নন-ক্যাডার তাই উপাধ্যক্ষের যোগদানে বাধা
Advertisement
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নন-ক্যাডার শিক্ষককে উপাধ্যক্ষ পদে পদায়নের প্রতিবাদে বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। বিসিএস ক্যাডার শিক্ষকদের বাধার মুখে পদায়ন পাওয়া অধ্যাপক মো. আবুল কালাম আজাদ সোমবারও উপাধ্যক্ষ পদে যোগদান করতে পারেননি। বৃহস্পতিবার এ কলেজে তার পদায়ন হলেও তিন কার্যদিবসে তিনি যোগদান করতে পারেননি।
তার যোগদান ঠেকাতে রোববার দিনভর কলেজের প্রশাসনিক ভবনে অবস্থান নেন অর্ধশতাধিক বিসিএস ক্যাডার শিক্ষক। এদিকে নতুন উপাধ্যক্ষের পক্ষে-বিপক্ষে ছাত্রদের দুটি পক্ষ প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়ায় দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করে। একপর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও বাগ্বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে। এর প্রভাবে সোমবারও দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করেছে ক্যাম্পাসে।
বিসিএস ক্যাডার শিক্ষকরা বলছেন, তাদের আন্দোলন কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়। বিসিএস ক্যাডার পদে নন-ক্যাডার শিক্ষক পদায়নের বিরুদ্ধে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন।
জানা যায়, রোববার সকালে অধ্যাপক আজাদ অধ্যক্ষের কার্যালয়ে আসেন। দিনের বিভিন্ন সময় তিনি প্রশাসনিক ভবনে এলেও সেখানে অবস্থান নেওয়া বিসিএস ক্যাডার শিক্ষকদের বাধার কারণে যোগদান করতে পারেননি।
দুপুরের দিকে অধ্যাপক আজাদকে আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী আখ্যা দিয়ে একদল ছাত্রদল নেতা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় অধ্যাপক আজাদের অনুসারী ছাত্রদলের অপর অংশ সেখানে গেলে দুপক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়।
ছাত্রদলের একটি সূত্রের দাবি, রোববার রাতে অধ্যাপক আজাদের বাসায় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা যান। সেখানে আড়াই লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে তাকে কলেজে যোগদান করানোর বিষয়ে সমঝোতা হয়।
বিএম কলেজের সহকারী অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম বলেন, দেশের যেকোনো কলেজ থেকে একজন বিসিএস ক্যাডার শিক্ষককে বিএম কলেজের উপাধ্যক্ষ হিসাবে পদায়ন করা যেতে পারে। কিন্তু ক্যাডারভুক্ত জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের বঞ্চিত করে নন-ক্যাডার অধ্যাপক আজাদকে আমরা মেনে নেব না। অধ্যাপক আজাদ বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা। উপাধ্যক্ষ পদে যোগদানের জন্য বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় রয়েছে। এর মধ্যে তিনি যোগদানের চেষ্টা করবেন।
বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক তাজুল ইসলাম বলেন, এ কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে অধ্যাপক আজাদের যোগদানের মেয়াদ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। তিনি আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সরকার বিসিএসের মোট পদের ১০ শতাংশ নন-ক্যাডার এবং আত্তীকরণের মাধ্যমে নিয়োগ দিতে পারে।
