলাদেশের মানুষের সামনে প্রকাশ করতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর প্রকাশ করা শ্বেতপত্রেরর কথা উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সেখানে দেখানো হয়েছে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। যারা পাচার করেছে তারা এখন সদর্পে দেশে বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করে।
