জাতীয় সংসদ অধিবেশন
চার মাসেই দেশ লাখ কোটি টাকার ঋণের জালে: আখতার হোসেন
Advertisement
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব রংপুর-৪ আসনের সংসদ-সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, এ সরকার যখন দায়িত্ব নেয় তখন ঋণ ছিল ২৩ লাখ কোটি টাকার মতো। কিন্তু এই কয়েক মাসে ঋণ বেড়েছে এক লাখ কোটি টাকার উপরে। সরকার ক্ষমতা গ্রহণের চার মাসে আরও এক লাখ কোটি টাকা ঋণের জালে দেশকে বেঁধে ফেলেছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের ভূমিকা নিয়ে আখতার হোসেন বলেন, অর্থমন্ত্রীর ২৩৪ পৃষ্ঠার বক্তব্যের মধ্যে দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় তিনি বলেছেন অর্থনৈতিক যে বিপর্যয় চলছে, সোশ্যাল ফেব্রিকে যে ক্ষতি হয়েছে, এটা যদি আমরা কাটিয়ে উঠতে চাই, তাহলে অবশ্যই রাজনৈতিক সংস্কার করতে হবে। সেই রাজনৈতিক সংস্কার কী আমরা সরকারি দলের মধ্যে দেখতে পাই? সরকারি দল সংবিধান সংস্কার পরিষদের কথা বলছে না। জনগণ স্বাধীন বিচার বিভাগের জন্য রায় দিয়েছে, এখনো পর্যন্ত সরকারি দল সে বিষয়ে কিছু বলছে না। তিনি বলেন, আমরা যদি সুশাসন ও গণতন্ত্র নিশ্চিত এবং সংস্কার বাস্তবায়ন করতে না পারি এবং আইএমএফের কাছ থেকে আমাদের অর্থমন্ত্রীকে যেমন করে ফিরে আসতে হয়েছিল, সংস্কার বাস্তবায়ন করতে না পারলে সরকারি দলকেও জনগণের কাছ থেকে ফিরে আসতে হবে।
অর্থনৈতিক সংস্কার না হওয়ায় আইএমএফ ঋণ দেয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, আইএমএফ চেয়েছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক খাতগুলোতেও বড় ধরনের সংস্কার আসুক। এ ব্যাপারে বিএনপি সরকার ইতিবাচক না। তিনি বলেন, এতদিনে এনবিআরের রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ আলাদা করার কথা সরকার বলছে। কিন্তু এই বিষয়টা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে অধ্যাদেশ পাশ করা হয়। সেই অধ্যাদেশ এই সংসদে উত্থাপন করা হয়। কিন্তু সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরে সেই অধ্যাদেশটাকে কিন্তু ল্যাপস করে দিয়েছে। সে অধ্যাদেশটাকে কার্যকর করতে দেয়নি। সরকার সেই সময়টাতে যদি সংস্কারের বিষয়গুলোকে মেনে নিত, তাহলে হয়তো বিদেশে গিয়ে আমাদের অর্থমন্ত্রীকে খালি হাতে ফিরে আসতে হতো না। ব্যাংকিং খাত সম্পর্কে তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে এক ধরনের অরাজকতা চলতেছে। শুধু ইসলামী ব্যাংকের বিষয়ে বলব না, আরও পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করা হয়েছে, সেগুলো আগের মালিকদের কাছে আবারও বহাল হতে পারে এমন ধরনের আইন (ব্যাংক রেজ্যুলেশন আইন) এখানে পাশ করা হয়েছে। এই আইনের ১৮ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ব্যাংকের মালিকরা যারা আছেন তারা যদি ৭.৫ শতাংশ টাকা ব্যাক করতে পারেন তাহলে তাদের কাছে আবারও ব্যাংকের মালিকনা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। আমাদের প্রশ্ন হলো যেসব মালিকরা এই ব্যাংকগুলোকে দেউলিয়া করেছে, টাকা পাচার করেছে, এই ব্যাংকগুলোকে লুটপাট করেছে, সেই মালিকগুলোর কাছেই ব্যাংকগুলোকে পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়ার ফায়দা কি হতে পারে?
দেশের অর্থনীতি ঝুপড়ির মতো মন্তব্য করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সময়কালের একটি শ্বেতপত্র প্রকাশিত হয়েছে। সেই শ্বেতপত্রে আওয়ামী লীগের সময়কালে ২৪০ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ প্রায় ৩০ লাখ টাকা বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে। ঝুপড়িতে আসলে টাকা নাই।
আখতার হোসেন বলেন, বাজেট ঘোষণার আগেই সরকার তার এই তিন মাসের সময়কালের মধ্যেই দুই দফায় বিদ্যুৎ এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করেছে। ফলে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায় তখনই। বাজেট ঘোষণার পর জিনিসের দাম বেড়েছে ব্যাপারটা এমন নয়, সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করার পরেই বাজেট ঘোষণার আগে থেকেই জিনিসপত্রের দাম বাড়ানোর মেকানিজম শুরু করেই বাজেট ঘোষণা করেছে।
