জমির উদ্দিনের মৃত্যুতে শোক
সরকার ও বিরোধী দলের স্মৃতিচারণা
গণতন্ত্রের প্রতি তার ছিল অবিচল আস্থা -মির্জা ফখরুল * আদালতে নির্যাতিতদের পক্ষে লড়াই করতেন -বিরোধীদলীয় নেতা * সততা ও পেশাগত সুনামের অনন্য উদাহরণ ছিলেন-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
Advertisement
সংসদ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাবেক স্পিকার ও সুপ্রিমকোর্ট বারের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব আনা হয়েছে। রোববার দিনের কার্যক্রম সংক্ষিপ্ত করে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা শেষে তার প্রতি সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এরপর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার ছিলেন একজন সেলফ-মেড ম্যান। নিজের মেধা দিয়ে তিনি বড় হয়েছেন। তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন যিনি কোনোদিন নির্বাচনে হারেননি। গণতন্ত্রের প্রতি তার ছিল অবিচল আস্থা। শেষ মুহূর্তেও তিনি দলের প্রতি অনুগত ছিলেন এবং সবসময় বলতেন, নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্রে পৌঁছানো যায় না।
বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে যখন আমরা আইনের যাতাকলে পিষ্ট ছিলাম, তিনি আমাদের মজলুম নেতাদের পক্ষে আদালতে বারবার দাঁড়িয়েছেন। আমরা ফি দিতে চাইলেও তিনি এক টাকাও নেননি। তিনি বলতেন, এটি তার নৈতিক দায়িত্ব।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘ আইনজীবী জীবনে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তি, মক্কেল বা সহকর্মীর কাছ থেকে কখনো কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি। দলের প্রতি তিনি ছিলেন শতভাগ নিবেদিতপ্রাণ। তিনি আমাদের পিতৃতুল্য ছিলেন, কিন্তু কখনোই ‘আপনি’ ছাড়া কথা বলতেন না। সাবেক স্পিকারদের যেভাবে সংসদ ভবনে দাফন করা হয়, প্রথা অনুযায়ী তাকেও সেখানেই দাফন করা হবে। তিনি আমাদের মাঝে না থাকলেও এই সংসদেই থাকবেন।
ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার দেশের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের একজন ছিলেন। আইন অঙ্গনের মতো সংসদেও তিনি সমানভাবে সুনাম অর্জন করেছিলেন।
আখতার হোসেন বলেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার তার বিখ্যাত ছাতা ও হ্যাট নিয়ে দীর্ঘ সময় আদালত অঙ্গনে বিচরণ করেছেন। আইনাঙ্গনের মানুষের জন্য তার জীবন ও কর্ম শিক্ষা নেওয়ার মতো।
আলোচনা শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, জাতি আজ এক মহান রাজনীতিক ও সাদা মনের মানুষকে হারিয়েছে। তিনি এই চেয়ারে বসে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সংসদ পরিচালনা করেছেন। তার বিরুদ্ধে কখনো কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি। পরে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ-সদস্য মো. কামরুজ্জামানের পরিচালনায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
