জাতীয় সংসদ অধিবেশন
বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিল সম্ভব নয়: বিদ্যুৎমন্ত্রী
Advertisement
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিতে ‘সভরেইন গ্যারান্টি’ থাকায় চাইলেই তা বাতিল করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।
ওই সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার যেসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রাইভেট কোম্পানিকে দিয়েছিল, তাদের সঙ্গে যে অ্যাগ্রিমেন্ট করেছিল, সেখানে সভরেইন গ্যারান্টি দেওয়া হয়। সভরেইন গ্যারান্টি হচ্ছে রাষ্ট্রের গ্যারান্টি। এই গ্যারান্টি বাতিল করা অনেক সময়সাপেক্ষ। আমরা চেষ্টা করছি, তাদের সঙ্গে আরও অনেক বিষয় জড়িত আছে। বিশেষ করে লেট পেমেন্ট ফিস, এগুলো আমরা দেব না বলে আলোচনা করছি। আশা করি, এক্ষেত্রে আমরা ফলপ্রসূ আলোচনা করতে পারব।
এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন, কোনো বিদ্যুৎ কেন্দ্র যখন উৎপাদন কার্যক্রমে প্রবেশ করে, তখন সিস্টেমকে চালিয়ে রাখার জন্য কোনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গেই জোড়াতালি দেওয়া যায় না। শক্ত নেগোসিয়েশন করা যায় না। সে জন্য যতদিন পর্যন্ত এদের সঙ্গে চুক্তি আছে, আমরা চেষ্টা করব দাম কমিয়ে আনার এবং সহজমূল্যে যাতে বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।
ঢাকা-৫ আসনের মোহাম্মদ কামাল হোসেনের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে দৈনিক প্রায় ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে দৈনিক প্রায় ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে ঢাকা শহরেও প্রকৃত চাহিদার বিপরীতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস বরাদ্দ কম পাচ্ছে। এ কারণে সব এলাকায় গ্যাস বিতরণ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।
যশোর-৪ আসনের গোলাম রছুলের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লস ছিল ৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ ও বিতরণ লস ছিল ৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের এপ্রিল পর্যন্ত সঞ্চালন লস দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ২৭ শতাংশ ও বিতরণ লস ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ।
রংপুর-৩ আসনের মাহবুবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এখনো ব্রেক-ইভেনের ওপরে রয়েছে। ফলে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল বিক্রয়ে বিপিসিকে এখনো দৈনিক ৭৮ কোটি টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে। গত মার্চ হতে ২৩ জুন পর্যন্ত বিপিসিকে মোট ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা লোকসান দিতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কমে সহনশীল পর্যায়ে এলে জনজীবনে স্বস্তি আনার লক্ষ্যে দেশের বাজারেও জ্বালানি তেলের দাম কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
সংরক্ষিত আসনের সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন-২০১০ এর অধীনে সম্পাদিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিগুলো পর্যালোচনায় গঠিত দুটি কমিটি পৃথক প্রতিবেদন দিয়েছে। ওই প্রতিবেদনের সুপারিশের আলোকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।
জামালপুর-৩ আসনের মোস্তাফিজুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র চলমান নেই। তাদের সঙ্গে চুক্তিও বিদ্যমান নেই। তবে দুটি রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর ‘নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে চুক্তি নবায়ন করা হয়, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র চলমান না থাকায় কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হচ্ছে না।
