Logo
Logo
×
   

Advertisement

খবর

রয়টার্সের প্রতিবেদন

ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাবের মুখে বাংলাদেশ

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

একসময় হাম নির্মূলের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া বাংলাদেশে এ বছরের মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হাম উপসর্গে এবং নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে বড় হাম প্রাদুর্ভাব চলছে বাংলাদেশে। খবর রয়টার্সের।

বুধবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ হাম প্রাদুর্ভাবের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ও বিশেষজ্ঞরা জানান, দুর্বল কর্মসূচি তদারকি, পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব এবং অন্তর্র্বর্তী সরকারের আমলে টিকা সংগ্রহের নীতিতে পরিবর্তনের কারণে টিকার সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু হাম থেকে সুরক্ষাহীন হয়ে পড়ে। তারা আরও জানান, আক্রান্ত রোগীর চাপ, হাসপাতালের অতিরিক্ত ভিড় এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা বড় ধরনের চাপে পড়েছে। এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও প্রাদুর্ভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ব্যাঘাতের পর থেকেই পরিস্থিতির অবনতি শুরু হয়। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি এবং টিকার সরবরাহ সংকট তৈরি হয়। এতে বিশেষ করে নয় মাসের কম বয়সি শিশুরা ঝুঁকিতে পড়ে। এ বয়সের শিশুরা নিয়মিত হাম টিকা নেওয়ার উপযুক্ত না হওয়ায় তাদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিইএইচও), ইউনিসেফসহ অন্য স্বাস্থ্য সংস্থাও নিয়মিত টিকাদান সূচিতে বিঘ্নের বিষয়টি তুলে ধরেছে।

রোগের প্রাদুর্ভাবের প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু। অথচ গত এক দশকে হাম নির্মূলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিল। কোভিড-১৯ মহামারির সময় কিছুটা কমে যাওয়া ছাড়া বেশির ভাগ সময় দেশে হাম টিকার আওতা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ করা ৯৫ শতাংশ বা তার বেশি ছিল।

মহামারি বিশেষজ্ঞ ও রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টিকাদানে ঘাটতির কারণে বাংলাদেশ হাম নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে এর আগে কখনো হাম আক্রান্ত এত শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানেন না। একইভাবে এক বছরে এত বিপুলসংখ্যক রোগীও দেখা যায়নি। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো-আক্রান্ত ও মৃতদের বড় একটি অংশ শিশু।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, মার্চে প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশে ১ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ হাজার ৮৩৫ জনের হাম পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে। এ প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে হাজার মৃত্যুর ঘটনা যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১০০টি মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামজনিত বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ১ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

হাম বিশ্বের সবচেয়ে সংক্রামক রোগগুলোর একটি। সাধারণত জ্বর ও শরীরে বিশেষ ধরনের ফুসকুড়ি দেখা দিলেও দুই ডোজ টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম