Logo
Logo
×
   

Advertisement

খবর

তীব্র গ্যাস সংকট

গাজীপুরের শিল্পে স্থবিরতা ২০% কারখানায় ছুটি

২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস ঘাটতি * বিদেশি ক্রেতা হারানোর শঙ্কা

Advertisement

Icon

মোহাম্মদ মোরশেদ আলম, গাজীপুর

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুরের শিল্পে স্থবিরতা ২০% কারখানায় ছুটি

Advertisement

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেল, দীর্ঘদিন গ্যাস সংকট থাকায় বুধবার থেকে শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে টানা চার দিনের ছুটি শুরু হয়েছে। প্রায় ২০ শতাংশ কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকবে। সরকারি ছুটির সঙ্গে মিল রেখেই এই ঘোষণা। দীর্ঘ ছুটি পাওয়ায় শত শত শ্রমিক বাড়ির পানে ছুটছেন। শিল্পমালিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রপ্তানি আদেশ সময়মতো সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলা গ্যাস-সংকট এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। এতদিন উৎপাদন সচল রাখতে বিভিন্ন কৌশল নিতেন শিল্পকারখানার মালিকরা। কোথাও কিছু উৎপাদন লাইন বন্ধ রাখা, কোথাও মেশিনের সংখ্যা কমিয়ে চালানো, আবার কোথাও রাতের শিফটে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। এবার যোগ হলো শ্রমিকদের টানা ছুটি।

মঙ্গলবার রাত থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড়, কোনাবাড়ী, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগাড়াসহ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড, সড়ক ও পরিবহণ কাউন্টারে শ্রমিকদের ভিড় শুরু হয়। গতকাল সকালে চন্দ্রা এলাকায় কথা হয় গোমতী টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিক কফিল উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, কাজ না থাকায় কয়েকদিনের জন্য বাড়ি যাচ্ছি। গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন বলেন, একদিনের সরকারি ছুটির সঙ্গে অনেক কারখানায় চার দিনের ছুটি ঘোষণা হয়েছে। কোনাবাড়ী হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক জাফর আলী জানান, বুধবার সকালেও চন্দ্রা এলাকায় শত শত মানুষ ও যানবাহনের ভিড় দেখা গেছে।

শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, নিটিং, ডাইং ও ওয়াশিং খাতের কারখানায় মূলত এই দীর্ঘ ছুটি। গ্যাস সরবরাহ ঠিক না হওয়া পর্যন্ত অনেক মালিক উৎপাদন সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়া স্পিনিং, সিরামিক, ওষুধ, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী এক হাজার শিল্পকারখানা এখানে রয়েছে।

কথা হলো তরুণ উদ্যোক্তা মো. সালাউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি গাজীপুরের ভোগড়া চৌরাস্তা এলাকার স্টাইলিশ গার্মেন্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, গ্যাস সংকট অব্যাহত থাকলে শিল্প ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। আশা করি সরকার সমস্যার সমাধান করবে। গাজীপুর তিতাস কর্তৃপক্ষ জানায়, গাজীপুরে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় সাড়ে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি। গাজীপুরে তিতাস গ্যাসের সিস্টেম অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখার ব্যবস্থাপক মো. সাইফুজ্জামান বলেন, জেলায় প্রায় ৪৫ শতাংশ গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে কোনাবাড়ী, কালিয়াকৈর, শ্রীপুর ও টঙ্গী বিসিক শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোয়। কোনাবাড়ীর পিএন কম্পোজিট কারখানার ব্যবস্থাপক তাপস পাল বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কোনাবাড়ী হরিনাচালা এলাকার ইমন ফ্যাশন ও ইমন প্যাকেজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাজি ইসমাইল হোসেন বলেন, গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হলে অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য টিকে থাকা কঠিন হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম