Logo
Logo
×
   

Advertisement

খবর

ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা

প্রকল্প নেওয়া ও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা বাড়ানোর দাবি

জাতীয় সংসদ অধিবেশন

Advertisement

Icon

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দক্ষতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলের সদস্যরা। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ বারবার বাড়ানোর নামে বাড়তি অর্থ ব্যয় ও অপচয় বন্ধেরও দাবি জানানো হয়। নতুন অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নে টাকার যথাযথ ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন তারা। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মন্ত্রণালয়ভিত্তিক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি মঞ্জুরি ও ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় তারা এ কথা বলেন। ৫৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মঞ্জুরি দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাব দেন ৪৩ জন সংসদ-সদস্য। মোট ছাঁটাই প্রস্তাব ছিল এক হাজার তিনশর বেশি। তবে সব প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হয়নি। সময়ের দিক বিবেচনায় অনেকগুলো প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেয় বিরোধী দল। কিছু প্রস্তাবের ওপর আলোচনা না করার বিষয়ে সম্মত হয় বিরোধী দল। তবে বিরোধী দলের কোনো প্রস্তাবই পাশ হয়নি সংসদে।

বিরোধী দলের এসব ছাঁটাই প্রস্তাব মূলত প্রতীকী। ব্রিটিশ সংসদীয় রীতি থেকে এই প্রস্তাব করা হয়। সংসদে সরকারি দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকায় ওইসব প্রস্তাব পাশের সুযোগ নেই। তাই বিরোধী দল প্রতিবাদের রেওয়াজ হিসাবে প্রতীকী ছাঁটাইয়ের প্রস্তাব করে।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের মঞ্জুরি প্রস্তাবের ওপর ছাঁটাই আলোচনায় অংশ নিয়ে পিরোজপুর-১ আসনের সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেন, রাজস্ব প্রশাসনের নীতিমালায় কিছু দুর্বলতার কারণে আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছি না। তাই এ বিভাগের বরাদ্দ কমানো ও সংস্কারের প্রস্তাব করছি।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের ওপর আলোচনায় রংপুর-৪ আসনের সদস্য আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশ নানাভাবে ঋণের জালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, সামনের দিনে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ বিদেশ থেকে যে ঋণ নিয়ে আসবে, সেই ঋণের শর্ত, পরিমাণ ও কোন দেশ থেকে আসছে প্রত্যেকটা বিষয় যেন সংসদের সামনে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরে ঋণ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না-সেগুলো প্রকাশের দাবি জানান। যদিও ওই ছাঁটাই প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

পরিকল্পনা বিভাগের মঞ্জুরি প্রস্তাব নিয়ে খুলনা-২ আসনের সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল ছাঁটাই প্রস্তাবের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন, এ প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ের গুরুত্ব খাটো করা নয়। বরং পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে বিদ্যমান কিছু সীমাবদ্ধতার প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। কুষ্টিয়া-৩ আসনের মো. আমির হামজা প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতা বন্ধ এবং গুণগত মান নিশ্চিতের দাবি জানান। তিনি রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রকল্প গ্রহণ না করার আহ্বান জানান।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রাজশাহী-৪ আসনের সদস্য মো. আব্দুল বারী সরদার বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের ক্ষেত্রে প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে দোষীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর আলোচনায় রংপুর-১ আসনের সদস্য মো. রায়হান সিরাজী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে শক্তভাবে বলেছেন যে, যে কোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা তিনি বাস্তবায়ন করবেন। এজন্য আমি ছাঁটাইয়ের জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে প্রস্তাব করতে চাই, আগামী একনেক বৈঠকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা যেন পাশ করা হয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ছাঁটাই প্রস্তাবে আলোচনায় অংশ নিয়ে সংরক্ষিত নারী সদস্য মারদিয়া মমতাজ বলেন, শিক্ষকদের দেওয়া ট্যাব ও শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের মাধ্যমে শিক্ষার মান কতটুকু উন্নত হলো এবং এটার কোনো মনিটরিং আমাদের কাছে থাকবে কি না? মিড-ডে মিলের মাধ্যমে শিশুদের স্বাস্থ্যের কী উন্নতি হলো এর কোনো প্যারামিটার আমাদের কাছে থাকবে কিনা এবং সেগুলো নিয়মিত সংসদে জানানো হবে কিনা এ ব্যাপারে একটি দাবি জানাই।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, মিড-ডে মিলের যে ত্রুটি রয়েছে সেগুলোর সমস্যা সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা কাজ করছি। নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড ভ্যালু সম্বন্ধে যে বক্তব্য এসেছে, সেটাও এক্সপার্টদের কাছ থেকে ধারণা নিয়েই করছি।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম