সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে অর্থমন্ত্রী
আমানত সুদসহ ফেরত দেওয়া হবে
Advertisement
সংসদ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়েছে। এই ব্যাংকের আমানতকারীরা তাদের জমানো টাকা সুদসহ ফেরত পাবেন। কোনো ধরনের ‘হেয়ার কাট’ (আমানতের অর্থ কর্তন) হবে না। তবে একটু সময় লাগবে। বিএনপি’র সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য রেহানা আক্তার রানু বলেন, মানুষের টাকা ব্যাংকে আছে তুলতে পারছে না বলে চিকিৎসা করতে পারছে না। আর চিকিৎসা করতে না পেরে অনেকে মৃত্যুবরণ করছেন। লুটেরা মালিক পক্ষ বিদেশে আয়েশি জীবনযাপন করছে। এই মানুষগুলো বর্তমান সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। তাদের কান্না, তাদের আর্তনাদ এই রাষ্ট্রের কাছে। তারা ন্যায়বিচার চাচ্ছে। এসব লুটেরার কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করে তাদের সব সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে গ্রাহকের টাকা ফিরিয়ে দিতে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
পরে সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এটা হৃদয়বিদারক ঘটনা। নির্বাচিত সরকার এ ব্যাপারে নীরব থাকতে পারে না। সরকার দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড আর্থিক খাত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে একটি বহুমাত্রিক রেজুলেশন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে। এই কাঠামোর আইনি ভিত্তি হিসাবে ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬’ হয়েছে।
এর আওতায় ওই পাঁচটি ব্যাংক তথা এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়েছে। এই পাঁচ ব্যাংকের সব আমানতকারীর দাবি ও স্বার্থ নতুন ব্যাংকে সংরক্ষিত হয়েছে। পাশাপাশি আমানত সুরক্ষা তহবিলের বিধানের আওতায় নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত আমানতকারীর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এক্ষেত্রে ‘আমানত সুরক্ষা আইন-২০২৬’-এর মাধ্যমে সুরক্ষিত আমানতের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১ লাখ থেকে ২ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। আমানতকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজুলেশন স্কিম মোতাবেক আমানতের অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরত পাচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে গ্রাহকের আমানত প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি এ পাঁচটি ব্যাংকের বিনিয়োগ অনিয়মের জন্য দায়ীদের শনাক্ত করতে বিশেষ ফরেনসিক অডিট চলছে। যার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরে সম্পদ পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া ফৌজদারি ক্রিমিনাল মামলার পাশাপাশি দেওয়ানি সিভিল পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেক্টরে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সৃষ্ট খেলাপি ঋণের টাকা অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পদ্ধতিতে খেলাপি ঋণের টাকা অবৈধভাবে বিদেশ পাচারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০টি ব্যাংক তাদের ঋণের অর্থ উদ্ধারের জন্য নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরপূর্ব নয়টি আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানকে ‘নো উইন, নো ফি’ শর্তে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি কেসের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ছয়টি কেস সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম, বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা ও অরিওন গ্রুপ নিয়ে দেওয়ানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন : কুমিল্লা-১১ আসনে জামায়াতের এমপি সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে সভাপতি করে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন-আমান উল্লাহ আমান, এ বি এম আশরাফউদ্দিন নিজান, এ কে এম ফজলুল হক মিলন, মোহাম্মদ হাফিজ ইব্রাহিম, এ এম মাহবুবউদ্দিন, মোহাম্মদ জালালউদ্দিন, ড. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, এস কে আজিজুল বারি হেলাল, মো. মনজুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফজলে হুদা, মোহাম্মদ জাকির হোসেন, সৈয়দ জয়নুল আবেদিন, মোহাম্মদ রুহুল আমিন এবং মোহাম্মদ আনারুল ইসলাম।
